নেফ্রোটিক সিনড্রম কিডনির খুব কমন একটি রোগ। এটি কিডনির অনেক গুলো উপসর্গের্র সমন্বয় নেফ্রটিক সিনড্রম হলে কি হয়? প্রসাবে প্রচুর প্রোটিন যায়, রক্তে প্রোটিনের মাত্রা অনেক কমে যায় আর কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেড়ে যায় এবং সেই সাথে সমসত শরীরে পানি জমে ফুলে যায় ।

কি কি কারনে এই নেফ্রটিক সিনড্রম হতে পারে ? কিডনিতে গেস্নামারুলাস বলে এক ধরনের অঙ্গানু থাকে। এরা ছাকুনির মতো কাজ করে। এই গেস্নামারুলাসের নানা প্রকার প্রদাহের কারনে নেফ্রটিক সিনড্রম হতে পারে। এছাড়া শরীরের বিশেষ কিছু রোগ যা বিভিন্ন শরীরের অনেকগুলো অঙ্গকে আক্রান্ত কওে যেমন এস,এল,, ডায়াবেটিস, এমাইলয়ডোসিস এসব কারনেও এমনটি হতে পারে। ম্যালেরিয়া, হেপাটাইটিস 'বি', হূদপিন্ডের এন্ডোকার্ডাইটিস জাতীয় ইনফেকশন, কিছু ক্যান্সার, কিছু অসুধের পাশর্্বপ্রতিক্রিয়া এমনকি জন্মগত কারনেও নেফ্রটিক সিনড্রম হতে পারে।

এই সিনড্রম হলে মুখ-মন্ডল ও চোখের পাতা ফুলে যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে (যেমন পেটে পানি জমে এসাইটিস, ফুসফুসে জমে পস্নুরাল ইফিউশান) শরীর ফুলে যায়, তবে এ রোগে রোগীর রক্তচাপ বা বস্নাড প্রেসার স্বাভাবিক থাকে। অনেক সময় এ রোগে রোগীর ইনফেকশন হবার হার বেড়ে যায়, থ্রম্বোএমবোলিজম হয় আবার কখনো কখনো রোগী শক এও চলে যেতে পারে। এমন কিছু হলে রোগীকে সাথে সাথে কিডনি বিশেষজ্ঞ বা নেফ্রলজিষ্টের

তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনে আইসিইউতে ভর্তি করিয়ে দেয়া উচিত।

নেফ্রটিক সিনড্রম হলে রোগীকে লবন এবং তরল জাতীয় খাবার পরিমান কমিয়ে আনতে হয়, এক্ষেত্রে রোগী স্বাভাবিক মাত্রার প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার খেতে পারেন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে এন্টিবায়োটিক, ডাইরেটিক(মূত্রবর্ধক) এবং ক্ষেত্র বিশেষে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়। সময়মত সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগীর রেনাল ফেইলুর হবার সম্ভাবনা আছে।

**************************

ডাঃ গুলজার হোসেন উজ্জ্বল

স্বাস্থ্য বিষয়ক নিবন্ধকার

দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ মার্চ ২০১১