হাসিতে যেন তার মুক্তো ঝরে। তার মুখের হাসি যেন পুর্ণিমার চাঁদ-হাসি নিয়ে এমনই কত যে উপমা আমরা দিয়ে থাকি তার কোনো হিসাব নেই। ছোটবেলার ফোকলা দাঁতের হাসি মায়ের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। কিন্তু পরিণত বয়সে যখন নিজেকে সেই ফোকলা দাঁতের অনুভুতি নিয়ে হাসতে হয় তখন আর কষ্টের সীমা থাকে না। আমাদের মুখে প্রাপ্ত বয়স্কদের ৩২টি স্হায়ী দাঁত থাকে। প্রতিটি দাঁতের আকৃতি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হলেও মুখের ভেতরে তা সুবিন্যাস্তভাবেই থাকে। একের পর এক দাঁত সাজানো থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দু’দাঁতের মাঝে কিছুটা ফাঁকা থাকতে পারে। পেছনের দিকের দাঁতের মাঝে ফাঁকা থাকার কারণে খাদ্য আটকে নানা রকম সমস্যা দেখা দিলেও সৌন্দর্যের দিক দিয়ে খুব একটা সমস্যার সৃষ্টি হয় না। কিন্তু এই ফাঁকাটি যদি আমাদের সামনে দুটো দাঁতের মাঝখানে হয়, তবে তা সৌন্দর্য রক্ষায় বড় একটা খুঁত হিসেবে দেখা দেয়। আমাদের উপরের মাঢ়ির সামনের যে দুটো দাঁত অপেক্ষাকৃত একটু বড় অনেকটা চারকোনার মতো, সেই দুটো দাঁতের মাঝে কারো কারো বেলায় একটি বিশেষ ফাঁকা লক্ষ্য করা যায়। জন্মগতভাবেই এ ত্রুটি চোখে পড়ে। এ ধরনের ফাঁকাকে ডেন্টাল সার্জনরা ডায়াস্টিমা বলে থাকেন।

ডায়াস্টিমা প্রকৃতিগতভাবে স্হায়ী দাঁতের একটি সমস্যা। কিন্তু এর জন্য বস্তুত কেউই দায়ী নয়। সমস্যা থাকলে তার সমাধান নিশ্চয়ই আছে। ডেন্টাল সার্জনরা খুবই নিয়মতান্ত্রিক ও সহজ কিছু চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন। কিছুদিন আগেও দাঁতের এই বিশেষ ফাঁকার কারণে মেয়েদের কপালপোড়া, অভাগী ইত্যাদি নানান সব অসংলগ্ন ভুষণে আখ্যায়িত করা হতো। অনেক শাশুড়ি হবু বউ দেখতে গিয়ে আঁতকে বের হয়ে আসতেন। বলতেন এ মেয়ে ঘরে নিলে আমার ছেলের সর্বনাশ হবে। এরকম অনেক ধরনের গুঞ্জনার শিকার হতে হতো মেয়েদের। এ কথাটি অবশ্য এখন আর তেমন একটা শোনা যায় না। তবে তার ছোঁয়া কারো কারো মনে যে দাগ কাটে না, নিশ্চিত করে তাও বলা যায় না। এক্ষেত্রে গুঞ্জনার পদ্ধতি হয়ত বদল হয়েছে, কিন্তু ফলাফল থেকে গেছে সেই আগের মতোই। ছেলেদের বেলায়ও বিষয়টি কম যায় না। মায়েরা না হলেও মেয়েরা ঠিকই সচেতন। হবু স্বামী নির্বাচন ব্যক্তিত্বের মাপকাঠিতে ডায়াস্টিমার উপস্হিতি যেন বড়ই অস্বস্তিকর।

অন্যের জন্য না হোক, নিজের সন্তুষ্টির বিষয়টিও কিন্তু কম নয়। ডেন্টাল সার্জনরা ডায়াস্টিমা সমস্যা সমাধানে বেশকিছু চিকিৎসা পদ্ধতি দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে একটি হলো- অর্থোডোনটিক চিকিৎসা পদ্ধতি। যেখানে ব্রেসেস নামক বন্ধনীর সাহায্যে এই বিশেষ ফাঁকা জায়গা কমিয়ে আনা যায়। এটি একটু ব্যয়বহুল। তবে পোরসেলিন ভেনিয়ার অপেক্ষাকৃত স্বল্পমুল্যের চিকিৎসা পদ্ধতি, যাকে ইনস্ট্যান্ট অর্থোডোনটিক চিকিৎসা বলা হয়। অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশে দুটো পদ্ধতির ব্যয় কম হলেও সবচেয়ে স্বল্পমুল্যের পদ্ধতিটি হলো কনভেনশনাল ক্রাউন-ব্রিজ। এটি খুবই চমৎকার একটি পদ্ধতি। অনেক সময় এটি পোরসেলিন ভেনিয়ার থেকে বেশি কার্যকর। ডায়াস্টিমার সমস্যার সমাধান এখন আপনার হাতের নাগালে। তাই সৌন্দর্যহীনতার সঙ্গে সঙ্গে আপনি যেন ব্যক্তিত্বহীনতায় আক্রান্ত না হয়ে পড়েন সেজন্য অভিজ্ঞ একজন ডেন্টাল ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে আপনার আর্থিক সামর্থø অনুযায়ী যে কোনো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন।

**************************
ডা. আওরঙ্গজেব আরু 
লেখকঃ কসালটেন্ট
ইলাহী ডেন্টাল কেয়ার, মেরুল বাড্ডা, ঢাকা।
দৈনিক আমার দেশ, ১৩ মে ২০০৮