কেবলমাত্র মস্তিষ্কের সুরক্ষার জন্যই নয়, বরং লোহিত রক্ত কণিকা গঠন, প্রোটিন বিপাকন, প্রবৃদ্ধি এবং কোষ বিভাজনেরও ফোলেটের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আর ফলিক এসিড কিংবা ফোলেট যে মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় যথেষ্ট উপকারী তা সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। গবেষণায় আও দেখা গেছে যে, বয়স্কদের মধ্যে শতকরা ১৫ জনের ভিটামিন বি-১২, এর ঘাটতি রয়েছে যা মানসিক বিকাশে বড় ধরনের বাধা ঘটায় এং স্নায়ুর সমস্যা বাড়ায়। লোহিত রক্ত কোষ গঠন, কোষ বিপাকন ও স্নায়ুর দক্ষতা বাড়াতে ভিটামিন বি-১২ এর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আর এর প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, শেলফিস, ডিম ও দুধ। বয়স্কদের শরীরে কখনো কখনো ভিটামিন বি-১২ এর অভাব দেখা দেয়। কারণ তাদের হজম নালীতে বয়সজনিত পরিবর্তনের ফলে খাদ্য থেকে ভিটামিন বি-১২ এর শোষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। কিংবা যাদের উদর সংক্রান্ত রোগ যেমন-সিলিয়াক ডিজিজ বা ক্রনস্‌ ডিজিজ রয়েছে, তারাও কয়েক বছরের মধ্যে ভিটামিন বি-১২ এর স্বল্পতায় ভুগতে পারেন। আর এ ভিটামিনের অভাব দেখা দিলে এর প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছেঃ হাতে পায়ে সার্বক্ষণিক ঝিনঝিনে ভাব অনুভূত হয়। এছাড়াও মানসিক বিশৃঙ্খলা এবং স্মরণশক্তিও কমে যেতে পারে বহু সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৮০০ মাইক্রোগ্রাম পরিমাণ ফোলেট গ্রহণ করলে বুদ্ধিবৃত্তির অবক্ষয়, আলজাইমার রোগ ইত্যাদি এড়ানো সম্ভব এবং পাশাপাশি মানসিক দিক দিয়ে চৌকস হওয়া যায়, তেমনি স্মৃতি শক্তিও বৃদ্ধি পায়। মনে রাখবেন, সাইট্রাস ফল, সীম, বাদান, আর কালচে সবুজ পাতাযুক্ত সবজি ফোলেটের অন্যতম উৎস। সুতরাং মস্তিষ্কের যথাযথ সুরক্ষার জন্য আপানকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ভিটামিন বি-১২ ও ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।

**************************
দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ অক্টোবর ২০০৮