স্বাস্থ্যকথা - http://health.amardesh.com
সন্তানের মুখ, বাবা-মায়ের সুখ এবং টেস্টটিউব শিশু
http://health.amardesh.com/articles/69/1/aaaaaaaa-aaa-aaaa-aaaaa-aaa-aaa--aaaaaaaaa-aaaa/Page1.html
Daily Prothom Alo
 
By Daily Prothom Alo
Published on 11/26/2007
 
(ডা· ইকবাল কবীর) নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য সুখবর| সন্তান না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং সন্তান লাভ করা সম্ভব| যদিও প্রতি পাঁচ দম্পতির মধ্যে এক দম্পতির এ ধরনের সমস্যা হতে পারে| সন্তান না হওয়া বা বন্ধ্যাত্ব থেকে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার মতো মারাত্মক মানসিক সমস্যা মোকাবিলার জন্য রয়েছে বিভিন্ন চিকিৎসা-সুবিধা|

সন্তানের মুখ, বাবা-মায়ের সুখ এবং টেস্ট

নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য সুখবর| সন্তান না হওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং সন্তান লাভ করা সম্ভব| যদিও প্রতি পাঁচ দম্পতির মধ্যে এক দম্পতির এ ধরনের সমস্যা হতে পারে| সন্তান না হওয়া বা বন্ধ্যাত্ব থেকে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার মতো মারাত্মক মানসিক সমস্যা মোকাবিলার জন্য রয়েছে বিভিন্ন চিকিৎসা-সুবিধা|

বিয়ের ১৮ বছর পর টেস্ট টিউব শিশুর জ্ন দিলেন এক নিঃসন্তান দম্পতি ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারে প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জ্ন হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর| বিয়ের ১৮ বছর পর মা হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সীমিসেস খান| স্কয়ার হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা· জাকিউর রহমানের তত্ত্বাবধানে স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারে প্রথম প্রচেষ্টাতেই সফলভাবে টেস্ট টিউব শিশুর জ্ন হলো|সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের অভিজ্ঞ ডাক্তার ও কেয়ার আইভিএফ সেন্টারের এমব্রায়োলজিস্টের সহযোগিতায় ডা· জাকিউরের নেতৃত্বে চিকিৎসক, সেবিকাও এমব্রায়োলজিস্টের একটি সুদক্ষ দল নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে স্বল্প সময়ে এ সাফল্য অর্জন করেছেন| এই কেন্দ্রে সাধারণ চিকিৎসায় গর্ভ ধারণ করেছেন অনেকেই| আবার ইনট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেসন (আইইউআই) পদ্ধতিতেও গর্ভধারণের হার খুবই ভালো| পাশাপাশি বলা দরকার, এ রকম একটি সেন্টারের সঙ্গে প্রয়োজন আধুনিক নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)| সেটিও এখানে রয়েছে|
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে

স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টার
স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারের (এসএফসি) লক্ষ্য হচ্ছে সম্ভাব্য সব উপায়ে নিঃসন্তান দম্পতিদের চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান উপহার দেওয়া| এসএফসির রয়েছে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসক, ধাত্রী, টেকনিশিয়ান-সর্বোপরি এমব্রায়োলজিস্ট বা ভ্রূণবিদ্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যাঁরা সবাই বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় অভিজ্ঞ| স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টার সিঙ্গাপুরের কেয়ার সেন্টারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে পরিচালিত| চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কৃত আর প্রমাণিত প্রযুক্তি ও পদ্ধতিই নিঃসন্তান দম্পতিদের চিকিৎসায় ব্যবহূত হয়ে থাকে| দম্পতিদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা, বিশেষ করে এ সময় সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন-মানসিক নির্ভরতা দিয়ে আশ্বস্ত করা, সে ব্যাপারে এসএফসি সর্বদা আন্তরিক| আর্থিক দিক বিবেচনা করাও এসএফসির লক্ষ্য|

অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে করবেন একজন চিকিৎসকের সহযোগিতায় এখানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা যাবে| সঙ্গে প্রয়োজন হবে এর আগে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় দেওয়া ব্যবস্থাপত্র, কোনো পরীক্ষার (যদি করা হয়ে থাকে) কাগজপত্র ইত্যাদি| অবশ্য কোনো চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াও আপনি সরাসরি এখানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে পারেন|

প্রাথমিক সাক্ষাতের নিয়ম
নিঃসন্তান দম্পতিদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য একসঙ্গে এখানে আসতে হয়| সাধারণভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে| দম্পতিদের দুজনকেই একসঙ্গে আসতে বলা হয় এ জন্য যে, দুজনের সঙ্গেই প্রাথমিকভাবে কিছু আলাপচারিতা সেরে নিতে হয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য| প্রাথমিকভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার আগে পুরুষের বীর্য পরীক্ষা বা সিমেন টেস্ট করা হয়ে থাকে| বীর্য পরীক্ষার দু-তিন দিন আগে দৈহিক মিলন না করাই ভালো|
যোগাযোগঃ
স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টার, স্কয়ার হাসপাতাল লি·
১৮/এফ পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা|
টেলিফোনঃ ৮১৫৯৪৫৭-৬৪, ফ্যাক্সঃ ৯১১৮৯২১| 
 
নিঃসন্তান দম্পতিদের গর্ভধারণে সহায়তা করাই আমাদের উদ্দেশ্য ।
 
বন্ধ্যাত্ব নিরসনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনায় সিঙ্গাপুরের বিশ্বখ্যাত কেয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা· জাকিউর রহমান| সম্প্রতি প্রথম প্রচেষ্টাতেই টেস্ট টিউব শিশুর জ্নদানে বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি|এসব নিয়ে তিনি কথা বলেছেন স্বাস্থ্যকুশল-এর সঙ্গেঃ

স্বাস্থ্যকুশলঃ চালু হওয়ার পর থেকে অল্প সময়ের মধ্যে স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারে সফলভাবে প্রথম প্রচেষ্টাতেই টেস্ট টিউব শিশুর জ্নদান কীভাবে সম্ভব হলো?

ডা· জাকিউর রহমানঃ
স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারটি (বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা কেন্দ্র) ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে চালু হয়েছে| এরপর নিঃসন্তান দম্পতিদের নিয়ে শুরু হয় এ সেন্টারের পদযাত্রা| আমাদের প্রথম আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন, সাধারণ ভাষায় যাকে বলা যায় টেস্ট টিউব শিশু) রোগী ৩৭ বছর বয়সী মিসেস খান| তিনি ১৮ বছর হলো বিবাহিত| বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নেওয়ার পর আমাদের কাছে আসেন| চিকিৎসার প্রাথমিক পর্যায়ে রক্তে হরমনোর মাত্রা দেখা হয় এবং পর্যায়ক্রমে আনুষঙ্গিক পরীক্ষা করার পর ইনজেকশন শুরু করা হয়| সাধারণত দ্বিতীয় দিন থেকে ইনজেকশনের মাধ্যমে ডিম্বাশয়কে সাপ্রেশনে রাখা হয়, তারপর আবার স্টিমুলেশন দেওয়া হয়| নির্দিষ্ট সময়ের পর ডিম্বাণুগুলোকে বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে আমাদের অত্যাধুনিক ল্যাবে স্বামীর পরিপক্ব ভ্রূণকে নারীর গর্ভাশয়ে নির্দিষ্ট দিনে স্থানান্তর করা হয়| প্রতিস্থাপনের ১৬ থেকে ১৮ দিন পর রক্ত পরীক্ষা করে দেখা হয় যে ওই নারী গর্ভবতী হয়েছেন কি না| গর্ভবতী হওয়ার পর বিশ্রামে থেকেছেন, আমাদের কাছে এসে নিয়মিত ফলোআপ করেছেন| আমরা আনুষঙ্গিক ওষুধসহ তাঁকে নিয়মিত চেকআপের মধ্যেরেখেছি| সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ আমাদের প্রথম টেস্ট টিউব শিশু পৃথিবীর আলো দেখেছে| শিশুটি এখন সম্পূর্ণসুস্থ|

স্বাস্থ্যকুশলঃ
আইভিএফ বা টেস্ট টিউব পদ্ধতিটি কী?

ডা· জাকিউরঃ আইভিএফ (ইন-ভিটরো ফার্টিলাইজেশন) বা টেস্ট টিউব পদ্ধতি হচ্ছে মানবদেহের বাইরে গর্ভ ধারণ করার পদ্ধতি| এই পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক নিঃসন্তান নারী সন্তান লাভ করেছেন| আইভিএফ (টেস্ট টিউব) পদ্ধতিতে জ্নলাভ করা প্রথম মানবশিশু হচ্ছে লুইস ব্রাউন (১৯৭৮)| তবে আইভিএফ বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার প্রথম বা একমাত্র পদ্ধতি নয়| এই পদ্ধতিতে সন্তান জ্ন দেওয়ার চেষ্টা তখনই করা হয়, যখন বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার অন্য সব পদ্ধতি ব্যর্থ হয়| বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আইভিএফ পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয় ফলিকুলার পরিপক্বতার এবং ডিম্বাশয়ে ডিম্বস্থলন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে| একদম সঠিক সময়ে অর্থাৎ মেয়েদের মাসিকের কিছুদিন পরপরই ডিম্বাশয় থেকে পরিপক্ব ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয় এবং নারীদেহের বাইরে একটি পাত্রে বা টেস্ট টিউবে পুরুষের বীর্যের সঙ্গে মেশানো হয়| এরপর নিষিক্ত ডিম্বাণুকে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ইনকিউবেটরের মধ্যে কয়েক দিনের জন্য রাখা হয় এবং পর্যবেক্ষণ করে দেখা হয় ভ্রূণগুলো সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে কি না| এরপর এখান থেকে সর্বোচ্চ তিনটি ভ্রূণকে নারীর গর্ভাশয়ে স্থানান্তর করা হয়| নারী যদি গর্ভবতী হন তবে অনুভব করবেন, যেন তিনি স্বাভাবিকভাবেই গর্ভ ধারণ করেছেন|

স্বাস্থ্যকুশলঃ স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টার বন্ধ্যাত্ব নিরসনে কী ভূমিকা পালন করবে?

ডা· জাকিউর রহমানঃ স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারের মূল উদ্দেশ্য নিঃসন্তান দম্পতিদের সর্বাধুনিক এবং সাধারণ বা সহজতম পদ্ধতিতে গর্ভধারণে সহায়তা করা| এ ব্যাপারে সিঙ্গাপুরের বিশ্বখ্যাত কেয়ার ফার্টিলিটি সেন্টার আমাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছে|
আমাদের সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
ওভুলেশন ইনডাকশন এবং সাইকেল মনিটরিং ইনট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেসন (আইইউআই) ইন-ভিটরো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ)
ট্রিটমেন্ট অব মেইল ইনফার্টিলিটি (আইসিএসআই) র্জিক্যাল স্পার্ম রিট্রাইভাল এসিসটেড হ্যাচিং অ্যামব্রায়ো ফ্রিজিং অ্যান্ড রিপ্লেসমেন্ট অব ফ্রোজেন অ্যামব্রায়োস স্পার্ম অ্যান্ড অ্যামব্রায়ো ব্যাংকিং|

স্বাস্থ্যকুশলঃ টেস্ট টিউব বা আইভিএফ পদ্ধতিতে গর্ভধারণের চেষ্টার আগে অন্য কোনো পদ্ধতিতে এটি করা যায় কি না?

ডা· জাকিউর রহমানঃ হ্যঁ যায়, ইনট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেসন (আইইউআই) পদ্ধতিতে এটা সম্ভব|
আইইউআই হচ্ছে জরায়ুর মধ্যে সঠিক ও গতিশীল শুক্রাণু প্রতিস্থাপন পদ্ধতি, যা গর্ভধারণে সাহায্য করে| এটা এক ধরনের সহজতম অপারেশনবিহীন ও ব্যথাবিহীন পদ্ধতি|

স্বাস্থ্যকুশলঃ এটি কাদের জন্য প্রযোজ্য?

ডা· জাকিউর রহমানঃ যাঁদের সমস্যা অনির্ণীত, অস্বাভাবিক বীর্য, স্পার্ম অ্যান্টিবডি, হসটাইল সার্ভিক্যাল মিউকাস, এনডোমেট্রিওসিস, প্রিমেচিউর ইজাকুলেশন, সহবাসের সমস্যা ইত্যাদি রয়েছে, তাঁদের জন্য প্রাথমিকভাবে এ পদ্ধতি খুবই কার্যকর|

স্বাস্থ্যকুশলঃ টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে যাওয়ার আগে কতবার আইইউআই পদ্ধতিতে চেষ্টা করা যেতে পারে?

ডা· জাকিউর রহমানঃ এটা নির্ভর করে রোগীর সাধ্যের ওপর এবং রোগী কী ওষুধ ব্যবহার করছেন তার ওপর| যদি রোগী মুখে ডিম্ব পরিপক্বতার জন্য ওষুধ ব্যবহার করেন তবে তিনবার চেষ্টা করা যেতে পারে ইনজেকশন শুরু করার আগে| ইনজেকশন শুরুর পর তিন-চার চক্র চেষ্টা করা যায়| যদি সঠিকভাবে ডিম্ব পরিপক্বতা ইনজেকশন এবং যদি আইইউআই পদ্ধতিতে চারবারে সফলতা না আসে তবে আইভিএফ পদ্ধতিতেই যাওয়া উচিত|

স্বাস্থ্যকুশলঃ আপনাকে ধন্যবাদ|

ডা· জাকিউর রহমানঃ আপনাদেরও ধন্যবাদ| তবে আমি এই আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই স্কয়ার কতৃêপক্ষের সঙ্গে, যাদের সহযোগিতা ছাড়া স্কয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারের মতো একটি আধুনিক সেন্টার করা সম্ভব হতো না| আর জ্ন হতো না এই টেস্টটিউব শিশুর|

**********************************
লেখকঃ ডা· ইকবাল কবীর
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ অক্টোবর ২০০৭