অনেকেই নাক বন্ধ হয়ে গেলে, জ্বর অনুভব করলে এবং শরীর ব্যথা হলে অ্যান্টিবায়োটিক খাবার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক সব সময় এসব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না।

যদি আপনার ভাইরাসের কারণে ঠান্ডা লাগে কিংবা ফ্লু হয় তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো সাহায্য করতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো ব্যবস্হা হলো সাধারণভাবে বিশ্রাম নেয়া, প্রচুর পরিমাণে তরল খাওয়া এবং প্রয়োজনে দু’দিন ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা।

আপনার প্রয়োজন নেই অথচ অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলেন, সে অবস্হায় অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক অবশ্যই প্রয়োজনীয় ওষুধ, এমনকি জীবন রক্ষাকারী-তবে সেটা প্রযোজ্য তখনই যখন আপনি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন অর্থাৎ যখন দেখা দেয় ষ্ট্রেপটোকক্কাসজনিত গলার সংক্রমণ অথবা নিউমোনিয়া।
কি অবস্হায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন।

স্বাস্হ্যবান, অল্প বয়স্কদের ক্ষেত্রে
১. যদি আপনার উচ্চমাত্রার জ্বর থাকে, গলার ভেতরের দিকে সাদাটে দাগ থাকে এবং গলার গ্রন্হিগুলো ফুলে যায়, তাহলে সম্ভবত ধরে নিতে হবে আপনার ষ্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণ রয়েছে এবং এর জন্য আপনার অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে আপনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

২. যদি আপনার ষ্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণের কোনো চিহ্ন না থাকে এবং অন্য কোনো স্বাস্হ্যগত লক্ষণ না থাকে তাহলে তিন দিন বা চার দিন অপেক্ষা করুন। যদি এটা সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু হয়, আপনি ৩-৪ দিন পর থেকে ভালো অনুভব করবেন। যদি ভালোবোধ না হয়, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা রয়েছে এমন বয়স্ক লোকদের ক্ষেত্রে
১. আপনার ষ্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

২. যদি আপনার বুকে ব্যথা থাকে কিংবা আপনার শ্বাসতন্ত্রে প্রচুর আঠালো পদার্থ নিঃসরণ হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসককে দেখাবেন।

৩. যদি ষ্ট্রেপটোকক্কাস সংক্রমণের চিহ্ন না থাকে, বুক ব্যথা কিংবা নাক বন্ধ না থাকে তাহলেও আপনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। আপনার উপসর্গগুলো তাকে অবহিত করুন এবং জেনে নিন আপনাকে কী ব্যবস্হা নিতে হবে বা চিকিৎসার জন্য কোথায় যেতে হবে।

**********************************
লেখকঃ ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
চেম্বারঃ কমপ্যাথ লিমিটেড, ১৩৬, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
উৎসঃ দৈনিক আমার দেশ, ২৭ নভেম্বর ২০০৭