যে ওষুধই শরীরে প্রবেশ করানো হোক না কেন, নানাভাবে তা ঘুরেফিরে রক্তে গিয়ে পৌঁছায়। যখন ওষুধের ক্রিয়া দ্রুত প্রয়োজন হয়, তখন ওষুধ ইনজেকশন আকারে শরীরে প্রবেশ করানো হয়ে থাকে। বিভিন্নভাবে ইনজেকশন শরীরে প্রবেশ করানো হয়। কোনো কোনো ইনজেকশন সরাসরি শিরায় প্রবেশ করানো হয়। এ-জাতীয় ইনজেকশনকে ইন্ট্রাভেনাস ইনজেকশন বলে।

কিছু ইনজেকশন মাংসপেশিতে পুশ করতে বলা হয়। এটাকে ইন্ট্রামাসকুুলার ইনজেকশন বলা হয়। আবার কখনো কখনো মাংসপেশি ও চামড়ার মাঝখানের অংশে দিতে হয়। এ-জাতীয় ইনজেকশন হলো সাবকিউটেনাস ইনজেকশন। শরীরের ভেতর ইনজেকশন আকারে ওষুধ কীভাবে কাজ করবে তার ওপর ভিত্তি করে ইনজেকশনের পদ্ধতি নির্ণয় করা হয়ে থাকে। সাধারণত পানি-সমন্বিত ইনজেকশন সাবকিউটেনাস পদ্ধতিতে দেওয়া হয়ে থাকে।

তেলসমৃদ্ধ ইনজেকশন এবং পানিতে সাসপেনশন হয় এমন ইনজেকশন সাধারণত মাংসপেশির মাধ্যমে বা ইন্ট্রামাসকুলার পদ্ধতিতে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। যা-ই হোক, ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে ওষুধ প্রবেশ করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শরীরে যখন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ভয়ানক আকারে হয়, তখন দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ইনজেকশন আকারে রক্তে প্রবেশ করানো হয়।
এসব ক্ষেত্রে সাধারণত শরীরে শিরার মাধ্যমে ইনজেকশন দেওয়া হয়। ডায়াবেটিস রোগের জন্য ‘ইনসুলিন’ ইনজেকশন আকারে দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন শরীরে দেওয়া হলে তা অনেকক্ষণ ক্রিয়াশীল থাকে। ইনজেকশনের মাধ্যমে এই ওষুধ সরাসরি রক্তে মিশে যায়। তাই ওষুধের সম্পূর্ণ অংশই কাজে লাগে। সবচেয়ে বড় সুবিধা, ওষুধ দ্রুত কার্যকর হয়।
ইনজেকশন প্রস্তুত খুবই উন্নত পদ্ধতির মাধ্যমে করতে হয়। সামান্য ভুলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই ইনজেকশন প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। প্রতিটি স্তরে জীবাণুমুক্তকরণ অতি-অবশ্যম্ভাবী বিষয়। যেসব ইনজেকশন দ্রবণ বা সাসপেনশন হিসেবে তৈরি করা হয়, সেগুলো সাধারণত কাচের অ্যাম্পুলে ভরে দেওয়া হয়। আবার যেসব ইনজেকশন পাউডার হিসেবে তৈরি হয়, সেগুলো কাচের ভায়ালে ভরে বাজারজাত করা হয়ে থাকে। স্যালাইন-জাতীয় ইনজেকশন এখন প্লাস্টিকের ব্যাগে বিক্রি হয়।
 

সুভাষ সিংহ রায়
ফার্মাসিস্ট
প্রথম আলো, ১২ মার্চ ২০০৮