দাঁতের ব্যথায় আক্রান্ত হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া গেলেও এর সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা, ব্যথার কারণে ঘুম-কাজ কোনোটাই হচ্ছে না। আবার তার সঙ্গে রয়েছে মাথা ব্যথা-সবকিছু নিয়ে দাঁতে ব্যথার যে চিত্র আমাদের চোখে পড়ে তা আসলেই ভয়াবহ। আসুন, আজকে আমরা জেনে নিই কী কী কারণে দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে। আর দাঁতের ব্যথায় আমাদের করণীয়ই বা কী?

দাঁতের ব্যথা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই একটা ভুল ধারণা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আপত্তিকর কুসংস্কারটি হচ্ছে দাঁত পোকায় খাওয়া বা পোকা লাগা। এটি এ কারণে আপত্তিকর যে, দাঁতে কোনো ধরনের পোকা থাকে না। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। আর তাই বেদে-বেদেনীদের দ্বারা দাঁতের তথাকথিত চিকিৎসায় আমাদের নিশ্চিত কোনো মুক্তি মেলে না। বরং এতে আমরা দাঁতের অকাল মৃত্যুকেই ডেকে আনি।

বিভিন্ন কারণে দাঁতে ব্যথা হতে পারে। এর মধ্যে প্রথম কারণটি হলো, দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে গিয়ে দাঁতের ভেতর যে স্নায়ুর সংযোগ থাকে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। ফলে একপর্যায়ে দাঁতে ব্যথা হয়। মনে রাখবেন, দাঁত বা মাঢ়ির যে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতার কারণে দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে। যদি আমাদের দাঁতে স্হাপিত কোনো ফিলিং ক্রাউন অর্থাৎ ক্যাপ হঠাৎ করে পড়ে যায় কিংবা নষ্ট হয়ে যায়, তবে দাঁতের ভেতরের অংশের নার্ভ বা স্নায়ু উন্মুক্ত হয়ে যায়।

এ অবস্হায় দাঁতে অকল্পনীয় ব্যথা হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে গরম কিংবা ঠান্ডা পানি, এমনকি বাতাসের সংস্পর্শে দাঁতের ব্যথা বেড়ে যায়। কারণ সেলুলোজ জাতীয় আঁশযুক্ত খাবার খুব সহজে দাঁতের ফাঁকে ও মাঢ়িতে আটকে যায়। দীর্ঘ সময় খাবার আটকে থাকার ফলে মাঢ়ি ও দাঁত দুটোই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আর তখনই দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা অনুভুত হয়।
দাঁতে এভাবে খাদ্যকণা আটকে যাওয়ায় সৃষ্ট পরিস্হিতিকে ডেন্টাল সার্জনরা ডেংব্রিজ লস বলে থাকেন। দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হলে প্রথমেই আপনাকে একজন ডেন্টাল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে আপনার দাঁতের ব্যথা তো আর থেমে থাকবে না। তাই ব্যথা কমানোর জন্য আপনি শুধু নিয়ম পালন করতে পারেন। দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা কমানোর জন্য আপনি আইব্রুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। এতে অনেক সময় দাঁতের ব্যথা সেরে যেতে পারে।

দাঁতের ব্যথা সাময়িকভাবে কমানো কোনো চিকিৎসা নয়, আপনি যদি দাঁতের সার্বিক সুস্হতা চান, পরবর্তী সময়ে দাঁতের ব্যথার আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকতে চান তবে আপনাকে ডেন্টাল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। একজন অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসকই আপনার দাঁতের সমস্যার সমাধানে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

*************************
লেখকঃ  ডা. আওরঙ্গজেব আরু
ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন
দৈনিক আমারদেশ পত্রিকায় ১৭ নভেম্বর ২০০৭ এ প্রকাশিত