টাইফয়েড এক ধরনের আন্ত্রিক রোগ। রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া থেকে শুরু করে হৃদরোগও দেখা দিতে পারে। এছাড়া পেট ফুটো হওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা তো রয়েছেই। পানি বা পানিযুক্ত খাদ্যসামগ্রী থেকেই সাধারণত টাইফয়েড রোগটি দেখা দিয়ে থাকে। আবার ডিম থেকেও টাইফয়েড রোগটি দেখা দিতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাইফয়েড মুরগির চেয়ে হাঁসের ডিমের থেকেই সংক্রমিত হয়ে থাকে। টাইফয়েডের জীবাণু যা সালমোনেলা নামে সমধিক পরিচিত তা এই ডিমের বহির্স্তরে লেগে থেকে টাইফয়েড রোগ সংক্রমিত করে থাকে। হাঁসের পায়ুপথ এবং যোনিপথ অভিন্ন হওয়ায় ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পায়ুপথের ময়লা এবং সেই সঙ্গে সালমোনেলা জীবাণু ডিমের নরম স্তরে লেগে যাওয়ার বহুল আশঙ্কা থাকে। ডিম পাড়ার পর নরম স্তরটি বায়ুর সংস্পর্শে এসে শক্ত হয়ে যায়। কিন্তু নরম স্তরের জীবাণু ভেতরেই থেকে যায়। এভাবেই হাঁসের ডিম থেকে মানুষের শরীরে সালমোনেলা জীবাণু তথা টাইফয়েড রোগ বিস্তার লাভ করে। হাঁসের খামারে হাঁসের আন্ত্রিক রোগসহ মড়ক দেখা দিলে সেই খামারের ডিম সংগ্রহের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।


**************************
ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার
দৈনিক আমারদেশ, ০১ মার্চ ২০০৮