দাঁতের সমস্যা
পরামর্শ দিয়েছেন
আশরাফ হোসেন
চেয়ারম্যান, পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ, ঢাকা

সমস্যা: আমার বয়স ২৩ বছর। আমার সমস্যা হলো মুখ থেকে সব সময় দুর্গন্ধ বের হয়। আমার দুটি দাঁতে ফিলিং ও একটিতে রুট ক্যানেল করানো আছে। সেগুলো ভালোই আছে। আমি নিয়মিত প্রতিদিন সকাল ও রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করি। তবুও আমার মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। আমি কয়েক মাস আগে দাঁতের চিকিত্সককে দেখিয়েছিলাম। তিনি আমাকে পরামর্শ দিলেন, লবণ দিয়ে গড়গড়া করতে এবং দাঁত স্কান করাতে। পরামর্শ অনুযায়ী দাঁত স্কান করাই এবং লবণ দিয়ে প্রতিদিন দুই-তিনবার গড়গড়া করেছিলাম। তার পরও মুখের দুর্গন্ধ যাচ্ছে না। এ নিয়ে খুবই অস্বস্তির মধ্যে আছি। পরামর্শ দিলে খুশি হব।
মৌটুসি, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

পরামর্শ: মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার অনেক কারণ আছে। এর মধ্যে দাঁতের ফাঁকে বা গর্তের মধ্যে আটকে থাকা খাদ্যদ্রব্যের অংশবিশেষ পচে গেলে দুর্গন্ধ হতে পারে। জিহ্বার গোড়ায় যেখানে আমরা অনেকেই সাধারণত পরিষ্কার করি না, সেখানে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয় ও মুখে দুর্গন্ধ হয়। এগুলোই মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ।

তা ছাড়া নাক ও গলার রোগ, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা থেকেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। প্রথমে উল্লিখিত কারণগুলোই দুর্গন্ধ হওয়ার জন্য বেশি দায়ী। তাই দাঁতের ফাঁকে বা গোড়ায় যাতে কোনো খাদ্যকণা লেগে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। খাওয়ার পর ভালোভাবে কুলি করে মুখ পরিষ্কার করুন, ভালো নরম টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজুন।

দাঁতে আটকে থাকা খাদ্যকণা বের করার জন্য পরিষ্কার সুতা বা ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে পারেন। জিহ্বার গোড়া অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে প্রতিবার খাওয়ার পরে।
পাশাপাশি ভালো চুইংগাম মাঝেমধ্যে চিবোতে পারেন। এর সঙ্গে সম্ভব হলে মাউথ ফ্রেশনার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। নাক ও গলা এবং পেটের কোনো সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে চিকিত্সা নিন।

বাত ব্যথার সমস্যা
পরামর্শ দিয়েছেন
এ কে এম সালেক
ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

সমস্যা: আমার বয়স ২৬ বছর। মাস্টার্স শেষ করে সদ্য চাকরিতে ঢুকেছি। আমার সমস্যা হলো প্রায় তিন বছর আগে থেকে আমার হাত ও পায়ের গিরার মধ্যে ব্যথা করত। যন্ত্রণার পরিমাণ কম থাকায় কোনো চিকিত্সা করাইনি। কিন্তু সে ব্যথা বেশি হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে চিকিত্সকের পরামর্শ গ্রহণ করি। তিনি আমাকে বেশ কিছু ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন।

ওষুধগুলো আমি নিয়মিত এক মাস খেয়েছি। ওষুধ খেলে ব্যথা কম থাকে। কিন্তু বন্ধ করলেই আবার বাড়ে। এখন ব্যথাটি আমার হাত ও পায়ের প্রতিটি আঙুলের গিরা ও মাংসপেশিতে শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, আমার বাবা-মা দুজনেরই বাতের ব্যথা আছে। এখন আমি কী করতে পারি।
শাহ আলম
সাভার, ঢাকা

পরামর্শ: বাতরোগের লক্ষণগুলো প্রায় একই ধরনের। সাধারণত রোগীর কাছে তার কোনো রকম ভিন্নতা ধরা পড়ে না।
তাই এ ধরনের সমস্যার শুরুতেই বাতরোগ চিকিত্সকের তত্ত্বাবধানে থেকে নিয়মিত চিকিত্সা নেওয়া উচিত।
চিঠিতে আপনি যে ওষুধের কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো খেলে ব্যথা বা ফোলা কমবে ঠিকই, তবে পরিপূর্ণ চিকিত্সার জন্য অবশ্যই রোগের ধরন নির্ণয় হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা উপসর্গগুলো এক প্রকার বাতরোগের মতোই, যেটি নিশ্চিত হতে হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি আপনাকে ফিটনেস ব্যায়াম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, চলাফেরা, খাদ্যাভ্যাসে পরিমিত হতে হবে। আপনি বাতরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করে চিকিত্সা নিন।

**************************
প্রথম আলো, ২৫ নভেম্বর ২০০৯।