উচ্চ রক্তচাপের কারণে শরীরের যে কোনো ক্ষতস্হান থেকেই রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তেমনি দাঁত ও মুখের ক্ষতস্হান থেকেও ঘটতে পারে অঝোর ধারায় রক্তপাত। মুখ গহ্বরের ভেতরে মাঢ়ি অথবা দন্তমজ্জার প্রদাহের কারণে রক্তনালীর বাইরের আবরণ পাতলা হয়ে গেলে অথবা ছিঁড়ে গেলে উচ্চ রক্তপাতজনিত রক্তপাত হতে পারে। এছাড়া দন্ত চিকিৎসকরা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাকালীন অঝোরে রক্তপাতের পরিস্হিতিতে পড়তে পারেন। উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন রোগীর মুখে যে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার, যেমন-দাঁত তোলা, মাঢ়ি বা আক্কেল দাঁত সংলগ্ন বর্ধিত মাংসপেশী কাটা, স্কেলিং করা যাকে সাধারণ ভাষায় মাঢ়ি ওয়াশ করা বলা হয়ে থাকে এমনকি সতেজ মজ্জাবাহিত দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করাও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ। এতে বিরামহীন রক্তপাতের ফলে রোগীর সংজ্ঞা হারানো থেকে জীবন হারানোরও আশংকা থাকে।

কাজেই নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপের রোগীর দাঁত ও মুখের চিকিৎসায় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ করে, সেসব রোগী রক্তচাপ কমানোর ওষুধ সেবন করে থাকেন তাদের চিকিৎসাকালীন ডাক্তারকে সচেতন থাকতে হবে। কেননা যারা এন্টিহাইপারটেনসিভ ড্রাগ নিয়ে থাকেন তাদের রক্তচাপ হঠাৎ সাংঘাতিকভাবে কমে যেতে পারে এবং হঠাৎ অচেতন হয়ে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। নিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা অল্পমাত্রার উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মুখ দাঁতের চিকিৎসার আগে রোগীকে স্বল্পমাত্রার ঘুমের ওষুধ দিয়ে এবং রোগীকে সাহস দেয়ার মাধ্যমে আশ্বস্ত করে চিকিৎসা সেবা দেয়া যেতে পারে।

এছাড়া উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব ওষুধ সেবন করে থাকেন সেগুলোর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও মুখ ও দাঁতের কিছু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ যেগুলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করে সেগুলোর জন্য ড্রাই মাউথ বা ‘মুখগহ্বর শুষ্ক হয়ে যাওয়া’ নামক এক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এতে মুখের লালার স্বাভাবিক নিঃসরণ ও সঞ্চালন ব্যাহত হয়। ফলে মুখগহ্বরের বিভিন্ন জায়গায় প্রদাহজনিত রোগের সৃষ্টি হতে পারে এবং খাবারে অরুচি থেকে শুরু করে বদহজমসহ পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত কিছু কিছু ওষুধ যেমন ডাইইউরেটিকস, এডরেনার্জিক ব্লকিং এজেন্টস ইত্যাদি এক ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে থাকে যাতে ডেন্টাল চেয়ারে বসার বা শোয়ার সাথে সাথে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে। এমনটি হয় অর্থোপেডিক হাইপোটেনশন নামক রোগের কারণে। এতে ডেন্টাল চেয়ারে রোগী বা রোগিণীর শারীরিক অবস্হান পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। গর্ভবতী মহিলারা এতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। উচ্চ রক্তচাপ নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ মিথাইল ডোপা ও ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার নিফিডিপিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে যথাক্রমে মুখে ঘা এবং মাঢ়ির টিস্যু বাড়িয়ে দিয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে।


**************************
ডা. মোঃ আলী আসগর মোড়ল
বিডিএস, ডিডিএস, পিএইচডি, সহকারী অধ্যাপক, কনজারভেটিভ ডেনটিষ্ট্রি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
দৈনিক আমারদেশ, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৮