কেস স্টাডি
আমরিনের বয়স দেড় বছর। খুব হাসি-খুশি ও চঞ্চল। গত দুই দিন ধরে তার শরীরটা ভালো নেই। সর্দি, কাশি ও জ্বরে কাবু হয়ে পড়েছে। বাব-মা ভাবলেন, ভাইরাসজনিত সাধারণ জ্বর, এমনিতেই সেরে উঠবে। আজ জ্বরের প্রকোপ আরও বেড়েছে। জ্বর ১০২০ ঋ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আমরিন যেন কেমন করতে লাগল, জ্ঞান হারিয়ে ফেলল, হঠাত্ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, দাঁত-চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, হাত-পা বাঁকা হয়ে যেতে লাগল, সারা শরীর কাঁপতে লাগল। আমরিনের বাবা-মা এ অবস্থা দেখে অত্যন্ত ঘাবড়ে গেলেন। আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ডাক্তারের কাছে ছুটে গেলেন । আমরিনের এই লক্ষণটাই হলো ‘জ্বরের কারণে খিঁচুনি’। যাকে ঋবনত্রধষ ঈড়হাঁষংরড়হ বলা হয়ে থাকে।

জ্বরের কারণে খিঁচুনি সম্পর্কে কিছু তথ্য
— সাধারণত ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী বাচ্চাদের এটি হয়ে থাকে।
— মেয়ে শিশুদের তুলনায় ছেলে শিশুদের এটি বেশি হয়ে থাকে।
— সাধারণত পারিবারিক ইতিহাস (Family history) থাকে ।
— খিঁচুনি সমস্ত শরীরব্যাপী (Generalised) হয়ে থাকে। শরীরের শুধু বিশেষ কোনো অংশে আদালাভাবে হয় না।
— জ্বর > ১০২০ F-এর উপর গেলেই এই খিঁচুনি হয়ে থাকে।
— এই খিঁচুনি অল্প সময় স্থায়ী হয়, সাধারণত ২০ মিনিটের কম স্থায়ী হয়।
— এই খিঁচুনি সাধারণত দিনে একবার (অর্থাত্ জ্বর > ১০২০ থাকলেও ২৪ ঘণ্টায় একবার) হয়।
— এই খিঁচুনির জন্য শরীর বা স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয় না।

কী করবেন
সব বাবা-মাই ‘জ্বরের কারণে খিঁচুনি’তে আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মনে রাখবেন, এটি শিশুদের কোনো বিশেষ রোগ নয়। জ্বরের কারণে শিশুর শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। তাই আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত জ্বর কমাতে নিচের ব্যবস্থাগুলো নিন :
— শিশুর শরীর থেকে সব জমা-কাপড় খুলে ফেলুন।
— ভেজানো তোয়ালে/গামছা দিয়ে সারা শরীর বার বার মুছতে থাকুন।
— এই সময়ে ফুল স্পিডে ফ্যান চালিয়ে শিশুকে ফ্যানের বাতাসে রাখা যেতে পারে।
— দেরি না করে জ্বরের সিরাপ খাওয়ান অথবা মলদ্বারে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি ব্যবহার করুন।
— দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিন ।
— প্রয়োজনে কাছের হাসপাতাল, ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।


*************************
ডা. একেএম শাহিদুর রহমান
লেখক : মেডিকেল অফিসার
কিডনি রোগ বিভাগ, বিএসএমএমইউ, শাহবাগ, ঢাকা
shahidurahman80@yahoo.com
দৈনিক আমার দেশ, ২৭ এপ্রিল ২০১০।