ট্রিগার ফিংগার হাতের আঙুলের টেনডনের একটি রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে "স্টেনোজিং টেনোসাইনোভাইটিস" বলে। নিম্নবাহুর পেশীগুলো টেনডনের মাধ্যমে আঙুলের হাড়ের সাথে যুক্ত হয়ে আঙুলের বিভিন্ন নড়াচড়া করায় । প্রদাহ বা স্ক্যার টিসুর জন্য টেনডন ফুলে যায় । ফলে এর আবরণের ভিতর ঠুকতে বা বের হতে বাধাঁ গ্রস্ত হয়। কোন কিছু ধরতে চেষ্টা করলে মসৃন ও অবিরাম আঙুলের মুষ্ঠি না হয়ে ফট ফট করে ভাঁজ হয়। আবার আঙুল সোজা করতে গেলে ফট ফট করে হয়। অনেকটা বন্ধুকের ট্রিগারের মত। এ জন্য একে ট্রিগার ফিংগার বলে । অনেক সময় আঙুল সোজা বা ভাঁজ অবস্থায় আটকিয়ে থাকে। আঙুলের গোড়া জমে থাকে, ব্যথা হয় এবং শক্ত ছোট পিন্ডের মত ফুলে থাকে। দীর্ঘদিন এভাবে থাকলে জোড়ায় আথর্্রাইটিস হয় এবং টেনডন ছিড়ে যায় ।

এ রোগে কারা ঝুকিপূর্ন ?

>> সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বৎসরের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়।
>> পুরুষের তুলনায় মহিলারা ট্রিগার ফিংগারে বেশী আক্রান্ত হয় ।
>> রিউমাটয়েড ও গাউটি আর্থ্রাইটিস রোগী।
>> ডায়াবেটিস রোগী ।
>> ক্ষেত খামারে কর্মরত কৃষক ও শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ।
>> দীর্ঘক্ষণ শক্ত করে হাত মুষ্ঠি করে রাখতে হয় এমন কাজে কর্মরত ব্যক্তি ।
>> মটর চালিত যন্ত্র দীর্ঘক্ষন হাতে নিয়ে কাজ করলে
>> বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারকারী ।

নিরাময় :

>> যে কাজকর্ম রোগকে ত্বরান্বিত করে তা হতে হাতকে বিরত রাখতে হবে।
>> স্পিস্নটিং ব্যবহার করে হাতের আঙুল সোজা করে রাখতে হবে যাতে নড়াচড়া না হয়।
>> কুসুম গরম পানির সেঁক এবং মেসেজ করলে শক্ত পিন্ড নরম হবে।
>> ন্যাপরোমাসিন বা আইবোপ্রোপেন নামক বেদনা ও প্রদাহ নাশক ওষুধ সেবন ।
>> করটিসোন ইনজেকশন পুশ করলে উপসর্গ দ্রুত লাঘব হবে ।
>> কনজারভেটিভ চিকিৎসায় ভালো না হলে বা রোগের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ছোট অপারেশনের মাধ্যমে টেনডনের আবরণ কেঁটে টেনডন অবমুক্ত করা হলে রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে ।


**************************

ডাঃ জি, এম, জাহাঙ্গীর হোসেন
কনসালটেন্ট-হাড়, জোড়া, ট্রমা এবং আথ্রর্োস্কোপিক সার্জারী
ডিজিল্যাব মেডিকেল সাার্ভিসেস
মিরপুর ঢাকা।

দৈনিক ইত্তেফাক, ১৯ মার্চ ২০১১