সমস্যাঃ আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র| আমার এক চোখ ট্যারা| এ জন্য সব জায়গায় আমাকে দুঃখ পেতে হয়| যখন দেখি একটা বাচ্চাছেলে পর্যন্ত আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে, তখন জীবনকে অর্থহীন মনে হয়| প্রথম আলো-য় এ বিষয়ে আগেও লেখা প্রকাশিত হয়েছে| কিন্তু তাতে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি| সত্যিকার অর্থে, ট্যারা চোখের চিকিৎসা করালে তা সাধারণ একটা মানুষের চোখের মতো হবে কি না, অপারেশন করলে খরচ কত হতে পারে, কোথায় করাতে হবে, কত দিন লাগবে ইত্যাদি বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব| এতে চোখ কি পুরোপুরি অপসারণ করা হয়? অপারেশন করানোর পর দেখতে কোনো সমস্যা হবে কি না, চোখে কোনো দাগ থাকবে কি না ইত্যাদি জানতে চাই|
পরামর্শঃ চোখ যদি জ্নগতভাবে ট্যারা থাকে তবে এর চিকিৎসা খুব তাড়াতাড়ি শুরু করা উচিত এবং এতে ফলও খুব ভালো হয়| অবশ্য চিকিৎসা মানেই অপারেশন নয়| পাওয়ারজনিত কারণে যদি ট্যারা হয় তবে চশমা নিয়মিত পরলে চোখ ভালো হয়ে যায়| আবার অনেক ক্ষেত্রে অপারেশন দরকার হয়| দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে অপারেশন হলে ফল ভালো হবে| কারণ দুটো চোখ দিয়ে একই সঙ্গে একটা জিনিস দেখা যায় এবং এর গঠনপ্রক্রিয়া শুরু হয় জ্নের সঙ্গে সঙ্গে, শেষ হয় আট বছরের মধ্যে| কোনো শিশুর চোখ যদি ট্যারা থাকে তবে সে এক চোখ দিয়ে দেখবে, অন্য চোখটি ট্যারা থাকবে| সে জন্য যত তাড়াতাড়ি ট্যারা চোখ সোজা করা যাবে তত তাড়াতাড়ি দুটো চোখ দিয়ে একসঙ্গে দেখার প্রবণতা বাড়বে এবং চোখও সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতো দেখাবে| আপনার মতো বয়সেও ট্যারা চোখের পারেশন করে তা সোজা করা যায়| তবে সেটা শুধু সৌন্দর্যের জন্য| দুই চোখ দিয়ে একসঙ্গে দেখা যাবে না|

আপনার চোখ একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে| সঠিকভাবে চক্ষু পরীক্ষা করে তবেই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে| সরকারি চক্ষু হাসপাতালে অপারেশন করালে খরচ অনেক কম হবে| চোখ অপসারণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না| চোখে কোনো দাগ থাকবে না| তবে অপারেশনের পর চোখে দেখতে অসুবিধা হবে কি না তা পরীক্ষার মাধ্যমে অপারেশনের আগেই বোঝা যাবে|

***********************************
লেখকঃ অধ্যাপক ডা· আভা হোসেন
বিভাগীয় প্রধান, চক্ষু বিভাগ
মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন অ্যান্ড হসপিটাল, ঢাকা এবং অনারারি প্রফেসর, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, টাঙ্গাইল।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো , ৩১ অক্টোবর ২০০৭