‘ফ্ল্যাভোনয়েডস’ নামের এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ সমৃদ্ধ খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে আনে। সম্প্রতি একটি গবেষক দল ওই ধরনের যৌগ ‘কের্সেটিন’ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন- এই যৌগ চা, পেঁয়াজ, আপেলে রয়েছে। এই কের্সেটিন’ হলো এক ধরনের ফাইটোকেমিক্যাল, যা কি না রঙেরও একটি অংশ। এটি শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ‘কের্সেটিন’ ক্যান্সার রোধেও কার্যকর। বিশেষ করে প্রোস্টেইট ক্যান্সার রোধেই এটি বেশি সহায়ক। দেহে ‘কের্সেটিন’ যৌগ ভেঙে যাওয়ার পরই এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের ক্রমবর্ধমান প্রদাহ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এর আগের গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, ‘কের্সেটিন’ অন্ত্র ও যকৃতের কার্যকারিতায় খুব কম সময়ে শরীরে শোষিত হয়। যে কারণে এর উপস্থিতি মানব দেহের রক্তে পাওয়া যায়নি। এ ধরনের গবেষণার পর গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেন, রক্তপ্রবাহে কের্সেটিন প্রবেশ করার পরই এটি বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে শোষিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কম মাত্রায় এ ধরনের যৌগসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে এর প্রভাব বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের খাবার গ্রহণের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে আসে।

পর্যাপ্ত ঘুমান
পর্যাপ্ত না ঘুমালে আপনার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত হতে পারে। তার বাস্তব চিত্র ধরা পড়েছে ব্রেন ক্যান্সারে। একদল স্বেচ্ছাসেবককে ৩৫ ঘন্টা একনাগাড়ে নির্ঘুম রেখে এ পরীক্ষা করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের ব্রেন স্ক্যান করে মস্তিষ্কে তাদের রক্তপ্রবাহের গতি-প্রকৃতি রেকর্ড করা হয়। তারপর তাদের ৩৫ ঘণ্টা নির্ঘুম রেখে বিভিন্ন প্রকৃতির ছবি দেখিয়ে রাগাম্বিত বা বিমর্ষিত করে ব্রেন স্ক্যান করা হয়। দেখা যায়, এ সময় তাদের ব্রেনের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে সংশিস্নষ্ট অংশ এমিগডালায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে যা ৬০ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ নির্ঘুম থাকার ফলে মস্তিষ্ক অনেক বেশি ক্লান্ত এবং আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। তখন উত্তেজক বা বিরক্তিকর দৃশ্যের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় ব্রেন। সংযত হওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলে সে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় এ ফলাফল পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

**************************
দৈনিক ইত্তেফাক, ৩১ মে ২০০৮