অস্ত্রোপচার বা অপারেশন ব্যাপারটা ভালো না লাগলেও অনেক সময়ই আমাদের চিকিৎসার প্রয়োজনে অপারেশন করতে হয়। কেবলমাত্র অত্যন্ত জরুরী রোগী ছাড়া অন্যান্য সব অপারেশনের রোগীকে অপারেশন ও অজ্ঞান করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এ প্রস্তুতি কতটা সম্পন্ন হলো তার মূল তদারকি করেন একজন এ্যানেসথেসিওলজিস্ট। অপারেশন নির্বিঘ্নে ও সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন করার জন্যই রোগীর প্রস্তুতি আবশ্যক এবং এর অনেকটাই নির্ভর করে রোগীর সহযোগিতার ওপর কারণ অনেক অস্ত্রোপচারপূর্ব উপদেশের সাথে একটি থাকে খাদ্যগ্রহণ বা আহার সংক্রান্ত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অন্যান্য উপদেশ মানলেও দেখা যায় রোগীরা বা তাদের অভিভাবকগণ এ ব্যাপারটিতে অতটা মনোযোগী হন না কিংবা ভাবেন অপারেশন হবে আবার কখন বা কবে রোগী খেতে পারবে সুতরাং কর্তব্যরত চিকিৎসকের অগোচরে রোগীকে খাইয়ে দেন যা পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের সময় কিংবা অস্ত্রোপচার পরবর্তী জটিলতা তৈরি করে। এমনকি এই একটিমাত্র কারণের জন্য রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এই খাদ্যগ্রহণে বিরত থাকার সময়ের ব্যাপারটা মূলত নির্ভর করে রোগীর বয়স, শরীরের কোথায় অপারেশন হচ্ছে। অপারেশনের সময়কাল, রোগী কি রোগে ভুগছেন এবং রোগী কি কি ওষুধ খাচ্ছে তার ওপর।

কতক্ষণ থেকে না খেয়ে থাকবেন

সাধারণত অস্ত্রোপচারের পূর্বে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ কমপক্ষে ৬ ঘন্টা পূর্বে স্বাভাবিক আহার করবেন। অবশ্য অপারেশনের ২ ঘন্টা পূর্ব পর্যন্ত অল্প পরিমাণ (যেমন ১/২ গ্লাস) পরিষ্কার পানি পান করতে পারেন কিংবা কোন ওষুধ (যেমনঃ প্রেসারের বা অন্যান্য) যা রোগীকে নিয়মিত খেতে হয় যদি চিকিৎসক বারণ না করে থাকেন তবে খেতে পারবেন। অবশ্য এখানে একটা ব্যাপার অবশ্যই লক্ষণীয় রোগীর শেষ খাবারটা যেন হালকা হয় (দুধ, মাংস, হরলিক্স প্রভৃতি অবশ্যই নয়) এবং অপারেশন হবে ভেবে এ সময়টা রোগী যেন একদম বিছানায় শুয়ে বা ঘুমিয়ে না থাকে। কারণ তাহলে দেখা যায় অনেক সময় খাদ্য হজম হয় না এবং পেটভরা থাকে।

সুতরাং আশাকরা যায়, অপারেশনের সময় ও অপারেশন পরবর্তী জটিলতা এড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আহারগ্রহণে বিরত থাকবেন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নেবেন।

*************************
লেখকঃ  ডাঃ মহিউদ্দিন সুমন (অনিরুদ্ধ),
এ্যানেসথেসিওলজিস্ট,
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।