অতিরিক্ত চর্বি জমে আমাদের শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা দশভাগ বেড়ে গেলে আমরা তাকে মুটিয়ে যাওয়া বা ঙনবংরঃু বলে থাকি। সাধারণত মাঝ বয়সে পৌঁছানোর পরপরই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা শুরু হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে যে কোনো বয়সেই একজন মানুষ মুটিয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ এবং কম শারীরিক পরিশ্রমই এর প্রধান কারণ। এছাড়া কিছু হরমোনজনিত রোগ, পারিবারিক প্রবণতা এবং কোনো কোনো ওষুধও এর জন্য দায়ী। আমাদের দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশের কোটি কোটি ভগ্নস্বাস্হ্য মানুষের পাশাপাশি কারো কারো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে অতিরিক্ত ওজন কিংবা মেদভুঁড়ি। সচ্ছল কমিউনিটির মাঝেই এই প্রবণতা বেশি।

মানসিক দুশ্চিন্তা ছাড়াও মোটা মানুষের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ষ্ট্রোক, ক্যানসার, পিত্তথলির পাথর, হার্নিয়া, বন্ধ্যত্ব প্রভৃতি রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এসব মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে আপনার অস্বস্তিকর মেদভুঁড়ি কমিয়ে সুন্দর সুঠাম শরীরের অধিকারী হওয়ার জন্য নিচের টিপসগুলো মেনে চলা প্রয়োজনঃ

১. আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ করুন। অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস ত্যাগ করুন।
২. অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করুন। প্রতিদিন কিছু শাকসবজি ও ফলমুল খান।
৩. ফাষ্টফুড এবং কোল্ডড্রিংকস পরিহার করুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
৪. বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে পরিবেশিত রিচ ফুড যথাসম্ভব পরিহার করুন।
৫. কম দুরত্বের জায়গাগুলোতে হেঁটে চলাচল করুন।
৬. লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
৭. একটানা অধিক সময় বসে কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে উঠে দাঁড়ান, একটু পায়চারি করুন।
৮. অলসতা দুর করতে সংসারের টুকিটাকি কাজ নিজেই করুন। সুযোগ থাকলে বাগান করুন, খেলাধুলা করুন কিংবা সাঁতার কাটুন।
৯. সপ্তাহে তিন-চার দিন কিছু সময় ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার উপযুক্ত ব্যায়াম নির্বাচন করুন। কারণ সব ব্যায়াম সবার জন্য নয়।
১০. কোমরে চওড়া বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে মেদ দ্রুত বাড়তে পারবে না।
১১. প্রচলিত বিজ্ঞাপনের চমকে আকৃষ্ট হয়ে দ্রুত চিকন হওয়ার ওষুধ বা যন্ত্র ব্যবহার করতে যাবেন না। এতে আপনার অমঙ্গলের আশঙ্কাই বেশি।
১২. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমত আপনার মুটিয়ে যাওয়ার মাত্রা নির্ণয় করে বয়সানুসারে সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরি করুন এবং তার বিজ্ঞানসম্মত নির্দেশনা মেনে চলুন।

**************************
আমার দেশ, ২০ মে ২০০৮