আজকাল তরুণ থেকে বয়স্ক লোক পর্যন্ত কারণে-অকারণে উত্তেজক ওষুধ সেবন করেন। এমনকি উত্তেজক ওষুধ সেবনকারীদের একটি বড় অংশ অবিবাহিত তরুণ, ছাত্র, যুবক। ওষুধের দোকানে চাইলেই এসব মারাত্মক ক্ষতিকর ওষুধ পাওয়া যায়। কোন প্রকার ব্যবস্থাপত্র লাগে না। ফলে হাজার হাজার পুরুষ অযথা এসব ওষুধের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হচ্ছেন। কেবলমাত্র যাদের শারীরিক সমস্যা আছে তারাই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ ধরনের ওষুধ সেবন করতে পারেন। উত্তেজক ওষুধের সহজপ্রাপ্যতার কারণে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধের মারাত্মক অপব্যবহার হচ্ছে। ফলে তরুণদের স্বাভাবিক শারীরিক ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। এসব কারণে একেবারে নবাগতদের দাম্পত্য জীবনও হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। তরুণদের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে বিবাহ-ভীতি। তাই কোন অবস্থাতেই তরুণদের কোন ধরণের উত্তেজক ওষুধ সেবন বাঞ্ছনীয় হতে পারে না। তবে যাদের বয়স ৫০ এর বেশী, শারীরিক সমস্যা রয়েছে এমন পুরুষ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধটি নির্দেশিকা অনুযায়ী সেবন করতে পারেন। আর যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, বুকে ব্যথা সহ অন্যান্য হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত উত্তেজক ওষুধ খাবেন না। এছাড়া বাজারে হারবাল টনিক ও হার্বাল শক্তি বর্ধকের নামে যেসব ওষুধ অবাধে নিয়ন্ত্রনহীন ভাবে বিক্রয় হচ্ছে তাও অত্য- ক্ষতিকর। এসব ওষুধের চেয়ে মনের জোর বাড়ানো ও নিয়মিত ব্যায়াম করা ফলদায়ক।

**************************
ডাঃ মোড়ল নজরুল ইসলাম
চর্ম, এলার্জি ও যৌন সমস্যা বিশেষজ্ঞ এবং লেজার এন্ড কসমেটিক সার্জন।
সহকারী অধ্যাপক, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।
দৈনিক ইত্তেফাক,  ১৭ এপ্রিল ২০১০।