বয়সটা কি আসলে কমানো যায়? হ্যাঁ যায়, মনের বয়স। কেউ যদি এসে বলে আপনার বয়স কত? একথা শুনলে হঠাৎ মনে একটু ধাক্কা লাগে, মনে হয় আমি কি বুড়ো হয়ে গেছি নাকি। আসলে জীবনটা খুব ছোট। এই ছোট জীবনটাকে সুন্দরভাবে সাজাতে, উপভোগ করতে প্রয়োজন তারুণ্যের, প্রয়োজন যৌবনের। যৌবন আর তারুণ্য এ দু’টো শব্দ মনে আসতেই মনে পড়ে সেই সব ফেলে আসা সোনালী দিনগুলো, যা আজ শুধুই বেদনাদায়ক অতীত। বয়সটা আসলে সম্পূর্ণ মনের ব্যাপার। যৌবন, তারুণ্য, সৌন্দর্য এগুলো মনের বয়স কমায়। মনকে, শরীরকে ভাল রাখে। আমরা এই একবিংশ শতকে এসে সকলেই বেশ স্বাস্থ্য সচেতন, সবাই চাই ভাল থাকতে, সুস্থ থাকতে, সুন্দর থাকতে। ঐ যে বললাম, বয়সটা মনের ব্যাপার,- তাই চেষ্টা করুন প্রথমে মনের বয়স কমাতে। বার্ধক্য মানুষের দৈহিক অবস্থাটাকে হয়ত সামান্য বৃদ্ধ করতে পারে কিন্তু মনে যদি তরুণ্য, যৌবন থাকে তবে তা মনকে বৃদ্ধ করতে পারে না।

সব সময় চেষ্টা করুন চিন্তামুক্ত থাকতে, হাসিখুশি থাকতে এবং মনটাকে ভাল রাখতে। এই যান্ত্রিক জীবনে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। আমাদের এই ছোট মনটাকে সময় দেয়ার মত সামান্য সয়ম কারো নেই। দৈহিক মৃত্যুটা পরিলক্ষিত হলেও আত্মার মৃত্যুটা অগোচরেই থেকে যায়। তাই যে যা করতে পছন্দ করেন- কেউ গান শুনতে, কেউ টেলিভিশন দেখতে, কেউ ঘুরে বেড়াতে, কেউ গল্প করতে ভালবাসে; তাই যার যেটা ভাললাগে, যেভাবে মনটা ভাল থাকে তাই করার চেষ্টা করুন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সেটা যেন অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়। মনটা ভাল থাকলে মনের রোগ হয় না। মনটা ভাল থাকে, সুস্থ থাকে, ব্রেনটা ভাল থাকে। কারণ মনের সাথে দেহের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

শরীরকে ভাল রাখতে চেষ্টা করুন আর তাই প্রয়োজন কিছু সচেতনতা। দেহের স্থূলতা, ওজন কমাতে হবে। কারণ দেহের আকৃতি মনে প্রভাব ফেলে। মোটা মানুষকে দেখতে স্বাভাবিকভাবেই একটু বয়স্ক মনে হয়। এজন্য পরিমিত খাদ্য খাবেন, ব্যায়াম করবেন। অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় খাদ্য খাবেন না, প্রচুর শাক-সবজি ও ফলমূল খাবেন, প্রচুর পানি পান করবেন এবং নিয়মিত হাঁটার চেষ্টা করবেন। এগুলো দেহেরও মনের দুটোরই বয়স হ্রাস করবে। বয়স হ্রাস-বৃদ্ধিতে পোশাক ও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক রং এবং প্রিন্টের অনেক ডিজাইনের কাপড় রয়েছে যেগুলো বাহ্যিক দৃষ্টিতে বয়স হ্রাস করে আবার অনেক কাপড় রয়েছে যেগুলো পরলে বয়সের চেয়েও অনেক বেশি বয়স্ক মনে হয়। সাধারণত উজ্জ্বল রং এবং একটু প্রিন্টের কাপড় বাহ্যিক দৃষ্টিতে মানুষের বয়স কমায় এবং সাদা বা যে কোন হালকা রং-এর এক রং-এর কাপড় পরলে বয়স অনেক বেশি মনে হয়। চেষ্টা করুন যুগ উপযোগী পোশাক পরিধান করতে, পুরনো ডিজাইন বাদ দিয়ে নতুন ডিজাইনের পোশাক পরিধান করুন। পোশাক মানুষের বয়স কমাতে পারে না এটা মনের ভেতর তারুণ্যের সৃষ্টি করে, ভাল লাগার অনুভূতি যোগায়। সময় উপযোগী হয়ে চলার চেষ্টা করুন। আপনি যদি সেই পুরনো ধ্যান-ধারণা নিয়ে চলেন, কথা কম বলেন, গম্ভীর হয়ে থাকেন, নিজের সুখ-দুঃখের সাথে ভাগ না করেন তা হলে দেখবেন নিজেকে সব জায়গায় বেমানান লাগছে। কোথাও যেয়ে ভাল লাগবে না, মানুষের সাথে মিশতে পারবেন না। সবার সাথে মিশতে পারাও কিন্তু একটা বড় গুণ। আর এ জিনিসটা মানুষের দেহ ও মন দুটোই ভাল রাখতে সহায়তা করে। মানুষের অভ্যাস ও স্বভাবও তারুণ্যে ফিরে যেতে সাহায্য করে।

নিজের সৌন্দর্য সজীবতা ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। বয়স হলে স্বাভাবিকভাবেই দেহের কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, যার ফলে সামান্য যত্নের প্রয়োজন। ঘরে বসে সামান্য রূপচর্চা করুন। সুন্দর করে চুল কাটান, প্রয়োজন হলে রং বা কলপ লাগাতে পারেন। আধুনিক পোশাক পড়ুন, সুন্দরভাবে কথা বলুন, বয়স বেড়ে গেলে নানা কারণে মানুষের মেজাজ একটু খিটখিটে হয়ে যায় চেষ্টা করুন মেজাজটা ঠান্ডা রাখতে, মানুষকে আনন্দ দিতে। পারলে প্রাণ খুলে হাসুন। যেহেতু বয়সটা পুরোপুরি মনের ব্যাপার, তাই চেষ্টা করুন মনের যত্ন নিতে, মনটাকে ভাল রাখতে। মানুষ সামাজিক জীব, তাই সবার সাথে মিলেমিশে বাঁচতে হবে। সকলের ভাল দিকগুলো খুঁজে বের করে সবকিছু সহজভাবে মেনে নিতে হবে। দেখবেন পৃথিবীটা কত সুন্দর। নিজে ভাল তো জগৎ ভাল।

এসব নিয়ম মেনে নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করান, দেখবেন বয়স ২০ বছর কমে গেছে। অবশ্য হ্যাঁ, যাদের বয়স ২৫ বছরের নিচে তারা কিন্তু নয়।

গতিই জীবন, স্থিতিই মৃত্যু। এটা আমার কথা নয়। এটা ভাবসম্প্রসারণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবনের গতি যদি থামিয়ে দেই তাহলে দেহের মৃত্যু না হলেও মনের মৃত্যু অনিবার্য।

**************************
ফাতেমা ইয়াসমীন লিথি
দৈনিক ইত্তেফাক, ৭ জুন ২০০৮