লিভার সিরোসিসের রোগীদের কি পাইলস বেশি হয়?
লিভার সিরোসিসে সাধারণত রক্তবমি হয়। পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়ার সমস্যা কম। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের কারণে রোগীদের পাইলস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে না। অবশ্য এ ক্ষেত্রে পায়ুপথে অতিরিক্ত ফুলে ওঠা শিরার (জবপঃধষ াধৎরপবং) দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু এটিকে পাইলসের পর্যায়ে ফেলা যায় না। পাইলস ও রেকটাল ভ্যারিসেস সম্পূর্ণ আলাদা রোগ। ডা. হসকিং ১০০ জন সিরোসিস রোগীর ওপর গবেষণা করে দেখেছেন যে শতকরা ৪৪ জনের পায়ুপথে ভ্যারিসেস (অহড়ৎবপঃধষ ঠধৎরপবং) রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো এই রোগীদের শতকরা ৪১ জনের পাইলস বা হেমোরয়েড রয়েছে। এখানে উলে্নখ্য, সর্বসাধারণের অর্থাৎ যাদের লিভার সিরোসিস হয়নি তাদের ও শতকরা ৪১% জনের পরীক্ষা করলে পাইলস পাওয়া যাবে।
চিকিৎসাঃ এ রোগে পায়ুপথে রক্ত গেলে পোর্টাল হাইপারটেনশনের চিকিৎসা করতে হবে এবং পায়ুপথে অপারেশন করে রক্ত বন্ধ করতে হবে, তবে এ অপারেশন পাইলসের অপারেশন নয়।

হার্টের রোগীর পাইলস
অনেকে আছেন পাইলসকে অবহেলা করেন। যদি পাইলস থাকা অবস্থায় কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তাহলে হৃদরোগের চিকিৎসার আগে পাইলস অপারেশন করে আসা প্রয়োজন। কারণ হৃদরোগ অপারেশনের পর রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধক ওষুধ খেতে হবে বহু দিন। তখন পাইলসের রক্ত যাওয়ার পরিমাণ বিপজ্জনক-ভাবে বেড়ে যাবে। রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধকারী ওষুধের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এসপ্রিন, ডিসপ্রিন ও ইকোসপ্রিন। অনেক উচ্চ রক্তচাপের রোগীও এসপ্রিন, ডিসপ্রিন ও ইকোসপ্রিন জাতীয় ওষুধ নিয়মিত খাচ্ছেন। এগুলো দেয়া হয় হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য। ওষুধটি রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। এমতাবস্থায় পাইলসের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা খুবই কষ্টকর। অতএব অবহেলা না করে সময় থাকতে পাইলসের চিকিৎসা করে নেয়া জরম্নরি।

**************************
অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক
বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ, চেয়ারম্যান, কলোরেকটাল সার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
চেম্বারঃ জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডেশিপ হাসপাতাল, ৫৫, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা। দৈনিক নয়া দিগন্ত, ৬ এপ্রিল ২০০৮