চুল ত্বকেরই অঙ্গ। ত্বকের উপরিতলের কোষ বা এপিডারমাল সেল থেকে চুলের উৎপত্তি। হেয়ার ফলিকল তৈরি হয় এপিডারমাল সেল থেকে। হেয়ার ফলিকলের একেবারে গভীরতর অংশ বা হেয়ার বালবের বিভাজনে তৈরি হয় নতুন নতুন কোষ। এই নবীন কোষগুলোতে বিশেষ ধরনের প্রোটিন জমতে থাকে, যা ত্বকের সাধারণ প্রোটিন থেকে কিছুটা আলাদা ও শক্ত। হেয়ার বালবের মধ্যের মেলানোসাইট চুলের রঙ সরবরাহ করে। চুলের পুষ্টি আসে হেয়ার বালবের শিরা-উপশিরা থেকে। হেয়ার বালব থেকে তৈরি হওয়া কোষগুলো একত্রে একটি দন্তের মতো উপরিতলের দিকে বাড়তে থাকে। জীবন্ত কোষগুলো ক্রমেই মৃত্যুর দিকে এগোয়, জমে ওঠা শক্ত কেরাটিনের একটি টালিতে পরিণত হয়। চুলের এই দন্ডের চারপাশে হেয়ার ফলিকলের দেয়াল লেপটে থাকে। ত্বকের উপরিভাগের কাছে এসে হেয়ার শ্যাফট তার চার পাশের দেয়াল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি মোটা কালো সুতার মতো ত্বকের উপরিভাগ থেকে বেরিয়ে আসে। তাই চুলের পুষ্টি সঞ্চালন করতে হলে হেয়ার ফলিকলের নিচে, ত্বকের গভীরে হেয়ার বাল্বে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হবে এবং সেই রক্তে চুল তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান ঠিকভাবে থাকতে হবে। আগাগোড়া হেয়ার ফলিকল বা চুল তৈরির কারখানাটিও ঠিক থাকা দরকার।

ত্বকের গভীরে যেখানে হেয়ার বাল্বের কোষগুলো রয়েছে যেখান থেকে ক্রমাগত নতুন কোষ সৃষ্টি হয়ে চুলের দণ্ডের গোড়ার দিকে যুক্ত হচ্ছে এবং দণ্ডটিকে ক্রমাগত উপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জীবন্ত কোষগুলো উপরের দিকে ওঠার সময় কেরাটিন সঞ্চয় করছে, শক্ত হচ্ছে, মৃত কোষে পরিণত হচ্ছে। এই মৃত কোষের সমষ্টিই চুল হিসেবে ত্বকের উপরিভাগে ক্রমাগত এগিয়ে এসে অবশেষে ত্বকের বাইরে চুল হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

অল্প বয়সে টাক পড়া
অল্প বয়সে টাক পড়ার নানা কারণ রয়েছে। পুরুষদের জন্য এন্ড্রোজেনিক এলোপেসিয়া শুরু হয় কপালের দু’পাশে রগের কাছে। তারপর ক্রমেই বাড়তে বাড়তে সামনে ও চাঁদিতে ছড়িয়ে পড়ে। এটা পুরুষ সেক্স হরমোন টেস্টোস্টেরন ও জেনেটিক প্রভাবের কারণে হয়। চুলের বৃদ্ধি অনেকাংশে টেস্টোস্টেরনের ওপর নির্ভরশীল। চুলের গোড়ায় কিছু রিসেপ্টর থাকে যারা এই হরমোনের উপস্থিতিতে চুলের জীবন নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে একই মাত্রায় হরমোন থাকা সত্ত্বেও চুলের তারতম্য হয়। এজন্যই পুরুষদের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকালে সামনের চুল সরে যেতে থাকে। অবশ্য চুল পড়ার জন্য থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখ, রক্তস্বল্পতা, ওভারির অসুখ, বা অন্য কোনো এন্ডোক্রাইন অসুখও হতে পারে। বর্তমানে চুল পড়া বা টাকের আধুনিক চিকিৎসা এসেছে। বাজারে প্রচলিত শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনে মোহিত না হয়ে অল্প বয়সে চুল পড়া শুরু হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। রূপচর্চার নামে নানা অপ্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহারে ত্বক ও চুলের ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ, বিভিন্ন কেমিক্যাল ক্ষার ও ইনসেকটিসাইড ব্যবহার, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ ইত্যাদিও পরোক্ষভাবে চুল পড়ার জন্য দায়ী।

আধুনিক জীবনযাত্রা স্বাভাবিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য আমার কথা এই যে, সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর প্রতিকার আছে।

*************************
ডা. ওয়ানাইজা
চেম্বারঃ যুবক মেডিক্যাল সার্ভিসেস , বাড়িঃ ১৬, রোডঃ ২৮ (পুরাতন), ১৫ (নতুন), ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ১৬ মার্চ, ২০০৮