স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
জোড়ার ডিসপ্লেসমেন্ট ও চিকিৎসা
http://health.amardesh.com/articles/3540/1/aaaaa-aaaaaaaaaaaaa-a-aaaaaaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 01/13/2013
 
জোড়া শরীরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায় জোড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মানব শরীরে ২০৬ টি হাড়ের সমন্বয়ে ছোট বড় প্রায় ১৪৭ টি জোড়া তৈরী হয়। হাড়ের গঠন, জোড়ার আবরণ, লিগামেন্ট ও মাংসপেশীর সমন্বয়ে জোড়ার দৃঢ় অবস্থা বজায় থাকে। শরীরের বিভিন্ন জোড়ার মধ্যে হাত ও পায়ের আঙ্গুলের জোড়া, কটির (হিপ) জোড়া, কনুইর জোড়া এবং কাঁধের জোড়া বেশী ডিসপেস্নসমেন্ট বা স্থানচু্যতি হয়। আগাতে জোড়ার আবরণ ও লিগামেন্ট ইনজুরি হলে জোড়া স্থানচু্যতি হয়। কিছু জোড়া যেমন কাঁধের জোড়া স্থানচু্যতি হয়। জোড়ায় সরাসরি আঘাত, দূর্ঘটনা ও খেলাধূলার সময় পড়ে গিয়ে জোড়া ছুটে যায়।

জোড়ার ডিসপ্লেসমেন্ট ও চিকিৎসা

জোড়া শরীরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায় জোড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মানব শরীরে ২০৬ টি হাড়ের সমন্বয়ে ছোট বড় প্রায় ১৪৭ টি জোড়া তৈরী হয়। হাড়ের গঠন, জোড়ার আবরণ, লিগামেন্ট ও মাংসপেশীর সমন্বয়ে জোড়ার দৃঢ় অবস্থা বজায় থাকে। শরীরের বিভিন্ন জোড়ার মধ্যে হাত ও পায়ের আঙ্গুলের জোড়া, কটির (হিপ) জোড়া, কনুইর জোড়া এবং কাঁধের জোড়া বেশী ডিসপেস্নসমেন্ট বা স্থানচু্যতি হয়। আগাতে জোড়ার আবরণ ও লিগামেন্ট ইনজুরি হলে জোড়া স্থানচু্যতি হয়। কিছু জোড়া যেমন কাঁধের জোড়া স্থানচু্যতি হয়। জোড়ায় সরাসরি আঘাত, দূর্ঘটনা ও খেলাধূলার সময় পড়ে গিয়ে জোড়া ছুটে যায়। বেশী দুর্বরতা ও স্নায়ু রোগের কারণেও জোড়া স্থানচু্যতি হয়। জন্মগত ত্রুটির কারণে লিগামেন্ট ঢিলা থাকলে স্বত:স্ফুর্ত বা অল্প আঘাতেই জোড়া একদিকে বা বিভিন্ন দিকে আংশিক বা সম্পূর্ণ স্থানচু্যতি হয়। কিছু কিছু জয়েন্ট বিশেষ করে কটির (হিপ) জোড়া জন্ম থেকেই স্থানচু্যতি থাকতে পারে। এধরনের শিশুদের হিপে বিকৃত অবস্থা দেখা যায়, দু'উরু ফাক করা যায় কম এবং হাঁটতে শুরু করলে খুড়িয়ে হাটে এবং ত্রুটি প্রকট আকারে দেখা দেয়। স্বাভাবিক জোড়া ডিসপেস্নসমেন্ট হলে তীব্র ব্যথা হয়, জোড়া নড়াচড়া করা যায় না এবং চেষ্টা করলে ব্যথা বেড়ে যায়, স্থানচু্যতির জায়গায় ফুলা এবং স্বাভাবিক জায়গায় ফাঁকা দেখা যায়। বার বার ডিসপেস্নসমেন্ট হয় এমন এক্ষেত্রে রোগী জোড়ার কতিপয় নড়াচড়া করতে পারে না এবং জোড়াকে শক্ত করে স্বাভাবিক স্থানে রাখতে চেষ্টা করে। এ ধরনের জোড়া ঘুমের মধ্যে, গোসলের সময় এবং হঠাৎ করে কিছু ধরতে গেলে ছুটে যায়। অনেক সময় জোড়ার স্থানচু্যতির সাথে রক্তনালী ও স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে এবং হাড় ভাঙ্গা থাকতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসা: স্বাভাবিক জোড়ার স্থানচু্যতি অর্থোপেডিক চিকিৎসায় অতীব জরুরী একটি রোগ। অতি দ্রুত এর সঠিক চিকিৎসা প্রদান বাঞ্ছনীয়।

০ ব্যথা ও টিসু্য ইনজুরি কমানোর জন্য জোড়া নড়াচড়া বন্ধ রাখতে হবে।

০ স্থানচু্যতি জোড়ায় সিলিং বা স্পিন্ট (সাপোর্ট) ব্যবহারে ব্যথা ও টিসু্য ইনজুরি কম হবে।

০ বরফের টুকরা টাওয়ালে বা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পস্নাস্টিকের ব্যাগে নিয়ে লাগালে ব্যথা কমে আসবে।

০ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

০ শারীরিক পরীক্ষা ও স্থানচু্যতি জোড়ার এক্স-রে এর মাধ্যমে সহজেই রোগ নির্ণয় করা যায়।

০ রোগীকে অজ্ঞান করে আংশিক বা সম্পূর্ণ স্থানচু্যতি জোড়াকে টান ও প্রতিটান এবং নড়াচড়ার মাধ্যমে পূর্বের অবস্থানে বসাতে হবে।

০ পুনরায় এক্স-রে করে জোড়ার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

০ এরপর জোড়ার স্বাভাবিক নড়াচড়া ও বেশী শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম শুরু করে তিন মাসের মধ্যে জোড়াকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে হবে।

০ আবার উপযুক্ত পরিচর্যা না হলে জোড়া পুনরায় স্থানচু্যতি হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

কখন সার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন:

০ আঘাতের কয়েক দিনের মধ্যে স্থানচু্যতির প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ না করলে।

০ জোড়াকে টান ও প্রতিটান এবং নড়াচড়ার মাধ্যমে সঠিক স্থানে বসাতে না পারলে।

০ জন্মগত স্থানচু্যতি জোড়া কনজারভেটিভ চিকিৎসায় সঠিক স্থানে না বসালে।

০ জোড়ার লিগামেন্ট জন্মগতভাবে ঢিলা থাকলে।

০ প্রথম আঘাতের পর, পরবর্তীতে অল্প আঘাতে জোড়া বার বার স্থানচু্যতি হলে।

০ বার বার স্থানচু্যতির জন্য হাড় ভাঙলে এবং পেশী দুর্বল হলে।

০ জোড়ার স্থানচু্যতির সাথে রক্তনালী ও স্নায়ুর ইনজুরি এবং হাড় ভাঙ্গা থাকলে।

সার্জিক্যাল চিকিৎসা: বিভিন্ন ধরনের অপারেশনের মাধ্যমে স্থানচু্যতি জোড়াকে সঠিক স্থানে বসানো হয়। অপারেশনের ২-৩ সপ্তাহ পর জোড়ার স্বাভাবিক নড়াচড়া ও পেশী শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম শুরু করে জোড়ার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

আথ্রর্োস্কোপিক চিকিৎসা: এটি হলো অর্থোপেডিক চিকিৎসায় বর্তমান যুগের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক পদ্ধতি। যে সব জোড়া বার বার ডিসপেস্নসমেন্ট হয় বা ডিসপেস্নসন্টের প্রবণতা হয়, সে সব জোড়ার ক্ষেত্রে আথ্রর্োস্কোপিক চিকিৎসা যথোপোযুক্ত। ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ক্যামেরা যুক্ত যন্ত (স্কোপ) জোড়ায় প্রবেশ করিয়ে এবং যন্ত্রের সাথে যুক্ত বাহিরে মনিটর দেখে ল্যাবরাম, জোড়ার আবরণ (ক্যাপসুল) ও লিগামেন্ট রিপেয়ার করা হয়। এই পদ্ধতিতে রোগী তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে।

**************************

ডা: জি.এম. জাহাঙ্গীর হোসেন

হাড ও জোড়া বিশেষজ্ঞ এবং অর্থোপেডিক সার্জন
ডিজিল্যাব মেডিকেল সার্ভিসেস
মিরপুর, ঢাকা।

দৈনিক ইত্তেফাক, ০৫ মার্চ ২০১১