স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
বিশেষজ্ঞের চেম্বার থেকে
http://health.amardesh.com/articles/2320/1/aaaaaaaaaa-aaaaaaa-aaaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/7/2010
 
নাক, কান ও গলার সমস্যা কিডনি সমস্যা

বিশেষজ্ঞের চেম্বার থেকে

আগের সংবাদ নাক, কান ও গলার সমস্যা
পরামর্শ দিয়েছেন
আবুল হাসনাত জোয়ারদার
নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

সমস্যা:
আমি সুমন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি। অনেক দিন ধরে আমি কানের সমস্যায় ভুগছিলাম । বেশ কিছুদিন আগে ঢাকার একটি হাসপাতালে নাক, কান ও গলা বিভাগে যাই এবং সংশ্লিষ্ট ডাক্তার আমাকে অপারেশন এর কথা বলেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তখন আমি ডান কানের স্টেপিস অপারেশন করাই। আমার প্রধান সমস্যা ছিল, কানে কম শোনা ও সারাক্ষণ কানের ভেতর শোঁ-শোঁ আওয়াজ করা। অপারেশনের পর কানে ভালো শুনতে পেলেও আওয়াজটা রয়ে যায়। সাড়ে তিন মাস পর থেকে ডান কানে আর কিছুই শুনতে পাই না। কানের আওয়াজও ক্রমে ক্রমে বেড়ে চলেছে। আমার প্রশ্ন, হিয়ারিং এইড ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা সম্ভব কি না। কানে শব্দ কমানোর জন্য সেরিভাস বড়ি খাওয়ার পরও শব্দ যাচ্ছে না। শব্দ কমানোর করণীয় কী?
সুমন, বয়স-২৪, চট্টগ্রাম

পরামর্শ:
ধন্যবাদ আপনাকে । আপনার সমস্যার বিবরণ শুনে মনে হচ্ছে, আপনি অটোস্কেলোরোসিস রোগে ভুগছেন। এই রোগে সাধারণত হিয়ারিং এইড ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয় অথবা কখনো কখনো স্টেপিস সার্জারি করতে হয়, যা আপনার ক্ষেত্রে করা হয়েছে। এ ধরনের সার্জারিতে সাধারণত ৮৫ ভাগ রোগীরই শ্রবণে উন্নতি হয় এবং কানের ভোঁ ভোঁ শব্দ চলে যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এই ভোঁ ভোঁ শব্দ রয়ে যেতে পারে, যা আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে। আপনার বর্তমান অবস্থায় যে কানে অপারেশন হয়নি সেই কানে হিয়ারিং এইড ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আর যে কানে অপারেশন হয়েছে সেই কানে একটি ট্রিনিটাস মাস্কার ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া ওপোফ্লোর বড়ি ব্যবহার করতে পারেন। এতে অনেক রোগী উপকৃত হয়। তার পরও যদি সমস্যা থাকে তাহলে কর্ণরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ভালো হয়ে যাবেন আশা করছি।

কিডনি সমস্যা
পরামর্শ দিয়েছেন
কাজী রফিকুলআবেদীন
সহকারী অধ্যাপক (ইউরোলজি), ইউরোলজিস্ট অ্যান্ড এন্ড্রোলজিস্ট
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি, ঢাকা।

সমস্যা:
আমার বয়স ৩৭ বছর। ২০০৪ সালে আমার বাঁ কিডনিতে প্রথম পাথর ধরা পড়ে এবং সে বছরই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা বের করা হয়। এরপর আবারও ২০০৭ সালে একই কিডনিতে পাথর ধরা পড়ে এবং ল্যাপারোস্কোপিকের মাধ্যমে তা বের করা হয়।
সম্প্রতি আবারও বাঁ কিডনিতে নয় মিলিমিটার সাইজের পাথর দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কিডনি ও প্রস্রাবের থলিতে অন্য কোনো সমস্যা নেই। কিছুদিন আগে ‘স্বাস্থ্যকুশল বিভাগে’ চিকিৎসক এম এ সামাদের নিবন্ধ থেকে জানতে পারলাম, ওষুধের মাধ্যমে কিডনি থেকে প্রস্রাবের সঙ্গে পাথর বের করা সম্ভব। যদি ওষুধের মাধ্যমে আমার কিডনির পাথর বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে কী ধরনের ওষুধ, কী মাত্রায় সেবন করব—তা জানালে উপকৃত হবো।
পারভীন আহমেদ
মৌলভীবাজার।

পরামর্শ:
আপনি সম্ভবত কিডনিতে পাথরজনিত রোগে ভুগছেন। যাঁদের বারবার কিডনিতে পাথর হয়, তাঁদের কিডনিতে গঠনগত ত্রুটি আছে কি না, শরীরে কোনো মেটাবলিক সমস্যা আছে কি না এবং প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির হরমোনের কোনো তারতম্য আছে কি না তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ওষুধের মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে কিডনির পাথর বের করা যায় কি না আপনি জানতে চেয়েছেন। সত্যিকার অর্থে সিংহভাগ ক্ষেত্রে এটি সম্ভব নয়। তবে ওষুধের মাধ্যমে পাথরের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। আর যদি পাথরের আকার ছয় মিলিমিটারের কম হয়, আর যদি মূত্রতন্ত্রের কোনো গঠনগত ত্রুটি না থাকে, তাহলে পাথর আপনা-আপনি বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ। আপনি আপনার ইউরোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান পাথর ও এর পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

*************************
দৈনিক প্রথম আলো, ২৮ এপ্রিল ২০১০।