তাপদাহে পুড়ছে দেশ। অতিরিক্ত ঘাম বের হওয়ার কারণে খুব দ্রুত শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। অনেকে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হিটষ্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া। হিটষ্ট্রোকে শিশু ও বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কারণ শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম। তাছাড়া প্রচন্ড রোদে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার কারণে যে কেউ হিটষ্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে। প্রচন্ড গরমে ডায়াবেটিস রোগীরাও হিটষ্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।  

আক্রান্ত হওয়ার লক্ষ্মণঃ প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির অস্হির অস্হির ভাব, বমি বমি ভাব, ক্লান্ত হয়ে পড়া, মাংসপেশীতে ব্যথা অনুভুত হওয়া প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। এ অবস্হা পর্যন্ত শরীরের তাপমাত্রা ১০৬ ফারেনহাইট ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। এ সময় উপযুক্ত ব্যবস্হা নেয়া না হলে রোগীর অবস্হা আরো সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়তে পারে।
আক্রান্ত হলে করণীয়ঃ হিটষ্ট্রোকে আক্রান্ত হলে কিছু রোগের (ম্যালেরিয়া, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি) সঙ্গে এর উপসর্গগুলো মিলে যায়। তাই এ সময় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অধিক সাবধানতা অবলম্বনের ব্যত্যয় ঘটলে রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই সর্বপ্রথম সঠিক রোগ নিরুপণ জরুরি। তাছাড়া নিম্নোক্ত কাজগুলো যতদ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা উচিত।

১. রোগীকে গরম স্হান হতে মুক্ত বাতাস চলাচল করে এমন ঠান্ডা খোলামেলা স্হানে দ্রুত স্হানান্তরিত করতে হবে।
২. শরীরের তাপমাত্রা কমানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্হা নিতে হবে। এ জন্য ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে পানি ফেলে দিয়ে বার বার শরীর মুছে দিতে হবে।
৩. হিটষ্ট্রোকে আক্রান্ত হলে অনেক সময় রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার জন্য রোগীর নাক-মুখ পরিষ্কার করে দিতে হবে।
৪. মুক্ত বাতাসযুক্ত স্হান না পাওয়া গেলে ঘরের ফ্যানগুলো ছাড়িয়ে দিয়ে তার নিচে বসাতে হবে।
৫. তাড়াতাড়ি ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার চেয়ে উত্তম কোনো বিকল্প নেই।

হিটষ্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়

১. রোদ এড়িয়ে চলতে হবে। তা সম্ভব না হলে অন্ততপক্ষে রোদে বের হওয়ার সময় ছাতা ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. সব সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে হবে। সে জন্য দিনে একাধিকবার গোসল করা যেতে পারে।
৩. বেশি করে বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি পান করতে হবে।
৫. যাদের অত্যধিক ঘাম হয়, তারা পানি শুন্যতা দুর করার জন্য গ্লুকোজ যুক্ত পানি পান করলে অধিক ফল পেতে পারেন।
৬. সব সময় পাতলা সুতি জামা পরিধান করা।
৭. বাচ্চা, বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস আক্রান্তরা রোদে কম বের হওয়াই ভালো।

**************************
মু. নুরনবী
আমার দেশ, ৩ জুন ২০০৮