শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই ধূমপানের সর্বগ্রাসী থাবা যেখানে আঘাত হানে না। ধূমপানের পক্ষে একটি মাত্র যুক্তিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রধান যে অসুবিধাগুলো এ বিষপানে হয় তা হলো­ ১. ব্রেন অ্যাটাক বা স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস, ২. রেটিনার রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ায় অন্ধত্ব, ৩. বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার যেমন­ মুখগহ্বর, গলা, ফুসফুস প্রভৃতির ক্যান্সার, ৪. হার্ট অ্যাটাক, ৫. গ্যাস্ট্রিক আলসার, ৬. উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডে সাত হাজার ব্যক্তির কিডনির ওপর ধূমপানের প্রভাব বিষয়ে গবেষণা হয়। এতে প্রতীয়মান হয় ধূমপায়ীদের শরীরে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ অনেক বেশি। ধূমপায়ীদের প্রস্রাবে অ্যালবুমিনও গুরুত্বপূর্ণ মাত্রায় পাওয়া গেছে। এ দু’টিই কিডনি ধ্বংসের প্রাথমিক লক্ষণ। ওই গবেষণায় এ-ও প্রমাণিত হয়েছে, ডায়াবেটিক রোগীরা ধূমপান করলে দ্রুত মাইক্রো অ্যালবুমিনো ইউরিয়া দেখা দেয়। আর এর পরিণতি কিডনি ফেইলিউর। তখন একমাত্র চিকিৎসা ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন। অবশ্য ধূমপান বন্ধ করলে দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কিডনির অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আজই ধূমপান বন্ধ করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

**************************
ডাঃ লুবনা শারমিন দৈনিক নয়াদিগন্ত, ৭ র্মাচ ২০১০।