‘ডাক্তার সাহের দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা, নাওয়া-খাওয়া আজ ৩ দিন যাবৎ বন্ধ হয়ে গেছে, একটু ফিলিং করে দেনতো।’

আমাদের দেশে বেশিরভাগ রোগীর মুখেই এই কথাটি শোন যায়। তবে এ কথাটির মধ্যে যে ভুলটি রয়েছে, তা হলো দাঁতের সঠিক চিকিৎসা সম্বন্ধে রোগীর ভুল ধারণা। আর এই ধারণাটি হল দাঁতটিতে ফিলিং করা হবে নাকি রুট ক্যানেল করা হবে।

দাঁতে তিনটি স্তর থাকে। প্রথম স্তর এনামেল, দ্বিতীয় স্তর ডেন্টিন এবং সর্বশেষ এবং মাঝের স্তরের নাম পাল্প বা দন্তমজ্জা। যখন দাঁতে ক্যারিজ বা দন্তক্ষয় হতে শুরু করে তখন প্রথমে তা এনামেল দিয়ে শুরু করে যথাক্রমে নিচের দিকে বিস্তার লাভ করে। এই দন্তক্ষয় যখন ডেন্টিন পর্যন্ত পৌঁছায় তখন দাঁতে ফিলিং দিয়ে দাঁতটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রেও কথা আছে যদি দেখা যায় দাঁতটি বেশি Sensative -এর প্রায় দন্তমজ্জার কাছাকাছি তখন দাঁতে ফিলিং এর নিচে Subbase হিসাবে এরকম material দেয়া হয় যাতে ঠান্ডা, গরম এবং অন্যান্য খাবারের অনুভূতি বেশি না হয় এবং Secondary Dentine Form  করে দন্তমজ্জা রক্ষা করে।

তারপর Permanant Filling  দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু যদি দেখা যায় দাঁতের সংক্রমণ ডেন্টিনকে ছাড়িয়ে Pulp বা দন্তমজ্জাকে ছুঁয়ে গেছে সেক্ষেত্রে আর Filling করা চলবে না। যদি কেউ ভুল করে কোন ফিলিং দেয়, তবে সেখানে ব্যথা আরো বেশি হবে দাঁতের মধ্যকার পচন ব‘গুলো বাইরে বের হতে না পেরে দাঁতের গোড়া দিয়ে জমা হবে এবং তা ফুলে যেতে পারে এবং Sincus দিয়ে তার পুঁজ বের হয়ে আসবে। যা হোক এ ক্ষেত্রে তখন Patient-এর সংশিস্নষ্ট দাঁতে Root Canal করতে হবে। Root Canal হচ্ছে ঐ দাঁতের উপযুক্ত Treatment এক্ষেত্রে Root Canal -এর আগে ঐ দাঁতের একটা এক্সরে করে দাঁতের অবস্থা সম্বন্ধে ভালভাবে বুঝে নিতে হবে।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ এবারে বুঝলেন তো রুট ক্যানেল এবং ফিলিং-এর পার্থক্য। রোগী তো আর জানেন না তার দাঁতের উপযুক্ত চিকিৎসা কোনটি তাই এটা আমরা যারা ডেন্টাল সার্জন আছি, তারাই বুঝব রোগীর দাঁতের কাজ কি হবে। তবে বর্তমানে অনেক কোয়াক আছে যারা নিজেকে ডাক্তার বলে দাবি করে, তাদের কাছে না গিয়ে একজন ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিয়ে আপনার দাঁতের সুচিকিৎসা করান। সময় থাকতে দাঁতকে বাঁচান-দাঁতকে মর্যাদা দিন।

**************************
ডাঃ নাহিদ ফারজানা,
সিনিয়র লেকচারাল, সিটি ডেন্টাল কলেজ এন্ড হস্‌পিটাল, চেম্বারঃ নাহিদ ডেন্টাল কেয়ার, ২১৬/বি, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫। 
দৈনিক ইত্তেফাক, ১২ এপ্রিল ২০০৮