সাধারণত পেটে ব্যথা হলে রোগীরা বা সাধারণ চিকিৎসকেরাও গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে করেন। অনেকেই এ ব্যথা নিরাময়ের জন্য ঘরে থাকা বা ওষুধের দোকান থেকে অ্যান্টাসিড, রেনিটিডিন, ওমেপ্রাজল গ্রুপের ওষুধ খেয়ে থাকেন বা সাধারণ চিকিৎসকেরাও এ-জাতীয় ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন। এ-জাতীয় ওষুধ খেয়ে অনেকের পেটে ব্যথা নিরসনও হয় আবার অনেকেরই নিরসন হয় না, বরং অনেকের ক্ষেত্রে এ ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে পারে, বুকে ভারী ভারী বা চাপ চাপ লাগতে পারে, সঙ্গে সঙ্গে রোগী ঘেমে যেতে পারে অথবা শ্বাসকষ্ট বা হয়রানি লাগতে পারে।

এ ছাড়া কারও কারও ক্ষেত্রে পেটের ব্যথা বুকে বা হাতে ও গলায় ছড়িয়ে যেতে পারে। সাধারণত পুরুষ রোগীর বয়স যদি ৪০ বছরের বেশি হয় এবং নারী রোগীর বয়স ৪৫ বছরের বেশি হয় আর মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, রোগী ধূমপায়ী হলে-সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অথবা ওই পরিবারে বাবার ৪৫ বছরের মধ্যে এবং মায়ের ৫৫ বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক বা এনজাইনাল পেইনের ইতিহাস থেকে থাকে, তাহলে এ ধরনের পেটের ব্যথাকে শুধু গ্যাস্ট্রিক আলসার ভেবে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এটা হার্ট অ্যাটাক বা এনজাইনাল পেইনও হতে পারে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাকের পেইন শতকরা ৩০ ভাগ নাভির ওপর থেকে শুরু করে পেটের উপরিভাগ পর্যন্ত হতে পারে-যে ব্যথাকে অধিকাংশ রোগী তথা সাধারণ চিকিৎসকেরা গ্যাস্ট্রিক আলসারের পেইন বলে ভুল ধারণা করেন।

উল্লেখ্য, হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে থাকে। উল্লিখিত হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ শুরু হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে হার্টের হাসপাতালে পেঁৗছালে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, যেমন স্ট্রেপটোকাইনেজ অথবা ইদানীং রিটিপ্লেজ ব্যবহার করে তথা হার্ট অ্যাটাকের সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টি করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হার্টের বড় ধরনের ক্ষত থেকে রক্ষা করে রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু অনেক রোগীর হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা পেটে হওয়ায় ভুল বোঝার ফলে সময়মতো হাসপাতালে না যাওয়ায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়।

ফলে অনেকেই মৃতুর কোলে ঢলে পড়ে। তাই পেটে ব্যথা হলে অ্যান্টাসিড বা ওমেপ্রাজল জাতীয় ওষুধে কাজ না হলে, শুধু গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা চিন্তা না করে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হার্টের হাসপাতাল অথবা হূদরোগ বিশেষজ্ঞের (কার্ডিওলজিস্ট) পরামর্শ নিন।

******************************
লেখকঃ ডা· রাকিবুল ইসলাম
কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট, ল্যাব এইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল, ঢাকা।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো, ১০ অক্টোবর ২০০৭