খাওয়ার পর চুইংগাম খেলে তা মুখগহ্বর পরিষ্কারের পাশাপাশি বুকজ্বালা বা হার্টবার্ন কমাতে সাহায্য করে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে অতিমাত্রায় খাবার গ্রহণের পর খাদ্যনালীতে অতিরিক্ত এসিডের উপস্থিতিজনিত বুকজ্বালা বা হার্টবার্নের সমস্যা উপশমে চুইংগাম সহায়তা করছে। সাধারণভাবে বুকজ্বালা বা হার্টবার্নের এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় গ্যাস্ট্রোইসেফেজিয়াল রিপ্নাক্স ডিজিজ বা সংক্ষেপে জিইআরডি। এই সমস্যার ক্ষেত্রে পাকস্থলী থেকে এসিড খাদ্যনালীতে উঠে আসে এবং বুকজ্বালার সৃষ্টি করে। কিভাবে চুইংগাম এই কাজটি করে থাকে? এ প্রসঙ্গে গবেষকরা বলছেন, চুইংগাম মুখে লালার নিঃস্বরণ বাড়িয়ে দিয়ে মুখকে পরিষ্কার রাখে। ইতঃপূর্বে এক গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে চিনি ছাড়া চুইংগাম মুখগহ্বরের চিনির পরিমাণ কমিয়ে দাঁতের ক্যারিজ বা ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ করে। একইভাবে চুইংগাম খাদ্যনালীর এসিডের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রেও কাজ করছে। খাবার গ্রহণের পর টানা ৩০ মিনিট ধরে চুইংগাম চিবানোর পর গবেষকরা এই সুফল পেয়েছেন।

যৌনরোগ প্রতিরোধে বিশেষ চর্বি উপাদান
গরম্নর দুধ, নারিকেলের নির্যাস এবং মায়ের দুধে বিশেষ এক ধরনের চর্বি পাওয়া যায়, যা এইডসের জীবাণু (এইচআইভি-ভাইরাস) এবং কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে পারে, যাদের দ্বারা গনোরিয়া এবং ক্ল্যামাইডিয়া নামক যৌনরোগ হয়। মনোক্যাপ্রিণ নামে এই ব্যাকটেরিয়াবিরোধী প্রাকৃতিক চর্বিটির কথা অনেক দিন ধরেই জ্ঞাত; কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব আইসল্যান্ডস রিকজাভিক ইনস্টিটিউট অব বায়োলজি এই প্রথমবারের মতো মনোক্যাপ্রিনকে বিশেষভাবে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় জানা যায়, বাণিজ্যিকভাবে এটিকে জেল হিসেবে পাওয়া যাবে এবং বর্তমানে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করার জন্য প্রথমে তা পশুর দেহে প্রয়োগ করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই এটি মানবদেহে ব্যবহারের যোগ্যতা অর্জন করবে।

মাইগ্রেন থেকে মুক্তি
বটুলিনাম নামে একপ্রকার জীবাণু বদহজমজনিত পেটের পীড়ার জন্য দায়ী। কিন্তু এই বিটুলিজম টক্সিনই মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথার তীব্রতা ও যন্ত্রণা কমাতে সড়্গম। হিউস্টনের কিছুসংখ্যক উদ্যমী গবেষক ১১টি মাইগ্রেন হেডেক ক্লিনিকের প্রায় ১২৩ জন ক্রনিক মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে বটক্স ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। তিন মাস পর দেখা যায় ৫৫ জনের মাইগ্রেনের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং মাইগ্রেনের তীব্রতা ৬০ শতাংশ কমে এসেছে। বটক্স মস্তিôষ্ক থেকে যে নিউরোট্রান্সমিটার নির্গত হয় তা প্রতিহত করা এবং পেশি সঙ্কোচনে বাধা দেয়। অন্যান্য ওষুধও প্রায় একইভাবে কাজ করে, তবে তীব্রতা কমাতে বটক্সের জুড়ি নেই।

**************************
ডা. নায়লা শারমীন
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ০২, মার্চ ২০০৮