ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
যে ওষুধের ক্রিয়া আছে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে-বিষয়টি নিয়ে আগে একবার আলোচনা করা হয়েছে। সম্প্রীতির (কাল্পনিক নাম) মা কয়েক মাস ধরে টিউবারকিউলোসিসের (যক্ষ্মা) ওষুধ খেয়েছিলেন। প্রথম দিকে তাঁর লালচে রঙের প্রস্রাব হতো ওষুধ খাওয়ার পর। ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন তিনি। এই যে প্রস্রাবের রং লালচে হয়ে যাওয়া, এটাই এ-জাতীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এ ছাড়া বমি বমি ভাব কিংবা ক্ষুধা না-লাগা এবং কারও কারও বদহজম হয়ে থাকে। ত্বকে চাকা চাকা দাগও দেখা দিতে পারে। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কিন্তু যদি জন্ডিসের ভাব কিংবা দৃষ্টিশক্তির কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

সাইফুল সাহেব (কাল্পনিক নাম) একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপক। প্রায়ই তাঁর নাক দিয়ে পানি ঝরে। এ নিয়ে তাঁর খুব বেশি ভাবনাও নেই।

এ রকম অবস্থায় তিনি অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ খেয়ে নেন এবং এতেই ভালো থাকেন। সেট্রিজিন, লোরাটিডিন ইত্যাদি অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ এ ধরনের উপসর্গে প্রায়ই ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সাইফুল সাহেবের ক্ষেত্রে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না, কিন্তু তাঁর এক সহকর্মীর ক্ষেত্রে নানা পার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঝিমুনি কিংবা ঘুম ঘুম ভাব হয় এ ওষুধ খেলে। কারণ তিনি নিজেই গাড়ি চালান। এ জন্যই চিকিৎসকেরা বলে থাকেন, যাঁরা নিজেরা গাড়ি চালান, তাঁদের ক্ষেত্রে এ-জাতীয় ওষুধ সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া পেটের গণ্ডগোল, মাথাধরা, গলা শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

গালিবের বাবা ডায়াবেটিসের রোগী। নিয়ম মেনে নিয়মিত ওষুধ খেয়ে থাকেন। হঠাৎ করে মাঝেমধ্যে তাঁর হাত-পা অবশ হয়ে যায়। তখন মিষ্টিজাতীয় কিছু একটা খেয়ে নেন এবং এতেই তিনি ভালো হন।

ওষুধবিজ্ঞান বলে, যাঁরা নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ খান কিংবা ইনসুলিন নেন, তাঁদের রক্তে চিনির পরিমাণ হঠাৎ করে কমে যেতে পারে। এটাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় ভাব দেখা দিতে পারে। এ রকম অবস্থায় সারা শরীরে হঠাৎ ঘাম হওয়াটাও বিচিত্র নয়। 

**************************
সুভাষ সিংহ রায়
ফার্মাসিস্ট
প্রথম আলো, ২৩ এপ্রিল ২০০৮