স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
রক্তনালীর রোগ
http://health.amardesh.com/articles/3573/1/aaaaaaaaa-aaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 06/19/2012
 
হৃদযন্ত্রের রক্তনালীতে নানা রকম রোগ হতে পারে। তবে এই সব রোগের মধ্যে ধমনীগাত্রে চর্বি জমে রক্তনালী সরু হতে যাওয়াটাই প্রদান। একে বলে এথেরোসেস্নারেবসিস। এভাবে সরু হয়ে যাওয়া রক্তনালী হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করতে পারেনা। ফলে দেখা দেয় এস্কোমিক হার্ট ডিজিজ, মায়োকার্ডিয়াল ইনফেকশন। ফলশ্রুতিতে বুকে ব্যথা বা হার্ট এ্যাটাক হতে পারে। সমাধান হলো: শুরুতে ওষুধ। কাজ না হলে এনিজিওগ্রাম করে রিং পরানো, স্টেন্ট পরানো। আর সমস্যা বেশী হলে বাইপাস সার্জারী জরুরী। অনেক ঝক্কি। তাই পুরনো কথাটা আবার ঝালিয়ে নেওয়া দরকার। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল। তাই জেনে নিন কিছু রিস্ক ফ্যাক্টরের কথা-যেসব কারণে বেড়ে যায় এইসব সমস্যা।

রক্তনালীর রোগ

হৃদযন্ত্রের রক্তনালীতে নানা রকম রোগ হতে পারে। তবে এই সব রোগের মধ্যে ধমনীগাত্রে চর্বি জমে রক্তনালী সরু হতে যাওয়াটাই প্রদান। একে বলে এথেরোসেস্নারেবসিস। এভাবে সরু হয়ে যাওয়া রক্তনালী হূদযন্ত্রের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করতে পারেনা। ফলে দেখা দেয় এস্কোমিক হার্ট ডিজিজ, মায়োকার্ডিয়াল ইনফেকশন। ফলশ্রুতিতে বুকে ব্যথা বা হার্ট এ্যাটাক হতে পারে। সমাধান হলো: শুরুতে ওষুধ। কাজ না হলে এনিজিওগ্রাম করে রিং পরানো, স্টেন্ট পরানো। আর সমস্যা বেশী হলে বাইপাস সার্জারী জরুরী। অনেক ঝক্কি। তাই পুরনো কথাটা আবার ঝালিয়ে নেওয়া দরকার। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল। তাই জেনে নিন কিছু রিস্ক ফ্যাক্টরের কথা-যেসব কারণে বেড়ে যায় এইসব সমস্যা।

ফিক্সড বা স্থায়ী রিস্ক ফ্যাক্টর: এইসব রিস্ক ফ্যাক্টর স্থায়ী বা অপরিবর্তন যোগ্য। মানুষের কোন হাত নেই এখানে। যেমন-(১) বয়স্ক। অর্থাৎ বয়স্করা এই রোগের ঝুঁকিতে থাকেন বেশী। তাই বয়স ৪০ পেরুলে খাবার এবং জীবন যাপনে বাড়তি সচেতনতা দরকার।

(২) পুরুষ: পুরুষরা এই রোগে ভোগেন বেশী। টেস্টোস্টেরণ হরমোনের একটা ভূমিকা আছে এতে।

(৩) পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারে যদি কারো এই রোগ থাকে তো ঝুঁকিটা একটু বেশিই হয়।

পরিবর্তন যোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টর: এটা জানা খুব জরুরী। কারণ পরিবর্তন যোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো অনেকটা আমার আপনার ইচ্ছের উপর নির্ভরশীল। যেমন-

ধূমপান: নতুন করে কিছু বলার নেই। ছেড়ে দিলেই সমাধান।

উচ্চ রক্তচাপ: যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা অবশ্যই চিকিৎকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাবেন, নিয়ম জানবেন। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে ঝুঁকি কমে যাবে অনেকখানি।

ডিসলিপিডিমিয়া: রক্তের চর্বির ভারসাম্যহীনতা। মন্দ কোলেস্টেরলগুলো বেশি হয়ে গেলেই সমস্যা বাড়বে, ঝুঁকিও বাড়বে। খাবার নিয়ন্ত্রণ করবেন, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাবেন। আজকাল কোলেস্টেরল, ট্রাইগিস্নসারাইড কমানোর অনেক ওষুধ বাজারে বেরিয়েছে।

ডায়াবেটিস: ওষুধ, খাদ্য, শৃংঙ্খলা-এই তিনের সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ডায়াবেটিস। নয়তো ডায়াবেটিস অন্য অনেক রোগের সাথে হার্টের রোগকেও ডেকে আনবে।

কম পরিশ্রমের জীবন: চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলে মেডেন্টরী লাইফ স্টাইল। কায়িক পরিশ্রম কম। সারাদিন চেয়ার টেবিলে। পড়াশুনা নয়তো লেখালেখি, মিটিং। ডেস্ক ওয়ার্ক এইসব করে যাদের দিন কাটে তাদের হূদযন্ত্র ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তাই তাদের জন্য পরামর্শ হলো দিনের কিছুটা সময় রাখুন দেঁৗড়-ঝাঁপ বা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়ামের জন্য। লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। কম দূরত্বে রিস্কা বা গাড়ী নয়, হাঁটুন।

খাবার:অনেক বলা হয়েছে। সবাই জানেনও। তবু মনে করিয়ে দেওয়া
খাবার কিন্তু বড় একটা রিস্কফ্যাক্টর। সঠিক ক্যালরিযুক্ত খাবার, চর্বি জাতীয় খাবার, রেডমিট এগুলো পরিহার করতে হবে যতদূর সম্ভব হয়। শাক সবজি, ফলমূল, কম ক্যালরির খাবার খেতে হবে বেশি বেশি।

স্থূলতা: বিশ্বজুড়ে স্থুলতা এখন হূদরোগের খুব বড় একটা ঝুঁকি। শরীরের ওজন কমাতে হবে। ডায়েটিং এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে। স্থূলতার কারণে রক্তনালীতে চর্বি জমে ধমনীর ভেতরটা সরু হয়ে যায়। তাই মোটা লোক হার্ট এ্যাটাকের শিকার হয় বেশী।

হূদরোগ বললে আসলে অনেক কিছু বোঝায়। তবে জন্মগত ত্রুটি ছাড়া হূদরোগ বলতে আর যেসব বোঝায় সেগুলোর অধিকাংশের সূত্রপাত মূলত হূদযন্ত্রে রক্তসরবরাহকারী রক্তনালীল সমস্যা থেকেই সৃষ্টি। সুতরাং হূদযন্ত্র সুস্থ রাখতে এর যত্নটাও খুব জরুরী।

**************************

ডাঃ গুলজার হোসেন উজ্জ্বল


স্বাস্থ্য বিষয়ক নিবন্ধকার

দৈনিক ইত্তেফাক, ০৯ এপ্রিল ২০১১