স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
শিশুদের হঠাৎ করে হাত ধরে টানবেন না
http://health.amardesh.com/articles/368/1/aaaaaaa-aaaa-aaa-aaa-aaa-aaaaaa-aa/Page1.html
Health Amardesh
 
By Health Amardesh
Published on 04/9/2008
 

রাতুলের বয়স তিন বছর। দুষ্টুমি, লাফালাফি কোনটাই বাদ নেই। বাবার হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে হঠাৎ একটা রিক্সা আসাতে বাবা রাতুলের হাত ধরে টান দিয়ে সরিয়ে নেয়। রাতুল কান্নায় চিৎকার দিয়ে ওঠে। বাবাকে বলে ব্যথা ব্যথা। বাবা মা অস্থির হয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে দেখা যায় রাতুলের ডান হাত নাড়াতে পাচ্ছে না, ধরলেই ব্যথা বলে চিৎকার দিচ্ছে,। এলবো জয়েন্ট কোন ভাবে কাজ করছে না। রাতুলের হাতের এই অবস্থাকে বলে পুলড্‌ এলবো (Pulled Elbow)


শিশুদের হঠাৎ করে হাত ধরে টানবেন না

রাতুলের বয়স তিন বছর। দুষ্টুমি, লাফালাফি কোনটাই বাদ নেই। বাবার হাত ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে হঠাৎ একটা রিক্সা আসাতে বাবা রাতুলের হাত ধরে টান দিয়ে সরিয়ে নেয়। রাতুল কান্নায় চিৎকার দিয়ে ওঠে। বাবাকে বলে ব্যথা ব্যথা। বাবা মা অস্থির হয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে দেখা যায় রাতুলের ডান হাত নাড়াতে পাচ্ছে না, ধরলেই ব্যথা বলে চিৎকার দিচ্ছে,। এলবো জয়েন্ট কোন ভাবে কাজ করছে না। রাতুলের হাতের এই অবস্থাকে বলে পুলড্‌ এলবো (Pulled Elbow)


কি হয়ঃ
পুল্‌ড্‌ এলবো হচ্ছে হাতের রেডিয়াস নামক হাড়ের উপরিভাগে যাকে বলে রেডিয়াল হেড এনিউলার লিগামেন্ট থেকে সরে যায় অর্থাৎ ডিষ্টাল ডিসলোকেশন হয়। ফলে ব্যথা ও হাতের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। কেননা শিশুদের হাতের জয়েন্টে লিগামেন্ট এবং হাড় অপরিপক্ক থাকে ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এক্স-রে করলে তেমন কিছু পাওয়া যায় না। আর কোন পরীক্ষারও প্রয়োজন নেই। এরকম অবস্থায় অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অভিজ্ঞ হাঁড়ের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন।

চিকিৎসাঃ
শিশুকে ব্যথা মুক্ত শান্ত রাখতে হবে। হাত নড়াচড়া না করাই ভাল। প্রয়োজনে শান্ত রাখার জন্য এ্যান্টিহিষ্টামিন এবং ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল বা আইব্রফেন বাজারে প্রোফেন বা ইনফ্লেম নামে পাওয়া যায় বয়স বা ওজন হিসেবে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়াবেন।

যা করা হয়ঃ
হাতকে সুন্দরভাবে ধরে রিডাকশন করতে হবে। অজ্ঞান করাতে হবে না বা কোন ইনজেকশনও দিতে হবে না অবশ করাতে। শুধু এলবো জয়েন্ট (হাতের মাঝে) এক হাত দিয়ে ধরে আর এক হাতে শিশুর হাতের সামনের দিকে ধরে একটু টান দিতে হবে এবং একদিকে বাকা করতে হবে (সুপাইনেট)। এর পর একটু করে আস্তে উপরের দিকে চাপ দিতে হবে এলবো জয়েন্টের দিকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে হাতটি আগের পজিশনে চলে আসবে। একটু কাঁদলেও যাদুর মত কাজ করবে এ চিকিৎসা। সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ হবে সোনামনি।

সুতরাং খেলার ছলেই হোক বা যে কোন কারণেই হোক আপনার সন্তানকে হাত ধরে হঠাৎ টানবেন না। অনেকে হাত ধর সোনমনিদের দোল দেয়, টান দিয়ে উপরে ওঠায়, ঘাড়ে নেয়। এটা না করাই উচিত। খেলার কারণে বা হঠাৎ হাতে টান পড়ার কারণে আপনার সোনামনি যেন ব্যাথা না পায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

**********************
০ ডঃ মুজিবুর রহমান মামুন
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র কনসালটেন্ট
নিবেদিতা শিশু হাসপাতাল লিঃ
ওয়ারী, ঢাকা।

দৈনিক ইত্তেফাক, ০৫ এপ্রিল ২০০৮