স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় : হাসি খুশি মন
http://health.amardesh.com/articles/2255/1/aaaaaaaa-aaaaa-aaaa--aaaa-aaaa-aa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/7/2010
 
মুখ ভার করে থাকার চেয়ে হাসিখুশি থাকুন। হৃদরোগের ভয় বেশ কমে যাবে। হৃদযন্ত্রের সঙ্গে আবেগের এমনই সম্পর্ক নিয়ে এটিই প্রথম পর্যবেক্ষণ বলে সম্প্রতি দাবি করে বিজ্ঞানীরা।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় : হাসি খুশি মন
মুখ ভার করে থাকার চেয়ে হাসিখুশি থাকুন। হৃদরোগের ভয় বেশ কমে যাবে। হৃদযন্ত্রের সঙ্গে আবেগের এমনই সম্পর্ক নিয়ে এটিই প্রথম পর্যবেক্ষণ বলে সম্প্রতি দাবি করে বিজ্ঞানীরা।

‘ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল’-এ প্রকাশিত নিবন্ধে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের কারিনা ডেভিডসন লিখেছেন, এ বিষয়ে এখন নিবিঢ়ভাবে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হবে। এর মাধ্যমে যদি আমাদের পর্যবেক্ষণ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে আমাদের বিশেষভাবে নির্ধারণ করতে হবে যে, পরিস্থিতি উন্নয়নে রোগী কিংবা চিকিত্সকের জন্য কী করণীয়।

ডেভিডসন এবং তাঁর গবেষক দলের সদস্যরা দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কানাডার একটি স্বাস্থ্য সমীক্ষা কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৩৯ জন নারী-পুরুষের ওপর এ বিষয়ে গবেষণা চালান। এসময় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা হৃদরোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির ওপর হতাশা, শত্রুতা, উত্তেজনার মতো নেতিবাচক আবেগ এবং সুখ, আনন্দ, উল্লাস, আগ্রহ এবং পরিতৃপ্তির মতো ইতিবাচক আবেগ-অনুভূতির প্রভাব বিশেষভাবে নিরূপণ করতেন।

প্রত্যেক সূচকে ২২ শতাংশ ঝুঁকি হ্রাস
গবেষকরা এসব ইতিবাচক আবেগ-অনুভূতিগুলোকে শূন্য থেকে পাঁচ পর্যন্ত সূচকে চিহ্নিত করেছিলেন। তারা লক্ষ্য করেছেন যে, প্রত্যেক সূচকের জন্য হৃদরোগের ঝুঁকি ২২ শতাংশ হারে কমে গেছে। গবেষক দলের প্রধান ডেভিডসন জানান, তার গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইতিবাচক আবেগ-অনুভূতিগুলো বৃদ্ধির মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। তিনি লিখেছেন, যাদের আদৌ ইতিবাচক প্রভাবক তথা আবেগ নেই তারা অল্প ইতিবাচক আবেগসম্পন্ন ব্যক্তিদের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং দ্বিতীয় সারির ব্যক্তিরা মধ্যম মাত্রার ইতিবাচক আবেগসম্পন্ন ব্যক্তিদের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।

হৃদরোগের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তা এবং আয়ের সম্পর্ক
এতদিন ধরে ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, বংশগত ধারাবাহিকতা এবং উচ্চ রক্তচাপকে হৃদরোগের জন্য প্রধানত দায়ী করা হতো। কিন্তু এ গবেষণায় বুদ্ধিমত্তা এবং আয়ের পরিমাণের সঙ্গেও হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে হৃদরোগের জন্য ধূমপানের পরেই প্রভাবক হিসেবে বুদ্ধিমত্তার স্থান বলে দেখা গেছে। ডেভিডসন এবং তার সহযোগী গবেষকরা মনে করছেন, হাসি-খুশি ব্যক্তিরা বেশি সময় ধরে বিশ্রাম নিতে পারে বলেই সম্ভবত তারা দ্রুত যে কোনো কষ্টকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারে, যা হৃদরোগ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

ব্রিটিশ গবেষকদেরও একই মত
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনও এ গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে জানিয়েছে, তারাও এ ধরনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ইউরোপ এবং আমেরিকাসহ বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোতে সর্বাধিক নারী-পুরুষের মৃত্যুর জন্য হৃদরোগ দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে সারা বিশ্বে ৩২ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের কারণে।


**************************
আতাউর রহমান কাবুল
সূত্র : ইন্টারনেট
দৈনিক আমার দেশ, ০২ র্মাচ ২০১০।