সিসা শিশুদের কিডনির জন্য খুবই ক্ষতিকর। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টিনএজারদের রক্তে দেখা যায় এর সামান্য পরিমাণও তাদের কিডনির ক্ষতিসাধন করতে পারে। পরবর্তী জীবনে তারা কিডনি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন গবেষকরা একথা জানিয়েছেন। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, সামান্য পরিমাণ সিসাও স্বাস্থ্যবান শিশুদের কিডনি ফাংকশনে প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ড. জেফরি ফাদরোবস্কি একথা বলেন। তিনি এ সমীক্ষাটির নেতৃত্ব দেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যদিও সিসার সূত্র ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হয়েছে, তথাপি এ পদার্থটি কিছু মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধন করতে পারে। ইন্টারনাল মেডিসিনের আর্কাইভে ফাদরোবস্কির টিম এ তথ্য জানায়। বারো থেকে কুড়ি বছর বয়সী সাতশ’ ঊনসত্তর জন শিশুর ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার ফলাফল থেকে জানা গেছে, যাদের রক্তে বেশি সিসা রয়েছে তাদের কিডনি ফাংকশন হয় ধীরে। ওইসব শিশুর বয়স যখন বাড়ে এবং তাদের যদি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকে তাহলে তাদের কিডনির ফাংকশন হয় আরও ধীরে। জন্স হপকিন্স শিশুকেন্দ্রের ড. সুজান ফুর্থ একথা বলেন। তিনি এ গবেষণাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, টিনএজারদের রক্তে সিসার পরিমাণ যদি প্রতি ডেসিলিটারে এক দশমিক পাঁচ মাইক্রোগ্রাম থাকে তাহলে সেটাকে নিরাপদ বলে গণ্য করা হয়। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধবিষয়ক একটি মার্কিন কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে। এ কেন্দ্রের মতে, কোনো শিশুর রক্তে যদি প্রতি ডেসিলিটারে দশ মাইক্রোগ্রাম সিসা থাকে তাহলে তা সত্যিই উদ্বেগজনক। কোনো তরুণ-তরুণীর রক্তে যদি সিসার পরিমাণ দুই দশমিক নয় শতাংশের বেশি হয়, তাহলে তাদের কিডনির ফাংকশন হয় ধীরে। দেখা গেছে, এরা হলো দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়ে এবং এরা তেমন শিক্ষিত নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিক ক্রনিক কিডনি রোগে ভুগছে। এটা আরও খারাপ আকার ধারণ করতে পারে, যদি তাদের উচ্চ রক্তচাপ থাকে। তাই শিশুদের রক্তে সিসার পরিমাণ এবং তাদের কিডনি ফাংকশনের ওপর নজরদারি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

**************************
দৈনিক আমার দেশ, ১৬ র্মাচ ২০১০।