লেসার হলো আলোর উচ্চ ঘনীভুত এবং তীব্র তপ্তরশ্মি, যা একটি বড় কলমাকৃতি নমনীয় ডিভাইসের মধ্য দিয়ে নিক্ষেপ করা হয়।

এই রশ্মি শরীরের অগম্য অংশগুলো ভেদ করে যেতে পারে। ফলে রক্তবাহী নালীকে অক্ষত রেখে সম্পুর্ণ নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা সম্ভব। স্ত্রীরোগের সমস্যায় লেসার ব্যবহারকারী আমেরিকার প্রথম সার্জন ডা. জোসেফ এইচ বেলিয়া লেসার সার্জারি সম্পর্কে বলেন, ‘এর সুবিধা বহু। আক্রান্ত অঙ্গগুলো ফেলে না দিয়েই মেরামত করা যেতে পারে। রশ্মির প্রভাবে সংযুক্ত ক্ষুদ্র টিস্যু ধ্বংস হয় বটে কিন্তু বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সম্পুর্ণ স্বাভাবিকভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।’ লেসার সার্জারিতে শরীরে রক্তক্ষয়ের পরিমাণ সামান্যই। ইনফেকশনের ঝুঁকিও নেই বললে চলে। দেখা গেছে, এই পদ্ধতির ফলে রোগমুক্তির পরে রোগীর স্বাস্হ্যের ক্রমোন্নতি এক সপ্তাহেই ঘটে। এ পর্যন্ত চার ধরনের লেসার আবিষ্কৃত হয়েছেঃ এক. কার্বন-ডাই-অক্সাইড লেসার; দুই. আরগন লেসার; তিন. এনডিইয়াগ লেসার ও চার. কেটিপি লেসার। কোন লেসারটি ব্যবহার করা হবে তা নির্ভর করে অপারেশনের ক্ষেত্রের ওপর। কারণ উপরোক্ত চারটি লেসার একরকম নয়। এর প্রতিটিরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য।

চিকিৎসাক্ষেত্রে লেসারের ব্যবহার
কিডনির পাথরঃ কিডনির পাথর অপারেশন বড় অপারেশনগুলোর একটি। কিডনিতে পাথর হলে অপারেশন ছাড়া মুক্তি নেই। কিন্তু পেট কেটে কিডনির পাথর অপারেশনের চেয়ে লেসার রশ্মি দিয়ে তাকে মুক্ত করাই শ্রেয় নয় কি? লেসার সার্জারি যেহেতু একটি নতুন পদ্ধতি এবং ব্যাপক একটা কাজ ঘটে যায় স্বল্প সময়ের মধ্যে, তাই এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ লেসার সার্জনের কাছেই যাওয়া উচিত। কেননা আপনি যদি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে অনভিজ্ঞ সার্জনের কাছে যান, তার ছোট্ট ভুলে হয়তো ফুটো হয়ে যেতে পারে আপনার অন্য অঙ্গ। ঘটতে পারে অধিক রক্তপাত কিংবা ধ্বংস হতে পারে মুল্যবান টিস্যু।

পিত্তথলির পাথরঃ পিত্তথলিতে পাথর হলে অবশ্যই তার অপারেশন করাতে হবে। নতুবা পিত্তথলিতে একসময় ক্যাসার হয়ে যায়। পিত্তথলির অপারেশনে পেট কাটতে হয় অনেকখানি। রোগীকে বিছানায় কাটাতে হয় বেশ কিছুদিন। তারপরও অন্তত তিন মাস কোনো ভারি কাজ করতে পারে না রোগী। তার চেয়ে লেসার সার্জারিই উত্তম নয় কি?

তবে পিত্তথলির পাথর অপসারণে লেসার সার্জারির চেয়ে ল্যাপারোস্কপিক সার্জারিই অধিক উত্তম। কেননা ল্যাপারোস্কপিক সার্জারিতে পাথরসহ পুরো পিত্তথলিই বের করে আনা হয়, যাতে করে পরবর্তী সময়ে পাথর হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই শুন্য।

এন্ডোমেট্রিওসিসঃ মহিলাদের রোগ এন্ডোমেট্রিওসিস। জরায়ুর ভেতর পৃষ্ঠদেশের মিউকাস আবরণের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। এই এন্ডোমেট্রিয়াম জরায়ুর বাইরে দ্রুত বিস্তার লাভ করলে তাকে বলে এন্ডোমেট্রিওসিস। এন্ডোমেট্রিয়াম জরায়ুর বাইরে যেমন- ডিম্বনালী, ডিম্বাশয়, মুত্রথলি প্রভৃতি অঙ্গ ঘিরে বেড়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে লেসার সার্জারি ব্যবহার করে সহজেই এন্ডোমেট্রিওসিস অপারেশন সম্ভব। লেসারের লক্ষ্য হলো আক্রান্ত জায়গাগুলোতে এন্ডোমেট্রিয়া টিস্যুগুলো গলিয়ে ফেলা। রোগী একদিনেই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে যেতে পারে। এন্ডোমেট্রিওসিস অপসারণে কার্বন ডাই অক্সাইড লেসার ব্যবহার করা হয়।
 

**************************
ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
দৈনিক আমারদেশ, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৮