স্বাস্থ্যকথা

কিডনী ও মূত্রসংবহনতন্ত্র

(Page 2 of 6)   « Prev  1  
2
  3  4  5  Next »
মূলত কিডনি ও কিডনি থেকে যেসব নালি প্রস্রাবের থলিতে চলে গেছে এবং যার মাধ্যমে প্রস্রাবের নির্গমন হয়, সেই মূত্রপথের সমন্বয়ে মূত্রতন্ত্র গঠিত। জীবাণু যদি এই তন্ত্রে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়, তাহলে সে অবস্থাকে বলা হয় মূত্রতন্ত্রের প্রদাহ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন।
সাধারণত কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কয়েকটি কারণ বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। নেফ্রোটিক সিন্ড্রম এ রোগ প্রসারের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন বা এলবুমিন বেরিয়ে যায়, তখন শরীরে পানি জমে। প্রচলিত চিকিত্সার পাশাপাশি এ রোগের রোগীদের খাবারে পানির পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হয়। কাজেই রোগীর কিডনির কার্যকারিতা ভালো রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রতি সপ্তাহে শরীরের ওজন ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপের রোগীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগে ভুগে থাকেন। প্রাথমিক অবস্থায় এর কোনো লক্ষণ থাকে না বলে রোগীরা বুঝতেই পারেন না যে, তিনি উক্ত রক্তচাপজনিত কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে এ রোগটি শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব। সাধারণত যেসব উচ্চ রক্তচাপের রোগী ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকেন, তাদের উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
আমাদের দেশে দিনে দিনে কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে ক্রনিক কিডনি রোগী ও শিশু কিডনি রোগী সর্বাধিক। এর কিছু সাধারণ কারণ হলোঃ ১. খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্য ২. বাহিরের খাবারের প্রতি আগ্রহ ও খাদ্য গ্রহণ বৃদ্ধি ৩. প্রত্যেক স্কুলের সামনে অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবার বিক্রয় ৪. ডায়াবেটিস ৫. উচ্চ রক্তচাপ ৬. শরীরে অতিরিক্ত ওজন ৭. প্রস্রাবে এলবুমিন নির্গত হওয়া ৮. কিছু কিছু ক্ষেত্রে জেনেটিক ও বংশগত কারণও দায়ী করা হয়। এর মধ্যে অনেক রোগের অন্যতম কারণ হলো নিজের প্রতি নিজের অসচেতনতা, অযত্ন। নিজেকেই নিজের যত্ন নিতে হবে। এক জন মানুষের প্রথম চিকিৎসক সে নিজেই নিজের একটুখানি সচেতনতা। তাকে অনেক রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। “কথায় বলে” preren fidr is beter then ceree অর্থাৎ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিকার ভালো।
বিশ্বজুড়ে ২৮ কোটিরও বেশি লোক ভুগছে ডায়াবেটিসে। এভাবে চলতে থাকলে ২০২৫ সালে তা ৪৪ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে অনুমান। অনেকেই জানেননা যে ডায়াবেটিসের সঙ্গে কিডনি রোগের রয়েছে ঘনিষ্ট সম্পর্ক। ব‘তঃ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লোকের এক তৃতীয়াংশের রয়েছে ডায়াবেটিস জনিত কিডনি রোগ, ডাক্তারি ভাষায় ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি। এসব বিষয় জনগণকে জানাতে হবে, জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর আচরণ না করা, স্থূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করা, এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্ত চাপের সনাক্ত করণের জন্য আগাম স্ত্র্নিনিং করা এসব কাজের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত কর্মসূচী ও উদ্যোগ। এমন অনেক লোক রয়েছেন যাঁরা জানেনইনা যে ইতিমধ্যে তাঁদের কিডনির অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে অজাে-ই। যখন তা জানাগেলো তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিডনি রোগ যদি আগাম সনাক্ত করা যায় তাহলে এড়ানো যাবে ডায়ালিসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের মত দুর্ভোগ।

স্বাস্থ্য তথ্যঃ ধূমপানে কিডনির ক্ষতি

শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই ধূমপানের সর্বগ্রাসী থাবা যেখানে আঘাত হানে না। ধূমপানের পক্ষে একটি মাত্র যুক্তিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রধান যে অসুবিধাগুলো এ বিষপানে হয় তা হলো­ ১. ব্রেন অ্যাটাক বা স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস, ২. রেটিনার রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ায় অন্ধত্ব, ৩. বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার যেমন­ মুখগহ্বর, গলা, ফুসফুস প্রভৃতির ক্যান্সার, ৪. হার্ট অ্যাটাক, ৫. গ্যাস্ট্রিক আলসার, ৬. উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডে সাত হাজার ব্যক্তির কিডনির ওপর ধূমপানের প্রভাব বিষয়ে গবেষণা হয়। এতে প্রতীয়মান হয় ধূমপায়ীদের শরীরে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ অনেক বেশি। ধূমপায়ীদের প্রস্রাবে অ্যালবুমিনও গুরুত্বপূর্ণ মাত্রায় পাওয়া গেছে। এ দু’টিই কিডনি ধ্বংসের প্রাথমিক লক্ষণ। ওই গবেষণায় এ-ও প্রমাণিত হয়েছে, ডায়াবেটিক রোগীরা ধূমপান করলে দ্রুত মাইক্রো অ্যালবুমিনো ইউরিয়া দেখা দেয়। আর এর পরিণতি কিডনি ফেইলিউর। তখন একমাত্র চিকিৎসা ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন। অবশ্য ধূমপান বন্ধ করলে দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কিডনির অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আজই ধূমপান বন্ধ করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

**************************
ডাঃ লুবনা শারমিন দৈনিক নয়াদিগন্ত, ৭ র্মাচ ২০১০।
এবারের বিশ্ব কিডনি দিবস বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে আসছে। ইন্টারন্যাশনাল নেফ্রোলজি সোসাইটি (আইএসএন) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব কিডনি ফাউন্ডেশন (আইএফকেএফ) যুক্তভাবে এ দিবসটি পালনের আয়োজন করছে।
কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়ার কারণগুলো জটিল, মাল্টিফ্যাকটোরিয়াল এবং এখনও বেশ স্পষ্ট নয়। ইউরিনারি স্টোনের উপাদান হচ্ছে কৃস্টালয়েড ও অরগানিক ম্যাট্রিক্স। মূলত ইউরিন সুপার সেজুরেটেট হলে পাথর তৈরি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এই সুপার সেজুরেসন নির্ভর করে ইউরিনের চঐ, আয়নিক স্ট্রেন্থ এবং সলুউটের ঘনত্বের ওপর। ইউরিনে কিছু স্টোন ইনহিবিটর থাকে যাদের উপস্থিতির হেরফেরের কারণে পাথর হতে পারে। সাধারণত কিডনি বা মূত্রতন্ত্রের পাথর হলে ৭৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ব্যথা নিয়ে আসতে পারে। তীব্র ব্যথা হঠাত্ করে শুরু হয় এবং এ ব্যথা মেরুদণ্ডের পাশে বক্ষ খাঁচার নিচে অনুভূত হয়। এ ব্যথা পেটের সামনের দিকেই অনুভূত হতে পারে। এ ব্যথা পাথরের অবস্থানের তারতম্যের জন্য অনুভবের স্থানেরও তারতম্য হয়। পাথর ওপর বা মধ্য ইউরেটারে থাকলে ব্যথা কিডনি বরাবর জায়গা থেকে শুরু হয়ে পেটের নিচের দিকে অনুভূত হতে থাকে। পাথর ইউরেটারের নিচের দিকে থাকলে ব্যথা অনুভূত হয় এবং এ ব্যথা পুরুষের ক্ষেত্রে টেস্টিস বা অন্ডোকোষে এবং স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে ল্যাবিয়া মোজোরাতে অনুভূত হয়। পাথর ইউরেটার ও ইউরিনারি ব্লাডারের অন্তর্বর্তী স্থানে হলে ব্যথা অনেক সময় প্রোস্টাটাইটিস, সিসটাইটিস বা ইউরেথ্রাইটিস হিসেবে ভুল হতে পারে।
প্রস্রাবে প্রদাহ যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির পর থেকে বৃদ্ধ বয়সের যেকোনো সময়। মূল উৎস হচ্ছে অপরিচ্ছন্নতা, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা, পায়ুনালী, ঘন ঘন কৃমি কর্তৃক সংক্রমণ, সহবাসের কারণে মূত্রনালীতে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। পায়ুনালী থেকেই, কোলাই নামক জীবাণু কর্তৃক শতকরা ৭০-৮০ ভাগ প্রস্রাবের প্রদাহ হয়ে থাকে। অন্যান্য জীবাণুর মধ্যে প্রোটিয়াস, ক্লেবসিনা ও সিওডোমনাসের নাম উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি স্টেফাইলোক্কাস স্কোরোফাইটিকাস নামক জীবাণু মেয়েদের ১৫ থেকে ৩০ ভাগ প্রস্রাবের কারণ।
১· শিশুদের গলাব্যথা, খোস-পাঁচড়ার দ্রুত চিকিৎসা করানো উচিত। কারণ এগুলো থেকে কিডনি প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস রোগ দেখা দিতে পারে
(Page 2 of 6)   « Prev  1  
2
  3  4  5  Next »

Categories