১৬ বছর বয়স ছেলেটির। নরসুন্দরের কাছে চুল কাটার পর একটু ঘাড়-পিঠ মালিশ করে নেয় ৫-১০ মিনিট। বিনিময়ে তাকে কিছু বকশিশ দেয়। একদিন ঘাড় মালিশ করার সময় কট করে একটা আওয়াজ হয়, একটু সামান্য ব্যথাও করে উঠেছিল। কিন্তু ছেলেটি অতটা গ্রাহ্য করেনি। দু-এক দিন পর সে ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করতে লাগল। ক্রমে ব্যথা বাড়ছে। মা ভাবলেন, হয়তো উল্টাপাল্টাভাবে শোয়ার জন্য ঘাড়ে ব্যথা হয়েছে। মা প্রতিদিন বালিশ রোদে দিতে লাগলেন, ঘাড়ে গরম কাপড় দিয়ে সেঁক দিতে শুরু করলেন। কিন্তু কিছুতেই ব্যথা কম হচ্ছে না; বরং দিন দিন বাড়ছেই। একপর্যায়ে ব্যথা হাতের মধ্য আঙ্গুল পর্যন্ত আসতে শুরু করল। ব্যথার জন্য ঘাড় নাড়ানোও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠল। চিকিৎসক পরীক্ষা করে বললেন, ‘স্পনডাইলোসিস’ হয়েছে। ঘাড়ের এমআরআই ও নার্ভ কনডাকশন স্টাডি (স্মায়ুর আচরণ পরীক্ষা) করে সেটি প্রমাণিত হলো।

মেরুদণ্ডের হাড়ের ভেতর থাকে স্পাইনাল কর্ড। সেখান থেকে স্মায়ুর উৎপত্তি। সেই স্মায়ু মেরুদণ্ডের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে এসে আমাদের হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কারণে ওই স্মায়ু যদি চাপা খায়, তাকে বলা হয় স্পনডাইলোসিস। এটা সাধারণত মধ্য বয়সে হয়, অর্থাৎ চল্লিশের পর, যখন হাড় ক্ষয় হয়ে স্মায়ুর ওপর চাপ খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটার চিকিৎসা হচ্ছে প্রথম অবস্থায় সারভাইক্যাল কলার। এটাতে অবস্থার উন্নতি না হলে অপারেশনও লাগতে পারে। আলোচ্য কিশোরটির এত অল্প বয়সে কেন হলো? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নরসুন্দর ঘাড়-পিঠ মালিশ করে বিভিন্ন ভঙ্গিমায়। কোনো সময় মাথার ওপর চাপ দেয়, কখনো ঘাড় বাঁ দিকে ও ডান দিকে কাত করে। এসব মালিশ ঘাড়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে ঘাড়ের স্মায়ুতে চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে।

পরামর্শ
* সেলুনে গিয়ে কখনো ঘাড় বা মাথা মালিশ করাবেন না।
* ঘাড় কখনো খুব বেশি পেছনে বা পাশে কাত করতে দেবেন না।
* গাড়িতে সিটবেল্ট ব্যবহার করুন। এতে হঠাৎ করে গাড়ি থামলে করলে ঘাড় অতিরিক্ত ঘুরে যাবে না।
 
**************************
ডা· সেলিনা ডেইজী
সহযোগী অধ্যাপক, শিশু নিউরোলজি ও ক্লিনিক্যাল নিউরোফিজিওলজি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
দৈনিক প্রথম আলো, ০৫ মার্চ ২০০৮