স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
কাশির সঙ্গে রক্ত গেলেই যক্ষ্মা নয়
http://health.amardesh.com/articles/2273/1/aaaaa-aaaaa-aaaa-aaaaa-aaaaaaa-aa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/7/2010
 
তিন সপ্তাহের বেশি কাশি বা দু’সপ্তাহের বেশি জ্বর চলতে থাকলে যক্ষ্মার কথা সন্দেহ করা উচিত, যদি অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না দেয়। আর এই সন্দেহ খুবই প্রয়োজন; কারণ এই সন্দেহই চিকিত্সককে দেবে রোগ নির্ণয়ের সঠিক ঠিকানা। ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে কাশির সঙ্গে রক্ত যায় এটা যেমন ঠিক, তেমনি আবার যক্ষ্মা ছাড়া ফুসফুসের অন্যান্য রোগেও কাশির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে, যেমন— ব্রংকিএকেটসিস, ফুসফুসের ফোড়া, ফুসফুসের ক্যান্সার, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।

কাশির সঙ্গে রক্ত গেলেই যক্ষ্মা নয়
তিন সপ্তাহের বেশি কাশি বা দু’সপ্তাহের বেশি জ্বর চলতে থাকলে যক্ষ্মার কথা সন্দেহ করা উচিত, যদি অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না দেয়। আর এই সন্দেহ খুবই প্রয়োজন; কারণ এই সন্দেহই চিকিত্সককে দেবে রোগ নির্ণয়ের সঠিক ঠিকানা। ফুসফুসে যক্ষ্মা হলে কাশির সঙ্গে রক্ত যায় এটা যেমন ঠিক, তেমনি আবার যক্ষ্মা ছাড়া ফুসফুসের অন্যান্য রোগেও কাশির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে, যেমন— ব্রংকিএকেটসিস, ফুসফুসের ফোড়া, ফুসফুসের ক্যান্সার, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।
ফুসফুস ছাড়াও কিছু হৃদরোগ আছে, যেমন—মাইট্রাল ভাল্ব সরু হয়ে গেলেও কাশির সঙ্গে রক্তপাত হতে পারে। এই ক’টি প্রধান কারণ ছাড়াও অনেক কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে যেহেতু বাংলাদেশে যক্ষ্মা একটি অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা, তাই যক্ষ্মার ব্যাপারে সন্দেহ করা চিকিত্সকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ব্রংকিএকেটসিস ফুসফুসের শ্বাসনালীর একটি রোগ। ব্রংকাইটিস নামের সঙ্গে কমবেশি আমরা অনেকেই পরিচিত, যদিও ব্রংকিএকেটসিস নামটা একটু জটিল হওয়ায় এই রোগটির নাম অনেকেই শোনেননি। ব্রংকিএকেটসিস হলে ফুসফুসের বিশেষ অংশের শ্বাসনালীর অভ্যন্তরীণ কাঠামো নষ্ট হয়ে স্বাভাবিক আকৃতির চেয়ে বেশি ফুলে ওঠে। তার ফলে সেগুলো আর কার্যক্ষম থাকে না। এই রোগের অনেক কারণ রয়েছে, যেমন—ছোটবেলায় হুপিং কাশি, নিউমোনিয়া এবং হাম বা যক্ষ্মা হলে সেগুলো যদি সঠিকভাবে চিকিত্সা করা না হয়, তাহলে তার জটিলতায় এই ব্রংকিএকেটসিস দেখা দিতে পারে। অনেকেই হামকে মামুলি রোগ মনে করে গুরুত্ব দেন না, বরং অপচিকিত্সা করিয়ে থাকেন। হাম, নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি দেখা দিলে তার সুষ্ঠু, সুন্দর এবং বৈজ্ঞানিক চিকিত্সার প্রয়োজন। এই রোগ দেখা দিলে রোগীর কাশির সঙ্গে প্রচুর রক্তপাত হতে পারে এবং সেইসঙ্গে জ্বর ও প্রচুর দুর্গন্ধযুক্ত হলুদ পাকা কফ থাকতে পারে, যা কিনা সকালে বেশি দেখা যায়। আপাতদৃষ্টিতে লক্ষণগুলো যক্ষ্মার মতোই হয়ে থাকে। ব্রংকোগ্রাম করে এই রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। একজন যক্ষ্মা রোগী পূর্ণ চিকিত্সা গ্রহণ করার পরও তার কাশির সঙ্গে কিছু রক্ত যেতে পারে। কারণ যক্ষ্মার ক্ষত সেরে যাওয়ার পর সেখানে ব্রংকিএকেটসিস তৈরি হতে পারে। কফে রক্ত যাওয়ার ফলে আমাদের দেশে প্রচুর রোগী এ কারণে মাসের পর মাস যক্ষ্মা রোগের ওষুধ খেয়ে চলেছেন, অথচ যার হয়তো কোনো প্রয়োজন ছিল না। এছাড়া ফুসফুসে ফোড়া দেখা দিলেও রোগীর জ্বর থাকে, পাকা হলুদ কফ এবং কফের সঙ্গে রক্ত দেখা দেয়। সেক্ষেত্রেও রোগীকে অনেক সময় যক্ষ্মা রোগের ওষুধ খাওয়ানো হয় যক্ষ্মা ভেবে। যদিও আমার কাছে কোনো জরিপ নেই, তবু একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, আমাদের দেশে প্রচুর রোগী অনেকটা অকারণে শুধু কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়ার জন্যই যক্ষ্মা রোগের ওষুধ খাচ্ছেন।

যদিও যক্ষ্মা এবং ক্যান্সার রোগীর উভয়ের কাশির সঙ্গে রক্ত যায়, তবু রক্ত যাওয়ার মধ্যে এই দু’রোগে কিছু পার্থক্য রয়েছে। একজন যক্ষ্মা রোগীর কাশির সঙ্গে হঠাত্ প্রচুর রক্ত যায়, অপরদিকে ফুসফুসের ক্যান্সারে কাশির সঙ্গে ছিঁড়ে ছিঁড়ে এবং অল্প অল্প রক্ত যায়। ক্যান্সারের রোগীর প্রচুর পরিমাণে ধূমপানের ইতিহাস থাকে। অর্থাত্ ধূমপানের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। তবে যক্ষ্মার সঙ্গে ধূমপানের প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই বলে আমার বিশ্বাস। কফের সঙ্গে রক্ত যাওয়া প্রতিটি রোগীরই কমপক্ষে তিনটি কফ পরীক্ষা করে দেখে নিতে হবে এবং তাতে যক্ষ্মা জীবাণু আছে কিনা দেখতে হবে, কারণ যদি কফে যক্ষ্মা জীবাণু ধরা পড়ে, তাহলে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ে এটাই সর্বোত্তম প্রমাণ।

একজন বয়স্ক ব্যক্তি যদি বেশ কিছুদিন ধরে কাশতে থাকেন, বুকে তার তীব্র ব্যথা থাকে, স্বর বসে যায় এবং কফের সঙ্গে ছিঁড়ে ছিঁড়ে রক্ত যায়, তবে মুহূর্তমাত্র দেরি না করে একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কারণ এগুলো হলো ক্যান্সারের উপসর্গ। চিকিত্সক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এমনকি ব্রংকোসকোপির মাধ্যমে নির্ণয় করবেন সত্যিই রোগী ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছেন কিনা, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও রক্ত যাওয়ার কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

হৃদযন্ত্রের মাইট্রাল ভাল্ব সরু হয়ে গেলে, যাকে আমরা মাইট্রাল ভাল্ব স্টেনোসিস বলি, তখনও কাশির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। এছাড়া নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিসসহ অনেক রোগেও কাশির সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। তাই কাশির সঙ্গে রক্ত গেলেই তাত্ক্ষণিকভাবে মনে করে নেয়া ঠিক হবে না যে, রোগী যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বরং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এই রক্ত যাওয়ার কারণ, অর্থাত্ প্রকৃত রোগ শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিত্সক দিয়ে চিকিত্সা করাতে হবে।


**************************
ডাঃ ইকবাল হাসান মাহমুদ
লেখক : বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ
দৈনিক আমার দেশ, ২৩ র্মাচ ২০১০।