নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য মানুষ কত কিছুই না করছে। হাজার হাজার বছর আগে মিসরীয় মহিলারা বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস ব্যবহার করতেন। শুধু কসমেটিকস নয়, বিশেষ ধরনের পাথর ঘষে মুখের ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানোরও প্রমাণ পাওয়া যায়। দেহের কোথাও বিশেষ করে মুখে যখন বয়সের ছাপ পড়তে থাকে তখন অনেকেই প্লাস্টিক ও কসমেটিক সার্জনদের শরণাপন্ন হন। বয়সের ছাপ কিভাবে দূর করে আগের মতো হওয়া যায় সেই ব্যাপারে পরামর্শ দেন কসমেটিক সার্জন।

যেসব পদ্ধতি দিয়ে বয়সের ছাপ দূর করা যায়

Facelift Operation
এ মেজর অপারেশনে মুখের কুচকে যাওয়া ত্বক টানটান করে দেয়া হয়। কানের ঠিক সামনে ও নিচে ওহপরংরড়হ দিয়ে কুচকে যাওয়া ত্বক ছেটে টানটান করে বসিয়ে দেয়া হয়। অপারেশনের পর রোগীর মুখমণ্ডল বেশকিছু দিন ছোপ ছোপ দাগ ও ফুলে থাকে। এজন্য দু’থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত মুখে কমপ্রেশন ব্যান্ডেজ লাগিয়ে রাখতে হয়। এভাবে মুখের ফোলা ভাবটা ধীরে ধীরে কমে যায়। প্রায় ১ মাস পর রোগী এ অপারেশনের সুফল দেখতে পান।

Thread Facelift
প্লাস্টিক ও কসমেটিকস সার্জনরা বিনা অপারেশনেই ঋধপবষরভঃ করে থাকেন। কোনও কাটাকাটির প্রয়োজন হয় না। বিশেষ ধরনের সুতা দিতে সুঁচের মাধ্যমে ত্বকের ঠিক নিচে পরিয়ে দেয়া হয় এবং সার্জন প্রয়োজনমাফিক টেনে দিয়ে মুখে বয়সের ছাপ অতি সহজেই দূর করে দেন। রোগীকে পুরো অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় না। তবে ত্বক বেশি কুচকে গেলে Facelift Operation করিয়ে নেয়া ভালো।

Filler Injection
এর মাধ্যমে ডৎরহশষবং ভরাট করে দেয়া যায়। ভাঁজের মধ্যে ইনজেকশনের মাধ্যমে Filler gel বষ ত্বকের গভীরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের Filler gel পাওয়া যায়। যেমন-Restylene, Hylaform, Hydrogel  ইত্যাদি।

এ জেল এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যা পিউরিফাই করে মবষ আকারে বাজারজাত করা হয়। এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলে অহরহ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথম দিকে Filler injection গরু থেকে নেয়া পড়ষষধমবহ দিয়ে তৈরি করা হতো। এ জন্য মাঝে মধ্যেই অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হতো বলে এর প্রচলন বর্তমানে প্রায় উঠেই গেছে। এ পদ্ধতিতেও মুখের কুচকে যাওয়া ত্বক তাৎক্ষণিকভাবে সমান হয়ে যায়। দু’এক বছর পরপর এ ধরনের ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

Botox
এটি একটি ইনজেকশন পদ্ধতি, এর মাধ্যমে মুখের বিভিন্ন জায়গায় বলিরেখা মুছে দেয়া যায়। Botox হচ্ছে এক ধরনের ঘবঁৎড়ঃড়ীরহ, যেটা কুচকে যাওয়া ত্বকে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। এতে মুখমণ্ডলের ছোট ছোট মাংসপেশিগুলো আংশিকভাবে প্যারালাইজড হয়ে যায় এবং ত্বকের ওপর traction effect কমে যায়। ফলে মুখের ভাঁজগুলো আর দেখা যায় না। ইড়ঃড়ী Botox injection-এর কার্যকারিতা বছরখানেকের মধ্যে আস্তে আস্তে কমতে থাকে। তাই মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ মসৃণ রাখার জন্য এই injection কয়েক বছর পরপর দেয়া যায়।

Microdermabrasion
এটিও একটি ঘড়হ ঝঁৎমরপধষ পদ্ধতি। সূক্ষ্ম বলিরেখাগুলো Microderm  দিয়ে মুছে দেয়া যায়। এ পদ্ধতিতে ধারালো এক ধরনের পাউডার স্প্রে (Aluminium oxide crystals) দিয়ে ত্বকের বাইরের স্তর Stratum corneum কেটে ফেলা হয়। এর সঙ্গে হাই প্রেসার সাকশনের মাধ্যমে এর আবর্জনা ও ব্যবহৃত পাউডার সরিয়ে ফেলা হয়। যেহেতু ত্বকের ভেতরের স্তরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তাই রোগী এখানে কোনও ব্যথা অনুভব করে না। ফলে সূক্ষ্ম বলিরেখাগুলো ক্রমাম্বয়ে চলে যায়। কিন্তু Skin folds (ভারি বলিরেখা) এ পদ্ধতিতে করা যায় না। এটা উপরোল্লিখিত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমেই ঠিক করাতে হয়।

Laser
এটি একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি, যা দিয়ে মুখমণ্ডলের ত্বক মসৃণ ও টানটান করা যায়। বিশেষ ধরনের আলোকরশ্মি দিয়ে চিকিৎসা করা হয় বলে ত্বকের গভীরে যে collagen থাকে সেগুলো ভেঙে দেয়া যায়। কিছু দিনের মধ্যেই collagen গুলো নতুনভাবে গঠিত হতে থাকে, একে collagen remodeling বলে। ফলে মুখের ত্বক ক্রমাম্বয়ে মসৃণ ও টানটান হতে থাকে।

**************************
অধ্যাপক ডা· সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী
প্লাস্টিক সার্জন, কসমেটিক সার্জারি সেন্টার, ঢাকা
দৈনিক যুগান্তর, ৩১ অক্টোবর ২০০৯।