অনেকেই আছেন যারা সামান্য দুঃচিন্তা, মানসিকচাপ বা অবসাদ, বিষণ্নতা অনিদ্রা ইত্যাদি মনোগত সমস্যায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত ঔষধ খেয়ে থাকেন। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ ধরনের ঔষুধ সেবনের প্রবণতা বেশী লক্ষ্য করা যায়। রিলাক্সেন, ডিএংজিট, রেংজিট, মুডন, ক্লোবাজাম ইত্যাদি হরেক নামের মনোগত ওষুধ সেবনে অনেকেই রীতিমত অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ অন্যান্য ঔষধের মতো সাইকিয়াট্রিক ঔষধেরও রয়েছে বিবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। মানসিক সমস্যায় সাইকিয়াট্রিক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন যেমন অনেক ক্ষেত্রে, জরুরী তেমনি পরামর্শ বিহীন ওষুধ সেবন এবং ওষুধ ব্যবহারে অসর্তকরা হীতে বিপরীত হতে পারে। সাইকেয়াট্রিক ড্রাগ গ্রহণে বিশেষজ্ঞদের কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শ। এক· কেবলমাত্র ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত নির্দেশিত মাত্রায় ওষুধ খেতে হবে। ভুলবশতঃ একদিন নিয়মিত ডোজ খেতে ভুলে গেলে পরবর্তীতে ডাবলডোজ কখনও খাওয়া যাবে না। দুই· ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন বন্ধ করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে নতুন সমস্যা এবং ওষুধসেবন রহিত উপসর্গ (ঘর্ধদঢরটষটফ ্রহবর্যমব্র) দেখা দিতে পারে।

তিন· ওষুধ সেবনকালীন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসককে অবহিত করুন।

চার· আপনার ডাক্তারের কাছে মানিসক সমস্যার সাথে শারীরিক সমস্যার কোন উপসর্গ থাকলে বলুন। পাঁচ· আপনার ব্যবহৃত ওষুধের নাম এবং পূর্ববর্তী প্রেসক্রিপশন ডাক্তারকে জানান। অ্যাসপিরিন, অ্যালকোহল ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ডাক্তারকে অবহিত করুন। গাড়ী ড্রাইভ করলে বা ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে ডাক্তারের বিধি নিষেধ মেনে চলুন। ছয়· বন্ধু-বান্ধবদের পরামর্শ নয়-বরং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

*****************
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৭ মে ২০০৮