মূত্র ও জননতন্ত্রের মধ্যে মূত্রথলির ক্যান্সার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই রোগ মহিলাদের থেকে পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই রোগ অতিরিক্ত ধূমপায়ী, যারা রং, কিটনাশক কিংবা রাসায়নিক দ্রব্য নাড়াচাড়া করেন, নিয়মিত বেদনানাশক ঔষধ যেবন করেন, অতিরিক্ত কফি পান করেন কিংবা ওজন কমানোর জন্য চাইনিজ টি গ্রহণকারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এছাড়াও মূত্রথলির পাথর দীর্ঘদিন বা চিকিৎসায় থাকলে বা ঘনঘন সংক্রমণ প্রভৃতিকে এই রোগের কারণ হিসেবে মনে করা হয়।

অ-ধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের মধ্যে মূত্রথলির ক্যান্সার ৪ গুণ বেশি। ধূমপায়ীদের মধ্যে ঝুঁকি নির্ভর করে দিনে কতগুলো সিগারেট খাচ্ছেন, কতক্ষণ খাচ্ছেন এবং কি পরিমাণ ধোঁয়া ফুসফুসে টেনে নিচ্ছেন তার উপর।

সিগারেটের ধোঁয়া রক্তের সংস্পর্শে আসার পর তা থেকে নাইট্রোসএমাইন, ২-ন্যাপথালমাইন ও ৪-এমাইনো বাই ফেনাইল রক্তের সাথে মিশে যায়, যা মূত্রথলির ক্যান্সার হওয়ার পিছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

বেদনানাশক ফেনসিটিন উপাদানের সাথে এনিলিন ডাইর রাসায়নিক গঠনগত সাদৃশ্য রয়েছে। এই এনিলিন ডাই মূত্রথলির ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্য। এছাড়াও মূত্রথলির ক্রনিক সংক্রমক, দীর্ঘদিন মূত্রথলিতে পাথর থাকলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মূত্রথলির ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণ প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া উৎসর্গ নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে আসেন। প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া উপসর্গকে হিমাচুরিয়া বলে। এক্ষেত্রে হিমাচুরিয়ার সাথে ব্যথা থাকে না এবং মাঝে মাঝে প্রস্রাবের সাথে ব্যথাবিহীন রক্ত যেতে দেখা যায়। আরও যে সমস্ত উপসর্গ আছে তা হলো ঘনঘন প্রস্রাব করা, প্রস্রাব ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাযন্ত্রণা করা, কোমরে ব্যাথা ইত্যাদি। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রসাবে রক্ত কণিকা ও পাস সেল পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে মূত্রথলি বা নালিতে সংক্রমণ আছে কি না তা কালচার সেনসিটিভিটি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাম করে মূত্রথলিতে কোন টিউমার থাকলে তা দেখা যায়। ক্যান্সারটি বহুকেন্দ্রিক হতে পারে। তাই মূত্রথলিতে পাওয়া গেলে মূত্রতন্ত্রের অন্য কোথাও আছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়।

মূত্রথলির ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগটি কোন পর্যায়ে আছে তার উপর। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি ধরা পড়লে প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে যন্ত্রের সাহায্যে টিউমারটি কেটে ফেলে টিউমারটি যাতে আবার দেখা না দেয় তার জন্য মূত্রথলিতে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। রোগটি যদি বস্নাডারের মাংসপেশী পর্যন্ত ছড়ায় তা হলে সম্পূর্ণ মূত্রথলি কেটে বাদ দিয়ে পরিপাতন্ত্রের একটি অংশ নিয়ে মূত্রথলি বানিয়ে দেয়া হয়। রোগটি যদি শরীরে ছড়িয়ে যায় তবে কেমোথেরাপির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়। আমাদের দেশের ইউরোলজিস্টরা অত্যন্ত সাফল্যজনকভাবে মূত্রাধার বানানসহ এই রোগের চিকিৎসা করছেন।

**********************
লেখকঃ ডাঃ মুহাম্মদ হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, ইউরোলজিষ্ট
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
চেম্বারঃ ঢাকা রেনাল হাসপাতাল,
৫ গ্রীন কর্ণার, গ্রীন রোড, ঢাকা।

দৈনিক ইত্তেফাক, ০৫ এপ্রিল ২০০৮