উদ্দেশ্য ছিল, তাদের ক্যালরি গ্রহণ দ্বিগুণ বাড়ানো এবং দেহের ওজন ১০-১৫ শতাংশ বাড়ানো, যাতে যকৃতের স্বাস্থ্যের ওপর এদের প্রভাব লক্ষ করা যায়। ফাস্টফুড গ্রহণের সূচনা করার আগে তাদের রক্তের নমুনা নেওয়া হলো এবং পর্যবেক্ষণকালে নিয়মিত রক্তের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হলো। যকৃতের এনজাইম ও চর্বির মান মাপা হলো।

লক্ষণ-উপসর্গ ছাড়াই যকৃতের এনজাইম-যেমন এলানিন এমাইনোট্রান্সফারেজ (এএলটি) মেপে অনেক সময় যকৃতের ক্ষতি সম্পর্কে ধারণা করা যায়।

যেসব লোক খুব বেশি মদ্য পান করে অথবা হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে যারা আক্রান্ত হয়েছে, তাদের এএলটি এনজাইম খুব উঁচু মানে পৌঁছে যায়। তবে অনেকের কোনো স্পষ্ট কারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই রক্তে এএলটি বৃদ্ধি পেতে পারে।

যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমলে একে বলে মেদবহুল যকৃৎ বা ফ্যাটি লিভার। চার সপ্তাহ শেষে, ফাস্টফুড যারা খেয়েছিল তাদের ওজন বাড়ল গড়ে ৬·৫ কিলোগ্রাম, পাঁচজনের ওজন বাড়ল ১৫ শতাংশ, একজনের ওজন মাত্র দুই সপ্তাহে যোগ হলো বাড়তি ১২ কেজি। ফাস্টফুড খেয়ে ঠিক এক সপ্তাহ পর এএলটির দ্রুত বৃদ্ধি ঘটল আর চার সপ্তাহ পর বাড়ল চারগুণ। সূচনাপূর্ব মান ২২ ইউনিট/লিটার থেকে বেড়ে দাঁড়াল ৯৭ ইউনিট/লিটার।

১১ জনের মধ্যে এএলটি এমন মানে পৌঁছাল, যা নির্দেশ করে যকৃতের ক্ষতি ঘটেছে। এই বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল দেহের ওজন বৃদ্ধি, সেই সঙ্গে চিনি ও শর্করা গ্রহণও তাদের বেড়েছিল।

তাদের মধ্যে একজনের হলো মেদল যকৃৎ, তবে অন্য লোকদের টেস্ট রেজাল্ট থেকে লক্ষ করা গেল যে যকৃৎ কোষগুলোর চর্বি ক্রমান্বয়ে বেড়েছিল। সেই সঙ্গে যুক্ত ছিল ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সমস্যাটি একটি বড় রকমের শারীরিক অসুস্থতা মেটাবলিক সিনড্রোমের অন্তর্গত। প্রাণরাসায়নিক অনেকগুলো সমস্যা একত্রে ঘটায় মেটাবলিক সিনড্রোমের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হলো ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের বড় ঝুঁকি।

যারা স্বাভাবিক খাবার খেয়েছিল তাদের মধ্যে তেমন কোনো সমস্যাই ঘটল না। আমাদের দেশেও বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় গ্রহণের প্রবণতা ক্রমে বেড়ে চলেছে। এই প্রবণতাটি রোধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে· যদিও ব্যাপারটি কঠিন।

এই খাবার খেয়ে এবং শুয়ে-বসে থেকে স্বাস্থ্যের যে বড় ক্ষতি হচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের, সে সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা তো যায় সবাই মিলে।

এ ছাড়া আমাদের দেশে বাইরের খাবার অনেক রেস্তোরাঁয় জীবাণুদূষিত; একে রোধ করা যাবে কী করে? তাই বিপদ আরও বেশি। কেবল মেদস্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের ঝুঁকিই নয়, যকৃতের রোগ ও আন্ত্রিক রোগের প্রকোপও তো কম নেই। মানুষ যদি এ ব্যাপারে সচেতন না হয় তাহলে একে রোধ করা কঠিন। কেবল আইন করে হবে না এর প্রতিরোধ। বাইরে মানুষকে খেতেই হয় এ দেশে, কিন্তু কবে মানুষ খেতে পারবে নিরাপদ খাবার?

তথ্যসূত্রঃ British Medical Journal, Fast food based hyper alimentation can induce rapid and profound elevation of serum ALT.
 
************************
দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ মে ২০০৮
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা