স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
মশাবাহিত রোগ
http://health.amardesh.com/articles/1973/1/aaaaaaaa-aaaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 11/30/2009
 
মশার কামড়ে যেসব রোগ মানুষের দেহে ছড়ায় সেগুলো হচ্ছে­ ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া। মশাবাহিত রোগ নিয়ে সম্প্রতি অনেক লেখালেখি হচ্ছে। এমনকি মৃত্যুর খবরও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ক. ম্যালেরিয়াঃ এই রোগ কয়েক ধরনের পরজীবী জীবাণু দ্বারা হয়। জীবাণু ভেদে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগীদের কেঁপে কেঁপে খুব জ্বর হয় এবং জ্বর ছাড়ার সময় অতিরিক্ত ঘাম হয়। কারো কারো বেলায় যথাসময়ে রোগ নিরূপণ ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে জটিলতার সৃষ্টি হয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। রোগ নির্ণয়ঃ এই রোগ আমাদের দেশে সনাতন পদ্ধতিতে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করে নির্ণয় করা হয়। এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ম্যালেরিয়া জীবাণু দেহে থাকা সত্ত্বেও অনেক কারণে জীবাণু পাওয়া যায় না।

মশাবাহিত রোগ

মশার কামড়ে যেসব রোগ মানুষের দেহে ছড়ায় সেগুলো হচ্ছে­ ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া। মশাবাহিত রোগ নিয়ে সম্প্রতি অনেক লেখালেখি হচ্ছে। এমনকি মৃত্যুর খবরও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ক. ম্যালেরিয়াঃ এই রোগ কয়েক ধরনের পরজীবী জীবাণু দ্বারা হয়। জীবাণু ভেদে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগীদের কেঁপে কেঁপে খুব জ্বর হয় এবং জ্বর ছাড়ার সময় অতিরিক্ত ঘাম হয়। কারো কারো বেলায় যথাসময়ে রোগ নিরূপণ ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে জটিলতার সৃষ্টি হয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
রোগ নির্ণয়ঃ এই রোগ আমাদের দেশে সনাতন পদ্ধতিতে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করে নির্ণয় করা হয়। এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ম্যালেরিয়া জীবাণু দেহে থাকা সত্ত্বেও অনেক কারণে জীবাণু পাওয়া যায় না। যেমন­

১। প্রচণ্ড জ্বরের সময় রক্ত দিতে হয়, কিন্তু রোগীরা ওই সময় সাধারণত রক্ত দেয় না।
২। রক্ত যথেষ্ট পরিমাণ জীবাণু থাকতে হয়।
৩। তা ছাড়া মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে জীবাণু চেনার জন্য দক্ষ চিকিৎসক বা প্যারামেডিক্স প্রয়োজন।
ইমিউনোলজি বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নয়ন ও চমৎকার অবদানের সাথে সাথে আধুনিক স্পট টেস্ট/আইসিটি/ইউমি নোক্রোম্যাটোগ্রাফি পদ্ধতিতে এই রোগ কয়েক মিনিটে নির্ণয় করা যায়। এই স্পট টেস্ট করার জন্য জ্বরের কোনো প্রয়োজন নেই। শহরে, গ্রামে সব স্থানেই এটা করা যায়। কোনো মাইক্রোস্কোপ বা দক্ষ চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না। মাত্র দুই ফোঁটা রক্ত আইসিটি একটি কার্ডে দিলে সাথে সাথে ম্যালেরিয়া রোগ আছে কি না জানা যাবে, এমনকি কোন ধরনের জীবাণু তাও জানা যাবে। মাঠপর্যায়ে যেকোনো স্থানে রোগীর কাছে এই পরীক্ষা করা সম্ভব।

খ) ডেঙ্গু জ্বরঃ এই রোগ এক ধরনের ভাইরাস দ্বারা হয় এবং মশার কামড়ে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। এই রোগেও জ্বর হয় এবং অন্যান্য উপসর্গে, জটিলতার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

রোগ নির্ণয়ঃ বর্তমানে এই রোগ কিছু বিশেষ ল্যাবরেটরিতে যেমন মহাখালী আইইডিসিআরে বিশেষ ইমুনোলজিক্যাল (ডেঙ্গু ব্লট) পদ্ধতিতে করা হয়। এতে প্রায় ৪ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বা স্পেশালাইজড হাসপাতাল বা প্রাইভেট ল্যাবরেটরিতে করা হয় না। ইমুনোলজি বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নয়নের সাথে সাথে ম্যালেরিয়ার মতো আধুনিক স্পট টেস্ট/আইসিটি/ইমুনোক্রোম্যাটোগ্রাফি পদ্ধতিতে এই রোগও কয়েক মিনিটে নির্ণয় করা যায়। শহরে, গ্রামে সব স্থানেই এই পরীক্ষা করা সম্ভব, সাথে সাথে ডেঙ্গু রোগ আছে কি না জানা যাবে।

গ. ফাইলেরিয়াঃ ফাইলেরিয়া একটি সংক্রামক ব্যাধি, পরজীবী জীবাণু দ্বারা হয়। মশার মাধ্যমে এই রোগটি ছড়ায়। ফাইলেরিয়া জীবাণু সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশের কয়েক বছর পর এর জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে।

রোগের লক্ষণ ও জটিলতাঃ মশার কামড়ের পর এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথম দিকে কয়েক বছর মাঝে মধ্যে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, গা চুলকানো ও শরীরে লালগুটি পড়া ইত্যাদি দেখা যায়। এরপর আস্তে আস্তে আক্রান্ত লিম্পগ্লান্ডের মাধ্যমে তরল পদার্থের সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায় এবং হাত-পা, অণ্ডকোষ, স্তন ইত্যাদি ফুলে বিকৃত হয়ে যায়। রোগী চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে পড়ে।

রোগ নির্ণয়ঃ মাইক্রোফাইলেরিয়া জীবাণুগুলো রোগীর লিম্প বা নালি হতে বের হয়ে রক্তনালীতে আসে এবং দিনের বেলায় দেহের অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঙ্গে যেমন­ কিডনি, ফুসফুস ইত্যাদিতে থাকে। রাতের অন্ধকারে জীবাণুটি দেহের উপরিভাগের ত্বক সংলগ্ন শিরা উপশিরায় আসে। তাই রাতের অন্ধকারে রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে রোগীর রক্ত সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে এই জীবাণু দক্ষ চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক শনাক্ত করতে হয়। তবে মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষায় পাওয়ার জন্য রক্তে অনেক বেশি জীবাণু থাকতে হবে। এই পদ্ধতিতে রাতের বেলায় রোগীর রক্ত সংগ্রহ করা ঝামেলা ও রোগীর সহযোগিতা পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন যাবত প্রচলিত। আবার অনেক ক্ষেত্রে জীবাণুটি রক্তে পাওয়াও যায় না।
ইমিউনোলজি বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নের সাথে সাথে আধুনিক স্পট টেস্ট/আইসিটি/ইমুনোক্রোম্যাটোগ্রাফি পদ্ধতিতে এই রোগও কয়েক মিনিটে নির্ণয় করা যায়। শহরে, গ্রামে সব স্থানেই এই টেস্ট করা যায়। মাত্র দুই ফোঁটা রক্ত আইসিটি একটি কার্ডে দিলে সাথে সাথে ফাইলেরিয়ার জীবাণু আছে কি জানা যাবে। মাঠপর্যায়ে যেকোনো স্থানে রোগীর কাছে এই পরীক্ষা করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই আইসিটি পদ্ধতিতে জীবাণুর উপস্থিতি সংক্রান্ত শতকরা ৯৮%-১০০% নিশ্চিত ফলাফল পাওয়া যায়, কিন্তু মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে এই জীবাণু ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ ধরা পড়ে।

মাঠপর্যায়ে এই পদ্ধতিতে কোনো রোগীর বেলায় সন্দেহ দেখা দিলে তখনই রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে এলাইজা, ওয়েস্টার্ন ব্লট ইত্যাদি পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিত। এ জন্য আইইডিসিআরকে দক্ষ জনশক্তি সমৃদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ রেফারেন্স ল্যাবরেটরি হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।


**************************
ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেনলেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক
মাইক্রোবায়োলজি, আইইডিসিআর, মহাখালী, ঢাকা।
 দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৫ অক্টোবর ২০০৯।