একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুব জরুরি। সারাদিন কাজ কর্মের পর মানুষের ব্রেন বিশ্রাম চায় এবং সাথে সাথে দেহও। ইনসমনিয়া শব্দটির বাংলা অর্থ অনিদ্রা। খুবই প্রচলিত হয়ে গেছে এখন এই রোগটি। খেটে খাওয়া পরিশ্রমী মানুষ অপেক্ষা একটু উচ্চবিত্ত ও কায়িক পরিশ্রমে অভ্যস্ত নন এমন মানুষের মাঝে এই রোগের প্রকোপ বেশি।


কারণঃ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাই ইনসমনিয়ার মূল কারণ। তবে ইদানীং তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। এরা প্রথম দিকে ফোনে কথা, নেট ব্রাউজিং, পড়াশোনা ইত্যাদির কারণে ঘুমের সময় পেছাতে থাকে। পরে সময়ে আর ঠিক সময়ে তাদের ঘুম আসে না। রাত ৩-৪টার দিকে তারা ঘুমাতে যায় এবং স্বভাবতই সকালে ১০-১২টার আগে উঠতে পারে না। দৈনন্দিন জীবনযাপন থেকে এসব কারণে যুব সমাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য সেবন তরুণ সমাজের ইনসমনিয়ার আরেকটি প্রধান কারণ। এ ছাড়া উচ্চরক্ত চাপ এবং কিছু কিছু রোগের কারণে মস্তিষ্কে রাসায়নিক দ্রব্যের তারতম্য ঘটলে ইনসমনিয়া হতে পারে।


লক্ষণ ও সমস্যাঃ ঘুম দেরিতে আসা, পাতলা ঘুম হওয়া, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, এমনকি দুই-তিন রাত পারপর ঘুম না হওয়া, মাথাব্যথা, অল্পতেই রেগে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে থাকা, অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তিবোধ, পড়াশোনা ও যেকোনো কাজে মনোযোগের অভাব ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় ইনসমনিয়ার রোগীদের।


চিকিৎসাঃ সঠিক চিকিৎসায় ইনসমনিয়া পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। প্রয়োজন শুধু কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ।

প্রতিদিন একই সময়ে বিছানায় যাওয়ার চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখবেন,

শোয়ার সময় যেন রাত ১২টা পার না হয়।

ঘুমানোর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। ভরা পেটে বিছানায় গেলে অস্বস্তির কারণে ঘুম নাও আসতে পারে।

রাতের খাবারে গুরুপাক খাদ্য পরিহার করুন এবং এক গ্লাস দুধ রাখার চেষ্টা করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ১৫ থেকে ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়ামই ভালো ঘুম হওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে ঘুমানোর আগে দুই ঘণ্টার মধ্যে ব্যায়াম করবেন না। দিনের ঘুম ত্যাগ করুন।

বিছানায় অযথা শুয়ে থাকবেন না। আপনার বিছানাটা শুধু ঘুমের জন্যই ব্যবহার করুন।

ঘুমানোর আগে বিছানায় শুয়ে যত দুশ্চিন্তাই আসুক ‘যো হোগা দেখা যায়েগা’ মনোভাব নিয়ে শুতে যান। আগামীকালের পরিকল্পনা বিছানায় যাওয়ার আগেই মনে মনে সেরে নিন।

ঘুমানোর আগে যৌন উত্তেজক বা ভীতিকর কিছু দেখা বা চিন্তা করা থেকে বিরত থাকুন। শোয়ার পরও যদি ঘুম না আসে তাহলে এমন কিছু ভাবুন, যা আপনার স্নায়ুকে উত্তেজিত করবে না। যেমনঃ উল্টো দিক থেকে ১০০-১ পর্যন্ত গোনা।

মাদকদ্রব্য ও ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।

অতিরিক্ত চা বা কফি এবং কোমল পানীয় পান করবেন না। ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে এসব পানীয় পান সম্পূর্ণ বাদ দিন।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

এ ছাড়া খুব ভালো কিছু ওষুধ রয়েছে ইনসমনিয়ার চিকিৎসায়। যেমনঃ ডায়াজিপাম, ব্রোমাজেপাম, ফ্লুরাজেপাম, ক্লোনাজেপাম, মিডাজোলাম, এসজপিক্লোন এবং কিছু এন্টিডিপ্রেসেন্টস ইত্যাদি। তবে এসব ওষুধ কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিত নয়।


************************
লেখকঃ  ডা. এস আর ভূঁইয়া
চেম্বারঃ আয়ুব ক্লিনিক, ৪৬-৪৭ জনসন রোড, ঢাকা।
দৈনিক নয়াদিগন্ত, ৩০শে ডিসেম্বর ২০০৭