দুপুরের খাবারের পর একটু ঘুম, যাকে আমি বলছি ভাতঘুম। এর যে কি শক্তি, কি বলবো! বেশ সতেজ হয় শরীর ও মন। একেতো পাওয়ার ন্যাপ বলাই যায়। রাতে ৬ ঘন্টার ঘুম তবুও সামান্য ভাতঘুম হলে বেশ ভালো হয়ে যায় শরীর ও মন। তাই ক্লান্তি দমাতে গেলে এবং কর্মস্থলে ও ঘরে দু'জায়গাতেই উচু ফর্মে থাকতে গেলে চাই ভাতঘুম। অনেকেই এই পাওয়ার ন্যাপকে দৈনিক রুটিনের অংশ করেছেন।

দিবানিদ্রা ও ঘুমের ঘাটতি: রাতে যতটুকু ঘুমাবার কথা, ধরুন ৭-৮ ঘন্টা, এর চেয়ে কম ঘুম হলো তখনই এই ঘাটতি কাটাবার জন্য চাই দিবানিদ্রা, বলেন, মান ডিয়েগো ক্যালিফোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর সারা সি মেড্নিক। তিনি 'ঞধশব ধহধঢ়/পযধহমব ড়ঁৎ ষরভব' বইটি লিখে বেশ নাম করেছেন। বলেন মেড্নিক, ১৫-২০ মিনিটের এই দিবানিদ্রায় পাওয়া যায় অবিশ্বাস্য ফল। শরীরের সব ব্যবস্থা পুন:স্থাপন হলো, সজাগ হওয়া গেলো, পারফোরমেন্সও ভালো হলো। তাই এই ঘুম ঘুম ভাব ছাড়াতে ও শক্তি ফিরে পেতে এই ক্ষণকালের নিদ্রাবড় উপকারী। দিবানিদ্রা কত সময় নেয়া হলো, কি ধরনের ঘুম হলো-এর উপর নির্ভর করে শক্তি কি পরিমাণ বাড়বে। এই ২০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ-কখনও একে বলে 'ধাপ-২ ন্যাপ'
কিন্তু এই দিবানিদ্রা ২০ মিনিটের বেশি নিলে কি হবে? গবেষকরা বলেন, এতে স্মৃতিশক্তি উজ্জীবিত হয়, সৃজনশীলতা বাড়ে। আধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা দিবানিদ্রা নিলে, যাকে আমরা বলি 'ধীর তরঙ্গ ন্যাপ'-এমন ঘুম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশল, যেমন অক্ষর ও বাক্য স্মরণ করার মত কাজ করতে উৎসাহিত করে।

দিবানিদ্রা না কফি কোনটি উত্তম:এক কাপ কফির চেয়ে একটু বিড়াল ঘুম কি ভালো? মেনড্রেক বলেন, যেহেতু কফি পান স্মৃতিশক্তি কিছু দুর্বল করে তাই চাঙ্গা হলেও ভুল করা স্বাভাবিক কাজে কর্মে। একজন খুব ব্যস্ত মার্কেটিং ব্যবস্থাপক বললেন, আমার ভাতঘুম যদি না হয় তাহলে বেশ টলমল করে শরীর, কাজে মনোযোগ কম আসে। অফিস খোলার দিনগুলোতে প্রতিরাতে একটু করে কম ঘুম হয় রাতে, তাই এই দিবানিদ্রা খুব প্রয়োজন। আমার জন্য এই ভাতঘুম ফিরিয়ে আনে আমার শক্তি।

দিবানিদ্রার টিপস: হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ্ এবং গ্রীসে এবেনস্ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের গবেষণা থেকে জানা যায়, নিয়মিত দিবানিদ্রা হলে মানসিক চাপ কমে ও হূদরোগের ঝুঁকি কমে। পাওয়ার ন্যাপ থেকে শক্তি আহরণ করতে গেলে কি করতে হবে সেসব টিপস্ দিলেন নিদ্রা বিজ্ঞানী ডক্টর সারা সি মেডনিক।

০ নিয়মিত হওয়া। নিয়মিত ন্যাপ সূচী। শ্রেষ্ঠ সময়-মধ্য দুপুর ১টা থেকে ৩টা।

০ সুস্থ সময় ৩০ মিনিট। এলার্মবস্নক সেটকরে দেওয়া যায় ২০-৩০ মিনিট


০ অন্ধকারে ভালো। অন্ধকার ঘরে, নয়ত চোখে ধুলো পরে। ঘুম হবে দ্রুত, ভালো।

০ থাকুন উষ্ণ। একটা চাদর দিন গায়ে। তন্দ্রা গভীর হলে দেহতাপ তো কমবে।

**************************

অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী

পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস
বারডেম, ঢাকা

দৈনিক ইত্তেফাক, ০৯ এপ্রিল ২০১১