গলার সমস্যা
সমস্যাঃ আমার বয়স ২০ বছর। ওজন ৫০ কেজি, স্বাস্থ্য তেমন ভালো না। আমি অতিরিক্ত থুথু ফেলি। বর্তমানে আমার জ্বর বা কাশি নেই। আমি যেখানে চাকরি করি সেই এলাকায় খুব যানবাহন চলাচল করে এবং পরিবেশ ধুলোবালিযুক্ত। আমার সমস্যা হচ্ছে, আমি অনেক দিন ধরে গলার সমস্যায় ভুগছি। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর মনে হয়, আমার গলায় কী যেন আটকে আছে। গলা একটু ভারী ভারী লাগে। কাশি দিলে সামান্য ময়লাযুক্ত কফ আসে। সমস্যা দেখা দেওয়ার পর থেকে আমি ধুলোবালি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। তার পরও কফের সঙ্গে সামান্য কালো ময়লা দেখা যায়। এর কারণ কী?
মো• রবিউল ইসলাম, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

পরামর্শ দিয়েছেন
অধ্যাপক ডা• আবুল হাসনাত জোয়ারদার
নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
পরামর্শঃ আপনি সম্ভবত গলার দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহে ভুগছেন। নাকের সাইনাসে প্রদাহ থাকলে সেখান থেকে কফ গলায় এসে এমন আটকে থাকার ভাব হতে পারে। টনসিল ও ফ্যারিংসের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহেও গলায় এমন সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া আপনি যে কালো ময়লাযুক্ত কফের কথা বলেছেন, তা ধুলোবালিসহ পরিবেশের অন্যান্য দূষণের কারণেও হতে পারে। আপনাকে ধুলোবালি এড়িয়ে চলতে হবে। আপনি নাকে ও মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া আপনাকে একটি সাইনাসের এক্স-রে করাতে হবে এবং নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। পরিবেশগত কারণ ছাড়াও শ্বাসনালির অন্য কোনো রোগে আপনার গলায় কফ কালো হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।


বুকের সমস্যা
সমস্যাঃ আমার বয়স ২১ বছর। দুই মাস ধরে আমার কাশির সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসককে দেখালে তিনি পরীক্ষা করতে দেন। রিপোর্ট দেখে বলেন, আমার অ্যালার্জি-অ্যাজমার সমস্যা হয়েছে। কিছু ওষুধপত্র দিয়ে বলেন, এটা কখনো সারবে না এবং সবসময় সাবধানে থাকতে হবে। ওষুধে এখন কাশি বা সমস্যা কমেছে, কিন্তু মাঝেমধ্যে কফ ওঠে। কফ বের হতে চায় না। সর্দি প্রায়ই লেগে আছে। তেমন একটা শ্বাসকষ্ট নেই।
রিপন আহমেদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

পরামর্শ দিয়েছেন
অধ্যাপক ডা• মোঃ আলী হোসেন
মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ,
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা
পরামর্শঃ এ ধরনের সমস্যা সাধারণত অ্যালার্জিজনিত কারণে হয়ে থাকে, যা থেকে পরবর্তী সময়ে অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগ হয়। এটা নিশ্চিত করতে আপনাকে প্রথমেই ব্রঙ্কোপ্রভোকেশন পরীক্ষাটি করতে হবে। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখিয়ে চিকিৎসা নিলেই আপনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। আপাতত সাময়িকভাবে ভালো থাকার জন্য প্রতিদিন মন্টিলুকাস্ট ও দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কোডাইলেটর যেমন থিয়োফাইলিন জাতীয় ওষুধ সেবন করে দেখতে পারেন। চিঠির সঙ্গে পাঠানো রিপোর্ট দেখে আপনার রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আসলে আপনার রোগটি সঠিকভাবে নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা নিলে আপনি সবসময়ই ভালো থাকতে পারবেন। তাই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

**************************
প্রথম আলো, ২১ মে ২০০৮