মুখের লোম কিংবা তিল বা আঁচিল। চোখের পাতায় জমা চর্বি, ব্রনের ও মেছতার দাগ ইত্যাদি নিয়ে বিব্রত? এইসব সমস্যা নিয়ে বিব্রত হওয়ার কোনো কারণ নেই। লেজার ও ডার্মো সার্জারির মাধ্যমে খুব সহজেই এই সমস্যা সমাধান করা যায়। নিম্নে আলোকপাত করা হল।

ডার্মো সার্জারি

ত্বকের শল্য চিকিৎসার নাম ডামো সার্জারি। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ব্যথামুক্ত ও দাগবিহীন পদ্ধতিতে করা হয় নানা রকমের ডার্মো সার্জারি।

সাধারণত ছোট ছোট টিউমার, তিল, আঁচিল, ফ্রেকলস ইত্যাদি চিকিৎসার জন্য ইলেকট্রো সার্জারি করা হয়। আঁচিল বা টিউমার ছোট হলে লোকাল অ্যানেথেশিয়া না দিলেও হয়। অপারেশনের পর একটি টপিক্যাল অ্যান্টিবায়োটিক মলম অপারেশনের জায়গায় লাগানোর জন্য দেয়া হয়, খাওয়ার ওষুধও দেয়া হয়।

চোখের পাতায় চর্বি জমাকে বলা হয় জ্যানথেলেসমা। এই চর্বি জমা দেহের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। চোখের পাতায় জমা চর্বিকে কেমিক্যাল কটারির মাধ্যমে তুলে দেয়া হয়। এ অবস্থায় রোগীকে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সংযত থাকতে হয়। তৈলাক্ত জিনিস খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং কিছু ব্যায়ামও করার পরামর্শ দেয়া হয়। ৫-৭ দিনের মধ্যে জায়গাটি পরিষ্কার হয়ে যায়। সাধারণতঃ সন্তান জন্মানোর পর বা অত্যধিক পরিমাণে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ার ফলেও মেছতা দেখা যায়। মুখে মেছতার দাগ দূর করার জন্য মলম লাগাতে বলি। এছাড়া সূর্যের আলো প্রতিরোধক ক্রিম লাগাতে দিই। কিন্তু এতে কোনো ফল না হলে কেমিক্যাল পিলিংয়ের পরামর্শ দেয়া হয়। সাধারণত ব্রণের দাগ, মেছতার দাগ, লোমকূপের ছিদ্র বড় হয়ে যাওয়া বা হালকা বলিরেখা পড়া দূর করার জন্য কেমিক্যাল পিলিংয়ের পরামর্শ দেয়া হয়। যেসব মহিলার মুখে লোম আধিক্য থাকে বা যেসব মহিলার মুখে পুরুষদের মত দাড়ি-গোঁফ থাকে তা ইলেকট্রো লাইসিস পদ্ধতিতে সারানো হয়। কয়েকটা সিটিংয়ের মাধ্যমে এই লোম নির্মূল করা হয় অবশ্য তা নির্ভর করে মুখে কতটা লোম আছে তার ওপর। সাধারণত শ্বেতীর চিকিৎসায় পাঞ্চ গ্রাফটিং করা হয়। তবে শ্বেতী মানেই পাঞ্চ গ্রাফটিং নয়। প্রথমে ওষুধ দিয়ে শ্বেতী সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। শ্বেতী যদি পুরোটা নাও সারে এবং তা যাতে আর বাড়তে না পারে সেই চেষ্টা করা হয়। শ্বেতী না ছড়িয়ে একবারে থেমে গেলে তখন সেখানে পাঞ্চ গ্রাফটিং করা হয়।

**************************
ডাঃ মোহাম্মদ শওকত হায়দার
চর্ম, যৌন (সেক্স) ও এলাজি
রোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার ও কসমেটোলজিস্ট, ডারমাটো সার্জন। কুইন্স হাসপাতাল, যশোর।
দৈনিক ইত্তেফাক, ৭ জুন ২০০৮