চুলের যত্নে কন্ডিশনারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কন্ডিশনার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন­
১। ইনস্ট্যান্ট কন্ডিশনারঃ এটি শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে লাগাতে হয় এবং ২-৩ মিনিট রেখে আলতো করে ধুতে হয়। হালকা ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য উপকারী ইনস্ট্যান্ট কন্ডিশনার।
২। ডিপ/গভীর কন্ডিশনারঃ এটিও একই নিয়মে ব্যবহার করতে হয় কিন্তু ৫-১০ মিনিট চুলে রেখে দিতে হয়। রাসায়নিক উপাদানে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য ডিপ কন্ডিশনার প্রয়োজন।
৩। লিভ ইন কন্ডিশনারঃ চুল শ্যাম্পু করার পর তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে তারপর সেই চুলে লিভ ইন কন্ডিশনার লাগাতে হয়। লিভ ইন কন্ডিশনার ধুয়ে ফেলতে হয় না।
খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য লিভ ইন কন্ডিশনার উপযুক্ত।
চুলে তেল দেয়াঃ চুলে তেল দেয়া এক ধরনের কন্ডিশনার। সাধারণভাবে বিশ্বাস করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলেন, তেল চুল গজাতে বা চুলে পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে না। তবে তেল ম্যাসাজ করলে স্ক্যালেন্ড রক্ত সঞ্চালন হয় এবং চুল বাহ্যিকভাবে চকচকে, মসৃণ হয়।
? হালকা গরম করে যেকোনো তেল মাথায় সপ্তাহে দু’দিন ম্যাসাজ করা যেতে পারে।
? শ্যাম্পু করার ১-২ ঘণ্টা আগেও তেল মাথায় লাগানো যেতে পারে।
? সুগন্ধি তেল পরিহার করাই ভালো।
? চুল স্বাভাবিকভাবেই তৈলাক্ত হলে তেল না লাগানোই ভালো। কেননা এতে খুশকি হতে পারে।
? শুষ্ক স্ক্যাল্পে অলিভ, নারিকেল, সানফ্লাওয়ার, বাদাম তেল যেকোনোটাই লাগাতে পারেন।
চুলের জন্য ব্যবহৃত কিছু সামগ্রীঃ শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, তেল ছাড়াও চুলে বর্তমানে আরো কিছু উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো আসলে চুলের স্টাইলের কারণে ব্যবহার করা হয়।
হেয়ার স্প্রেঃ এটি এমন এক ধরনের সলিউশন যা চুল বাঁধার পরে বা স্টাইল করার পরে চুলে স্প্রে করলে চুল স্টাইলমতো থাকে। চুলের হেরফের হয় না। তবে স্প্রে চুলতে শক্ত করে দেয়। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের জন্য ক্ষতিকরও বটে। তবে প্রয়োজনে হেয়ার স্টাইল বজায় রাখতে হেয়ার স্প্রে’র জুড়ি নেই। স্প্রে ব্যবহারের পরে চুল ভালো করে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনিং করবেন।
হেয়ার জেলঃ তরুণ প্রজন্মের কাছে জেল খুব জনপ্রিয়। জেল দিয়ে নানাভাবে চুল আঁচড়ানো এবং বাঁধা আজকাল হাল ফ্যাশান। তবে নিয়মিত ব্যবহারে এটিও ক্ষতিকর।
মুজঃ এটি ফোমের মতো এবং চুলকে শক্ত করে না। ফোমের মতো হাতে নিয়ে চুলে মেখে তারপর চুল ব্লো ড্রাই বা অন্য স্টাইল করা হয়।

**************************
ডা. ওয়ানাইজা
চেম্বারঃ যুবক মেডিক্যাল সার্ভিসেস , বাড়িঃ ১৬, রোডঃ ২৮ (পুরাতন), ১৫ (নতুন), ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা। 
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২০ এপ্রিল ২০০৮