বেশির ভাগ টিউমার বা ক্যান্সারের কারণ হয় এখনো জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু কারণ এর জন্য দায়ী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

--বংশগত/জেনেটিকঃ ব্রেষ্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি বংশগত কারণে হতে পারে

--ধুমপানঃ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হয়, তবে ফুসফুসের ক্যান্সার অন্যতম।

--পান, জর্দা, সাদা পাতা, গুল ইত্যাদি ওরাল ক্যান্সার বা জিহ্বার ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

--বিনাইন টিউমার অনেক দিন পর্যন্ত শরীরে থাকলে যে কোনো সময় ক্যান্সারে রুপ নিতে পারে। বেশিরভাগ কোলন ক্যান্সার এভাবেই হয়ে থাকে।

--রেডিয়েশনঃ সুর্য রশ্মির কারণে ত্বকে ক্যান্সার হতে পারে। যেমন-চেরনোবিল এবং জাপানের নাগাশিকোর পারমাণবিক বিস্ফোরণের অনেক বছর পর এখনো সেখানে অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে।

--পাথর/ষ্টোনঃ যেমন-কিডনি, পিত্তথলির পাথর ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

--রাসায়নিক বা কেমিক্যাল এজেন্টঃ এনিলিন ডাই মুত্রথলিতে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

খাদ্যে ব্যবহৃত ফরমালিন এসিড/পচন রোধক পদার্থ পাকস্হলীতে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। চুলের কলবও ত্বকে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

ক্যাসারের নানা রকম উপসর্গ
হঠাৎ করে খাবারের রুচি হচ্ছে না, অল্প খেলেই পেট ভরে যাচ্ছে। ওজন কমে যাচ্ছে, বয়স ৪০ বছরের অধিক, সতর্ক হোন পাকস্হলীতে ক্যান্সার হতে পারে।

--মলদ্বার দিয়ে রক্ত যাচ্ছে, ব্যথা হচ্ছে, শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে কিংবা মলত্যাগের অভ্যাসের হঠাৎ পরিবর্তন হয়েছে। সতর্ক হোন রেকটাম বা ক্লোন ক্যান্সার হতে পারে।
--অনেকদিন ধরে শরীরের কোনো অংশে চুপচাপ উপদ্রবহীনভাবে ছোট একটি টিউমারের হঠাৎ পরিবর্তন।
--চাকা হঠাৎ বড় হচ্ছে, ব্যথা হচ্ছে, এই অবস্হায় সতর্ক হতে হবে এবং ক্যাসার কিনা নিশ্চিত হতে হবে।
--ব্রেষ্টে চাকা ও ব্যাথা, বয়স ৪০ বছরের উপরে হলে অবশ্যই সতর্ক হোন।
--শরীরের ছোট একটি তিল হঠাৎ বড় হচ্ছে, গাঢ় কালো রং হচ্ছে, চুলকাচ্ছে কিংবা ব্লিডিং হচ্ছে এক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে।
--ক্রনিক কাশি ভালো হচ্ছে না, ৪ সপ্তাহের বেশি হয়ে গেছে, এই অবস্হায় পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে ফুসফুসের ক্যান্সার হয়েছে কি না।
--মহিলাদের বয়সের কারণে মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে অথচ নতুন করে আবার ব্লিডিং হচ্ছে, এক্ষেত্রে সতর্ক হোন, জরায়ুর ক্যান্সার হতে পারে।

রোগের চিকিৎসা
--যে কোনো ধরনের টিউমার হলেই এটাকে অপারেশন করতে হবে।
--টিউমারটি যদি বিনাইন হয় এবং যদি সম্পুর্ণভাবে ফেলে দেয়া হয় তাহলে ভয় নেই এবং আবার হওয়ার ঝুঁকি নেই।
--বাইওপসিতে যদি ক্যান্সার ধরা পরে তবে সেক্ষেত্রে সার্জারি হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম চিকিৎসা। সেই সঙ্গে অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসাও লাগতে পারে

*************************
ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ 
লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, সার্জারী, সার্জিক্যাল অনকোলজি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
চেম্বারঃ মডিউল জেনারেল হাসপাতাল ১/জি/৩, পরিবাগ, ঢাকা।
আমার দেশ, ১৫ মার্চ ২০০৮