মাছ থেকে আমরা বহুবিধ উপকারি খাদ্য উপাদান ও ওষুধ পেয়ে আসছি। ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’র অভাব দুর করার জন্য কর্ড মাছের তেল ও হ্যালিব্যাট মাছের তেল বহুল ব্যবহৃত। তাছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের নিরাপদ উৎসও মাছ। পশুর আমিষ ও চর্বির তুলনায় মাছের আমিষ ও চর্বি প্রায় সবার জন্যই ভালো। এ ধারাবাহিকতায় আমরা মাছ থেকে আরো কিছু নতুন উপাদান পেতে যাচ্ছি শিগগিরই।

অদুর ভবিষ্যতে পাফার বা ফুজু মাছের মারাত্মক বিষ (এটি সায়ানাইডের চেয়েও ১০,০০০ গুণ বিষাক্ত) থেকে ক্যাসারের দুরারোগ্য ব্যথা উপশমের ওষুধ পাওয়া যাবে। এটি হেরোইন আসক্তদের নিরাময়ের সময় যে উইথড্রয়াল সিনড্রোম হয় তা নিবারণেও সহায়ক হবে। পাফার বা ফুজু মাছটি প্রধানত জাপান সাগর এলাকায় পাওয়া যায়। এ মাছের ত্বক ও দেহের অঙ্গগুলোয় বিষটি থাকে। জাপানে প্রতিবছর প্রায় ৫০ জন মানুষ ঠিকমত রান্না না করে ফুজু মাছ খাবার কারণে বিষক্রিয়ায় মারা যায়।

বিজ্ঞানীরা এ বিষটিকে নিষ্ক্রিয় করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। তারা এটিকে মাছের আমিষের তুল্য পদার্থে পরিবর্তিত করেন। তারা পরিবর্তিত যে পদার্থটি পান তার নাম টেকটিন। টেকটিনের ব্যথা উপশম ক্ষমতা মরফিনের চেয়ে ৩,০০০ গুণ বেশি। এক কথায় পৃথিবীতে প্রাপ্ত অজ্ঞান না করে ব্যথা উপশমের সব পদার্থের মধ্যে টেকটিন হবে সবচেয়ে শক্তিশালী। স্বাস্হ্য বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক দুর্দমনীয় ক্যাসার রোগীদের দিনে দু’বার টেকটিন ইনজেকশন দিয়ে এর ফল পেয়েছেন। কারো কারো ক্ষেত্রে সর্বশেষ ইনজেকশনটি নেয়ার ১৫ দিন পর পর্যন্তও কোনো ব্যথা অনুভুত হয়নি। টেকটিন ব্যথা উৎপাদনের স্হান থেকে ব্যথার অনুভুতি মস্তিষ্কে পৌঁছতে বাধা দেয়। এটি প্রচলিত অন্যান্য শক্তিশালী বেদনানাশকের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে না। এতে কৌষ্ঠকাঠিন্য বা মানসিক অস্হিরতা হয় না। তবে এতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অস্হায়ী ঝিম ঝিম ভাব ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

গবেষকরা মনে করছেন, খুব দ্রুত ওষুধটি বাজারে আসবে। এটি ক্যাসারের ব্যথা উপশম, হেরোইন আসক্তদের নিরাময় ও দাঁতের ব্যথায় খুব কার্যকর হবে।


**************************
দৈনিক আমারদেশ, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৮