চকোলেট আমেরিকার কোকোয়া নামক একটি গাছের বীজ থেকে আবিষ্কৃত হয়। প্রথম দিকে এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেক কিছুই অজানা ছিল। বর্তমানে বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে প্রকাশিত হচ্ছে চকোলেট সম্পর্কে বিচিত্র তথ্য। চকোলেট হচ্ছে চর্বিজাতীয় খাদ্য উপাদানে ভরপুর একটি খাবার, যার অর্ধেক হচ্ছে কোলেস্টেরল যা সম্পৃক্ত চর্বি হিসেবে চিহ্নিত এবং বাকি অংশে রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত অসম্পৃক্ত চর্বি যা ওলিক অ্যাসিড নামে পরিচিত। ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির এক গবেষক বলেন, চকোলেটে রয়েছে প্রচুর এন্টি-অক্সডেন্ট ফেনোলিকস যা হার্টের জন্য উপকারী। গবেষকরাও বলেন, চকোলেট এবং রেড ওয়াইন উভয়ের মধ্যেই যে ফেনোলিকস আছে তা হার্টের জন্য ক্ষতিকর এলডিএলের মাত্রাকে বাড়াতে দেয় না। তবে বিজ্ঞানীরা একটা ব্যাপারে কিছুটা দ্বিধান্বিত, তা হচ্ছে চকোলেটের ফেনোলিকস আর রেড ওয়াইনের ফেনোলিকসে যে সামান্য তফাত রয়েছে তা কিভাবে রক্তে শোষিত হচ্ছে এবং এটা কি আদৌ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাচ্ছে কি না? এ ছাড়া চকোলেট যে রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে সে সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ এখনো সংগ্রহে নেই, তবে চকোলেটে আছে উচ্চমাত্রার চর্বি। অপর এক প্রকাশনায় মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেন, চকোলেট যখন মুখে নিয়ে চোষা হয় তখন তার স্বাদ ও গন্ধে জিহ্বার স্বাদগ্রন্থি উত্তেজিত হয়, যার ফলে মস্তিষ্ক থেকে এনডরফিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয় যা আমাদের প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া চকোলেটের থিওব্রোমিন ও ফিনাইল ইথাইলামিন মস্তিষ্ককে চাঙ্গা করে উদ্দীপনা জোগায়। তাই দেখা যাচ্ছে যে, খাবার হিসেবে চকলেটকে ততটা খারাপ বলা যায় না। অন্তত শিশু ও তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে তো নয়ই।
নিম্নে ১০ গ্রাম ভালো চকোলেটের পুষ্টিগুণ দেয়া হলোঃ
প্রোটিন বা আমিষ = ১.৯ গ্রাম
ফ্যাট বা চর্বি = ২.২ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা = ১.১ গ্রাম
ক্যালোরি = ৩১ কিলোক্যালরি এবং প্রচুর পরিমাণে লৌহ-খনিজ পদার্থ রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

**************************
ডা. সুমাইয়া নাসরিন
দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৭ এপ্রিল ২০০৮