স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
রোগনির্ণয় ও চিকিৎসায় এন্ডোসকপি
http://health.amardesh.com/articles/1993/1/aaaaaaaaaa-a-aaaaaaaa-aaaaaaaaaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 11/30/2009
 
লিভার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ১৯৫২ সালে জাপানিজ একদল চিকিৎসক ওলিম্পাস কোম্পানির টেকনিক্যাল সহযোগিতায় একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন যার সাহায্যে দেহের অভ্যন্তরে সরাসরি লাইট ফেলে সব অঙ্গ নির্ভুল ও নিখুঁতভাবে দেখা যায়। এর নাম এন্ডোসকপি- শুধু রোগ নির্ণয় নয়, অনেক রোগের চিকিৎসায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে ভিডিও এন্ডোসকপি আবিষ্কৃত হয়েছে যার ফলে ছবি কয়েকগুণ বড় করে নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্ভব।

রোগনির্ণয় ও চিকিৎসায় এন্ডোসকপি

১৯৫২ সালে জাপানিজ একদল চিকিৎসক ওলিম্পাস কোম্পানির টেকনিক্যাল সহযোগিতায় একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন যার সাহায্যে দেহের অভ্যন্তরে সরাসরি লাইট ফেলে সব অঙ্গ নির্ভুল ও নিখুঁতভাবে দেখা যায়। এর নাম এন্ডোসকপি- শুধু রোগ নির্ণয় নয়, অনেক রোগের চিকিৎসায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে ভিডিও এন্ডোসকপি আবিষ্কৃত হয়েছে যার ফলে ছবি কয়েকগুণ বড় করে নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্ভব।

এন্ডোসকপি বলতে সাধারণত পরিপাকতন্ত্র বা ওে ঞৎধপঃ-এর বিভিন্ন অঙ্গ দেখাকে বোঝায়। তবে একই প্রসিডিউর দেহের বিভিন্ন অঙ্গে করলে সে অনুযায়ী নামকরণ করা হয়। যেমন মলদ্বার বা বৃহদান্ত্রে কোলনোস্কপি, কিডনি ব্লাডারের জন্য সিস্টোসকপি, জয়েন্ট স্পেসে আর্থোস্কোপি, শ্বাসনালী থেকে অ্যালভিওলাই দেখার জন্য ব্রঙ্কোসকপি ইত্যাদি। পিত্তথলির পাথর অপারেশনের জন্য ল্যাপারোস্কপি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

পরিপাকতন্ত্রে ক্যান্সার নির্ণয়ে এন্ডোসকপি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় বা প্রিমিটিভ স্টেজে এর সাহায্যে ক্যান্সার কেটে আনা যায়। এখান থেকে টিস্যু নিয়ে বায়োপসি করে ক্যান্সার নিশ্চিতভাবে নির্ণয়ের জন্য এ প্রসিডিওর করা হয়। লিভার সিরোসিস রোগীদের ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স হয় যাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, এন্ডোসকপির সাহায্যে শিরা বা ভেইন স্ফীত করে বা ব্যান্ডিং করা হয় যাতে রক্তক্ষরণ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা যায়। খড়বিৎ ওেঞ-তে এর মাধ্যমে পলিপ কেটে আনা যায় এন্ডোসকপি তথা কোলনোস্কোপির সাহায্যে কোলনের ক্যান্সার ও প্রাথমিক স্টেজে নির্ণয় সম্ভব। এটি করতে গড়ে ৩০ মিনিট সময় লাগে। আপার জিআইটি অর্থাৎ খাদ্যনালী, পাকস্থলী, ডিওডেনামে ক্ষত, আলসার, ক্যান্সার বা ফরেন বডি আছে কিনা দেখার জন্য ৫-১০ মিনিট প্রয়োজন।

তবে এক হাজারে একজনের এন্ডোসকপি করাতে গিয়ে জটিলতা হতে পারে। অসতর্কতার জন্য পাকস্থলী ফুটো হতে পারে। এখন অনেকেই সিডেসন বা ঘুম না পাড়িয়ে এন্ডোসকপি করার পক্ষপাতী। এটি না করালে রিফেলেক্সের মাধ্যমে রোগী নিজে কফ বের করে দিতে পারে। সিডেসন করালে রেসপিরেটরি ও হার্ট রেট কমে যায় বলে দেহের অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এছাড়া শ্বাসনালীতে পাচক রস গিয়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য এন্ডোসকপির আগে রোগীর সঙ্গে কাউনসিলিং একান্ত প্রয়োজন। এতে এ প্রসিডিউরের ব্যাখ্যা করা হয় এবং সম্ভাব্য ফলাফল ব্রিফিং করা হয়।

**************************
ডাঃ এম মাসিহুর রহমান
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ইনভেসিভ পরিপাকতন্ত্র
লিভার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
দৈনিক যুগান্তর, ৩১ অক্টোবর ২০০৯।